স্বামীর লাশের অপেক্ষায় স্ত্রী ,থানার মামলা 
স্বামীর লাশের অপেক্ষায় স্ত্রী ,থানার মামলা 

সংগৃহীত ছবি

আশুলিয়ার জুতা কারখানায় আগুন 

স্বামীর লাশের অপেক্ষায় স্ত্রী ,থানার মামলা 

নাজমুল হুদা,সাভার : 

সাভারে জুতার কারখানায় ভয়াবহ আগুনে প্রাণ হারিয়েছেন দুই নারীসহ তিন শ্রমিক। রাতেই দুইজনের মরদেহ তাদের পরিবার সনাক্ত করতে পারলেও পুড়ে অঙ্গার হওয়া পুরুষ মরদেহটির পরিচয় মেলেনি এখনও।  স্বামী নিখোঁজ রয়েছেন এমন দাবি করা কারখানাটির এক শ্রমিকও মরদেহটি সনাক্ত করতে পারেননি। বারবার স্বামীর খোঁজ করে পাগল প্রায় তিনি।

 

বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ওই মরেদেহের পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেনি আশুলিয়া থানা পুলিশ। নিহত দুইজন হলেন, টাঙ্গাইল জেলার সদর থানার সালাত পাড়া গ্রামের ইমারত হোসেনের মেয়ে সুমাইয়া আক্তার (১২)। সে কারখানার পাশে রুপায়ন মাঠ এলাকার সোহরাব হোসেনের বাড়িতে বড় ভাই মো. আরিফের ভাইয়ের সাথে থাকতেন। নিহত শাহনারা বেগম (৪৫) খুলনা জেলার পাইকগাছা থানার খড়িয়া গ্রামের আব্দুল হামিদের স্ত্রী। তিনিও রুপায়ন মাঠ এলাকার পরিবার নিয়ে মো. জুয়েলের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন।  

নিখোঁজ সুমন হাওলাদার বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ থানার পূর্ব রহমতপুর গ্রামের মৃত মুক্তার হোসেন হাওলাদারের ছেলে। স্ত্রী মনিরা আক্তারকে নিয়ে রুপায়ন মাঠ এলাকার ভাড়া বাসায় থেকে ইউনি ওয়ার্ল্ড ফুটওয়্যার কারখানায় চাকরি করতেন তিনি।

মনিরা আক্তার বলেন, ছয় মাস আগে ভালোবেসে বিয়ে করেছিলাম আমরা। আমার স্বামী ছয় মাস ধরে ওই কারখানায় কাজ করে। আমি এতদিন বাসায় ছিলাম। একমাস আগে আমিও স্বামীর সাথে একই কারখানায় চাকরি নেই। কিন্তু গতকাল হঠাৎ কারখানায় আগুন লাগলে সবাই দৌড়াদৌড়ি করে যে যার মতো পারছে বাইর হইছে। আমি ওই সময় বাইরে চইলা আসছি। কিন্তু পরে আমার স্বামীকে আর খুঁইজা পাইনি। রাতে ইউএনও স্যার আসছিলো কারখানায়। তখনও তাকে জানাইছি। পরে অনেক রাতে আশুলিয়া থানায় গিয়ে একটা পুড়ে যাওয়া লাশ আমাদের সনাক্ত করতে দিছিলো পুলিশ। কিন্তু লাশের মুখের অবস্থা দেখে তাকে চেনার উপায় নাই।

তিনি আরও বলেন, পুলিশ বলছে, আমার শ্বশুর-শাশুড়ি ও ভাইদের নিয়ে আসতে। তাদের ডিএনএ টেস্টের মাধ্যমে মরদেহের পরিচয় সনাক্ত করা যাবে। কিন্তু আমার স্বামীর বাবা মারা গেছে। তার মা আর ও এক বড় ভাই থাকেন ভারতে। সুমন যে মোবাইল ব্যবহার করতো সেটাতে তাদের নাম্বার ছিলো। এখন কি করব আমি বুঝতে পারছি না।

আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম কামরুজ্জামান বলেন, কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে হতাহতের ঘটনায় এখনও কোন মামলা দায়ের হয়নি। দুই শ্রমিক সুমাইয়া শাহনারা বেগমের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। কিন্তু পুরুষ একজনের মুখমন্ডল পুড়ে গিয়ে মাংস খসে পড়ায় তার পরিচয় জানা যায়নি। মরদেহ তিনটি রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।  

তিনি আরও বলেন, নিহতের স্বজন দাবীকারি তার স্ত্রী থানায় এসেও ওই মরদেহটি সনাক্ত করতে পারেনি। আমরা তার বাবা, মা কিংবা ভাইকে আনতে বলেছি। সেক্ষেত্রে ডিএনএ টেস্টের মাধ্যমে মরদেহটির পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যাবে। নিখোঁজ হওয়া সুমন হাওলাদারের স্ত্রী মনিরার ভাষ্যমতে তার শাশুড়ী ও ভাই ভারতে আছেন। দুর্ঘটনাস্থল থেকে বেশ কিছু আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। কেমিক্যালসদৃশ কিছু আলামতও সংগ্রহ করা হয়েছে। ল্যাবে পরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে, এগুলো দাহ্য কোনো কেমিক্যাল ছিল কি না। এই ঘটনার আশুলিয়ার থানার একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয় । অগ্নিকাণ্ডের পর কারখানার মালিক ও ম্যানেজার আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না ।  

news24bd.tv/আলী