নিষেধাজ্ঞার মুখে পুতিন!
নিষেধাজ্ঞার মুখে পুতিন!

সংগৃহীত ছবি

নিষেধাজ্ঞার মুখে পুতিন!

নিবিড় আমীন

ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসনকে কেন্দ্র করে রাশিয়ায় একের পর এক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যাচ্ছে পশ্চিমা বিশ্ব। নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েছেন খোদ রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন ও তার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভও। পশ্চিমা নেতাদের এ সিদ্ধান্তের ফলে শেষপর্যন্ত কি আদৌ চাপের মুখে পড়বেন পুতিন? এসব সঙ্কট মোকাবেলায় কি কি প্রস্তুতি রয়েছে ক্ষমতাধর এ নেতার?

পশ্চিমা নেতাদের সকল হুমকিকে তোয়াক্কা না করে ইউক্রেনে লড়াই শুরু করেছে রাশিয়া। পাল্টা জবাবে সিরিজ নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়েছে ভ্লাদিমির পুতিনের দেশ।

শেষ পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে রুশ প্রেসিডেন্টের  ওপরেও। তবে এ সবকিছুর জন্যই রাশিয়ার ছিল পূর্ব প্রস্তুতি।

রাশিয়া ২০১৪ সালে ইউক্রেনের ক্রিমিয়া দখলের জন্য সেনা পাঠানোর পর প্রথম দফায় আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়েছিল। আর সেখান থেকেই গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা নিয়ে আন্তর্জাতিক প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে পুতিন প্রশাসন। কমিয়ে এনেছে ডলারের ওপর নির্ভরশীলতা। গড়ে তুলেছে এমন এক রুশ অর্থনীতি, যার ওপর সহসা বড়ধরনের প্রভাব পড়বেনা নিষেধাজ্ঞার।

চলতি বছরের প্রথম মাসেই রুশ সরকারের আন্তর্জাতিক রিজার্ভের পরিমাণ পৌঁছে গেছে রেকর্ড পর্যায়ে। প্রায় ৬৩ হাজার কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে বৈদেশিক মুদ্রা এবং স্বর্ণের এই রিজার্ভের পরিমাণ। বিশ্বের সব দেশের তুলনায় এই রিজার্ভ চতুর্থ বৃহত্তম।

রাশিয়ার অর্থনৈতিক কাঠামোতেও এসেছে বড়ধরনের পরিবর্তন। এরইমধ্যে পশ্চিমা বাজারের বাইরে চীনের সঙ্গে বাণিজ্যের সুযোগ সম্ভাবনাও যাচাই করে দেখেছেন পুতিন প্রশাসন। রুশ অর্থনৈতিক খাতকে পঙ্গু করে দিতে একাধিক রুশ ব্যাঙ্ককে বিশ্বের প্রধান আর্থিক লেনদেনকারী পরিষেবা সুইফট থেকে বাদ দিতে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং তাদের মিত্ররা। আর এই সংকটকে কাটিয়ে উঠতেই আগে থেকেই সেসব পদক্ষেপ নিয়ে রেখেছিলো মস্কো।

অন্যদিকে পুতিন ও রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের সম্পদ জব্দের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইইউ। আলাপের পথ খোলা রাখতে এখনই তাদের ওপর জারি হয়নি ভ্রমন নিষেধাজ্ঞা। তবে কোনো কোনো বিশেষজ্ঞ মনে করেন, পুতিনের ব্যাক্তিগত সম্পদ রাখা আছে তৃতীয় পক্ষের হাতে। ফলে ব্যাক্তিগত নিষেধাজ্ঞা দিলেও এতে পুতিনের ওপর তেমন প্রভাব পড়বেনা।

তবে এখনই নেতিবাচক প্রভাব না পড়লেও, দীর্ঘমেয়াদে এসব নিষেধাজ্ঞা রাশিয়ার জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে বলে জানিয়েছেন লন্ডনভিত্তিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান টিএস লম্বার্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টোফার গ্রানভিল। যুদ্ধে জড়ানোর সিদ্ধান্ত দেশটিকে বৈশ্বিক অর্থনীতি, বাজার ও বিনিয়োগ খাতে বিচ্ছিন্ন দেশে পরিণত করার ঝুঁকি তৈরি করবে বলেই মন্তব্য করেছেন তিনি। এছাড়াও অনেকে বলছেন, রুশ জ্বালানি কোম্পানিগুলো বিদেশি বিনিয়োগ সীমিত হয়ে এলে মূলধন সংকটে পড়তে পারে। সেসাথে যুক্ত হতে পারে অভ্যন্তরীন বাজারে পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি। শেষ পর্যন্ত কিভাবে সংকট কাটিয়ে উঠে ক্ষমতাধর দেশটি, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

news24bd.tv/এমি-জান্নাত