শাপলাপাতা মাছে বাজার সয়লাব মোংলায়
শাপলাপাতা মাছে বাজার সয়লাব মোংলায়

শাপলাপাতা মাছে বাজার সয়লাব মোংলায়

শেখ আহসানুল করিম, বাগেরহাট

‌‘শাপলাপাতা মাছ কেজি ৪০০ টাকা, কেজি ৪০০ টাকা, তাজা শাপলাপাতা মাছ ৪০০ টাকা, খাইলে আবার আসবেন ৪০০ কেজি শাপলাপাতা মাছ’।

এভাবেই বাগেরহাটের মোংলা পৌরসভার প্রধান মাছ বাজারে ডাকচিৎকার করে প্রকাশ্যে বেচাকেনা হচ্ছে মহাবিপন্ন প্রজাতির শাপলা পাতা মাছ।

বঙ্গোপসাগর ও সুন্দরবনের বিভিন্ন নদ নদীতে এই মাছ আহরণ-মজুদ ও বিক্রি নিষিদ্ধ থাকলেও বৃৃহস্পতিবার (১০ মার্চ) দুপুরেও এই মাছ মোংলা প্রধান মাছ বাজারে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

এই মাছ আহরণ-মজুদ ও বিক্রি আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ হলেও স্থানীয় প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ, সুন্দরবন বিভাগসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী নিরব থাকায় প্রতিদিন বিক্রির জন্য বাজারে আসছে শাপলা পাতা।

শাপলাপাতা মাছের বৈজ্ঞানিক নাম ‘ষ্টিংরে ফিস’। ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচার (আইইউসিএন) এর তালিকায় শাপলাপাতা মাছকে মহবিপন্ন প্রজাতি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বাংলাদেশের বণ্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন ২০১২ সালের আইনানুযায়ী দেশে শাপলাপাতা মাছ শিকার আহরণ-মজুদ ও বিক্রি নিষিদ্ধ।

তবে, প্রচারের অভাবে অধিকাংশ ক্রেতা শাপলাপাতা মাছ নিষিদ্ধের বিষয়টি না জানা থাকার কারণে বিক্রেতাদের হাকডাক শুনে ক্রেতারাও হুমরি খেয়ে কিনছেন।

মোংলা পোর্ট পৌরসভা মৎস্য ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি মো. আফজাল ফরাজি ও সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল হালিম বলেন, প্রায় প্রতিদিনই বঙ্গোপসাগর ও সুন্দরবনে নদ নদীতে জেলেদের জালে ধরাপড়া শাপলাপাতা মাছ বাজারে আনছেন।

এই মাছ ধরা, মজুদ বা বিক্রি যে নিষিদ্ধ তা আমরা জানি না, আমাদের কেউ বলেনি। আমাদের না জানালে কী করে বন্ধ হবে শাপলাপাতা মাছ বিক্রি ?

মৎস্য ব্যবসায়ী সোলায়মানের দাবি, কোস্টগার্ড ও সুন্দরবন বিভাগের লোকজনই তাদের শাপলাপাতা মাছ বাজারে আনার সহায়তা করেন। তারা নিষেধ করলেতো আর এই মাছ বাজারে ওঠানো সম্ভব না।

অন্য এক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের বিএম (বোটম্যান) মিজানুর রহমান মাছ বিক্রিতাদের কাছ থেকে কয়েক দফা টাকা নিয়েছেন।

তবে, মাছ ব্যবসায়ীরা তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে দাবি করেছেন বোটম্যান মিজান।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ এন্ড মেরিন রিসোর্স টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের প্রধান অধ্যাপক ড. মো. আব্দুর রউফ বলেন, বঙ্গোপসাগর বা সুন্দরবনের নদ নদীতে দিনের পর দিন এভাবে নিধন চলতে থাকলে একসময় এই শাপলাপাতা মাছ পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়ে যাবে। কোস্টগার্ড, মৎস্য বিভাগ ও সুন্দরবন বিভাগের কর্তা ব্যক্তিদের উদাসীনতার কারণেই এমন শিকার হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই অবৈধ শিকার বন্ধ না করা হলে সাগরসহ সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য বাধাগ্রস্থ হবে। শাপলাপাতা মাছ নিধন ঠেকাতে সংশ্লিষ্টদের এগিয়ে আসতে হবে।

খুলনা সার্কেলের বন সংরক্ষক (সিএফ) মিহির কুমার দো বলেন, প্রচার প্রচারণার কম হওয়ার কারনে অনেকেই জানে না এই শাপলাপাতা মাছ শিকার নিষিদ্ধ। সুন্দরবন বিভাগ থেকে প্রচার প্রচারণা চালানো হচ্ছে।

মঙ্গলবার (৮মার্চ) বিকেলে বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবন বিভাগ জেলার প্রধান মৎস্য অবতরন কেন্দ্র কেবি ফিসারীঘাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২৭০ কেজি ওজনের বড় আকারের ৪টি শাপলাপাতা মাছসহ জাফর সরদার (৪৫) নামে মাছ ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে।

জাফর সরদারের কাছে মাছ বিক্রির অপরাধে খুলনা মহানগরের রূপনা পাইকারী মাছ বাজারের দুই আড়তদার মেসাার্স আমিনিয়া ও আজমীর ফিস ট্রেডার্সের দুই মালিক হাজী মো. মাহবুব মোড়ল ও শহিদুল ইসলাম ভূঁইয়াকেও মামলায় আসামি করা হয়েছে। বোটম্যান মিজানুর রহমানের বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।

news24bd.tv তৌহিদ

;

পাঠকপ্রিয়