বোরো আবাদের ‘সেচ’ বন্ধ করে দিলো তারা!
বোরো আবাদের ‘সেচ’ বন্ধ করে দিলো তারা!

সংগৃহীত ছবি

বোরো আবাদের ‘সেচ’ বন্ধ করে দিলো তারা!

পঞ্চগড় প্রতিনিধি 

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার দগরবাড়ি গ্রামে বোরো আবাদে সেঁচের মাধ্যমে পানি দেয়া বন্ধ করে দিয়েছে প্রতিপক্ষ । এ  কারণে মরে যাচ্ছে ১৫ একর জমিতে লাগানো বোরো ধানের আবাদ। দু’একদিনের মধ্যে সেচ দিতে না পারলে পুরো আবাদই নষ্ট হয়ে যাবে। ফলে এই জমির বর্গাচাষিদের ২০টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্থ হবে।

 

চাষীরা বলছেন আবাদ নষ্ট হলে প্রায় ২০ লক্ষ টাকা ক্ষতি হবে। এ ব্যাপারে পুলিশের কাছে অভিযোগ করেছেন জমির মালিকের একটি পক্ষ এবং বর্গাচাষিরা । অভিযোগ উঠেছে এ ব্যাপারে পুলিশ এবং আদালতের নির্দেশনাও মানছেন না প্রতিপক্ষ।  

জানা গেছে ,পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার দগরবাড়ি গ্রামের তীরনই হাট মৌজার ১০১ খতিয়ান ভুক্ত ২৫ একর জমি প্রায় পঞ্চাশ বছর ধরে ভোগ দখল করছেন মৃত ছালে খার ছেলে ফারুখ হোসেন সহ আরও তিন ব্যাক্তি । তাদের বাড়ির পাশেই উর্বর এই জমিগুলোতে চাষাবাদ করছেন স্থানীয় দরিদ্র বর্গচাষিরা। তারা অনেকে বন্ধক আবার অনেকে বর্গাদার হিসেবে চাষাবাদ করছেন। এ মাসের শুরুর দিকে চাষিরা এই জমিগুলোতে বোরো ধানের চারা রোপন করেন।  

কিন্তু হঠাৎ করেই গত ২০ ফেব্রুয়ারী রাতে প্রতিপক্ষ মৃত তৈয়ব আলীর ছেলে শরীফুলের নেতৃত্বে বেশ কয়েকজন সন্ত্রাসী খেতে এসে জমির মালিকানা দাবি করেন। তারা সেঁচ দেয়া বন্ধ করে দেন।  

এ নিয়ে অতিরিক্ত মেজিষ্ট্রেট আদালতে মামলা করেন প্রথম পক্ষ ফারুখ হোসেন। আদালত ঘটনা তদন্তের নির্দেশ দেন তেতুঁলিয়া থানা পুলিশকে। মামলা চলাকালীন অবস্থায় বোরো আবাদের ক্ষতি না করার নির্দেশনা দেন পুলিশ। কিন্তু আদালত এবং পুলিশের নির্দেশনা অমান্য করে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে জমি থেকে সেচ পাম্পটি নিয়ে যায় শফিকুল ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা।

এ সময় তারা সেচ পাম্পের বোডিং এর পাইপে ইট, পাথর ফেলে দেয়। ফলে বোডিংটি নষ্ট হয়ে যায়। এই অবস্থায় সংকটে পড়েছে বর্গাচাষিরা।  

তারা বলছেন, বোরো ধানের চারা পানির অভাবে মরে যেতে শুরু করেছে। এরই মধ্যে প্রতি বিঘায় তাদের ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা খরচ হয়ে গেছে। বোরো ধান ঘরে তুলতে না পারলে তারা পরিবার পরিজন নিয়ে তারা ভীষণ সংকটে পড়বে।  

বর্গচাষি রঞ্জু আলম জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে এক একর জমি বন্ধকী হিসেবে চাষবাদ করছেন। হঠাৎ করেই সেচ বন্ধ করে দেয়ার কারণে বোরো ধানের গাছগুলো মরে যেতে শুরু করেছে।  

তিনি জানান, জমির মালিকানা দ্বন্দ্ব আমরা বুঝিনা। কাগজ যার জমি তার। কিন্তু মাঝখানে আমরা বিপদে পড়েছি। এই আবাদ ঘরে তুলতে না পারলে আমাকে না খেয়ে থাকতে হবে।  

বর্গাচাষি মকছেদ আলী জানান, সারা বছর জমিয়ে ১৫ হাজার  টাকা খরচ করে বোরো আবাদ করেছি। সেচ দেয়া বন্ধ করে দিয়েছে। মাটি শুকিয়ে যাচ্ছে। বোরোর গাছগুলো মরে যাচ্ছে। এ অবস্থায় আমি দিশেহারা হয়ে পড়েছি।  তবে সেঁচে বাঁধা দেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রতিপক্ষরা।  

প্রতিপক্ষ বাসেদ আলীর ছেলে আনোয়ার হোসেন জানান, তেতুলিয়া থানা পুলিশ আমাদেরকে সেঁচের কাজে বাঁধা দিতে দেয়নি । আমরা পুলিশের নির্দেশনা মেনে জমিতে যাইনি। এই অভিযোগ মিথ্যা।  

এ ব্যাপারে তেতুলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ আবু সায়েম মিঞা জানান, আমরা পুলিশের পক্ষ থেকে উভয়পক্ষ কে শান্ত থাকার অনুরোধ জানিয়েছি। কোনক্রমেই যাতে বোরো আবাদ নষ্ট না হয় সেই নির্দেশনাও দিয়েছি। রাতের অন্ধকারে সেচ পাম্প চুরি বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি। আমরা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবো।  
news24bd.tv/আলী  

;