ঝিনাইদহে কলা গাছের আঁশ থেকে  সুতা তৈরি 
ঝিনাইদহে কলা গাছের আঁশ থেকে  সুতা তৈরি 

সংগৃহীত ছবি

ঝিনাইদহে কলা গাছের আঁশ থেকে  সুতা তৈরি 

শেখ রুহুল আমিন,ঝিনাইদহ

ঝিনাইদহের ব্র্যান্ডিং পণ্য কলা চাষ। সেই কলাগাছের আঁশ থেকে সুতা তৈরি করে এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে দুই যুবক। এতে করে কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক বাজার তৈরী সম্ভবনা দেখা দিয়েছে।  এটি সদর উপজেলার কালীচরণপুর ইউনিয়নের মান্দারবাড়িয়া গ্রামের এলাহী বিশ্বাসের ছেলে ওসমান বিশ্বাসের বাড়িতে অবস্থিত।

 গাছের আঁশ থেকে  সুতা তৈরির এই উদ্যেগের প্রথম উদ্যোক্তা পোশাক ব্যবসায়ী একেএম শাহেদুল হক শাহেদ ও দুবাই ফেরত ওসমান বিশ্বাস। এ কাজে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছেন তারা।  

সরেজমিনে প্রকল্পে গিয়ে দেখা যায়, প্রথমে কলাগাছ থেকে বাকল সংগ্রহ করে সেইগুলো পরিষ্কার করে মেশিনে দিয়ে থেতলে ফেলা হচ্ছে। তারপর পরিষ্কার পানিতে ভালো করে ধুয়ে রোদে শুকানো হচ্ছে। এরপর প্রথমে ব্লিচিং পাউডারের দ্রবণে ডুবিয়ে পানি নিংড়িয়ে আবার হাইড্রোজেন পার অক্সাইড ও সফনোর মিশ্রিত দ্রবণে ডুবিয়ে পূণরায় রোদে শুকানো হচ্ছে।  

এবার এটা মোল্ডিং মেশিনে দিয়ে প্রথমে তুলা ও পরে স্পিনিং মেশিনে দিয়ে সুতা উৎপাদন করা হচ্ছে। এই পর্যন্ত এই প্রকল্পে কয়েক মন আঁশ উৎপাদিত হয়েছে। ভারতের বাজারেও এই আঁশের চাহিদা রয়েছে বলে উদ্যোক্তা শাহেদ জানায়।  

শাহেদ আরো জানায়,এই ফাইবার খুব উন্নতমানের ও প্রাকৃতিক। ব্যাগ,জুতা,শোপিচ পণ্য,শাড়ি কাপড় তৈরিসহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। আমরা মোল্ডিং ও স্পিনিং মেশিন বসাতে পারলে আরো বেশী সুতা উৎপাদন করতে পারবো। যেহেতু আমাদের জেলায় কলার চাষ বেশি হয় তাই কাঁচামাল অপ্রতুল। এই খাতে বৈদেশিক মূদ্রা অর্জনের ব্যাপক সম্ভবনা রয়েছে।  

একজন কৃষক কলা উৎপাদনের পর কলাগাছ পশু খাদ্য হিসাবে সামান্য পরিমাণ ব্যবহার করে।  আর বাকী সব কলাগাছ ফেলে দিতে হয়। সেই ফেলে দেওয়া গাছের আঁশ থেকে সুতা উৎপাদন হলে ব্যাপক অর্থনৈতিক সম্ভাবনা এবং এই খাতে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতে পারে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।  

যেখানে কলা উৎপাদনের পর গাছ পরিষ্কারের জন্য বাড়তি খরচ করতে হয় কৃষকদের। সেখানে শাহেদ ও ওসমান ক্ষেত থেকে কলাগাছ সংগ্রহ করে নিয়ে আসছে। সেকারনে চাষীরাও  উপকৃত হচ্ছে।  

শাহেদ ও ওসমান ৮০ হাজার টাকা ব্যয়ে স্থানীয় ওয়ার্কশপ থেকে কলাগাছের বাকল থেতলে আঁশ সংগ্রহের মেশিন বানিয়ে নিয়েছে।  বৈদ্যুতিক মোটরে চলছে সেই মেশিন। ৩ জন নারী শ্রমিক সকাল ৯ টা থেকে বিকাল ৫ টা পর্যন্ত কাজ করছে। ৪ হাজার টাকা মাসিক বেতনে তারা নিয়োগ দিয়েছে। বাড়ির পাশেই স্বল্প বেতন হলেও কাজ পেয়ে খুশি তারা।  

নারী শ্রমিক অর্চনা দাস(৪০) কলাগাছ থেকে বাকল ছড়াচ্ছেন,আমেনা খাতুন (৬২) সেই বাকল মেশিনে থেতলে আঁশ বের করছেন এবং চাইনা দাস নামের আরেক নারী শ্রমিক সেই বাকল পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে রোদে শুকাচ্ছেন।  

এরপর প্রতি কেজি সুতা ১৭০ থেকে ৩০০ টাকা মূল্যে দেশের বিভিন্ন হ্যান্ডিক্রাফট কোম্পানীর কাছে বিক্রি করছে।  শাহেদ-ওসমান এই প্রকল্পে মোট ৪ লাখ টাকা মত বিনিয়োগ করেছে।  

তারা এখন ভাবছেন মোল্ডিং মেশিনের মাধ্যমে সুতা তৈরি করে বিদেশের বাজারে বিক্রি করতে। এই প্রক্রিয়ায় যেতে এই প্রকল্পে ৫০ লাখ টাকার মত বিনিয়োগ করতে হবে। তারা সেই প্রচেষ্টায় কাজ করছে।  

সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার এসএম শাহিন জানান,এটি একটি ভালো উদ্যোগ। আমরা সরেজমিনে গিয়ে প্রকল্পটি দেখে আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাবো।

news24bd.tv/আলী  

;