দেশ ছাড়তে মরিয়া লাখ লাখ ইউক্রেনীয় 

দেশ ছাড়তে মরিয়া লাখ লাখ ইউক্রেনীয় 

চন্দ্রানী চন্দ্রা

ইউক্রেনের পূর্ব এবং দক্ষিণে, সেইসাথে রাজধানী কিয়েভের আশেপাশের অঞ্চলগুলিতে রাশিয়ান আক্রমণের দিকে মনোযোগ বিশ্বের। এরই মধ্যে মাতৃভূমি ছেড়ে শরণার্থী হয়েছেন ২৫ লাখ ইউক্রেনীয়। তারা প্রতিবেশি বিভিন্ন রাষ্ট্রে আশ্রয় নিয়েছে। রুশ এই সামরিক অভিযান দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপে সবচেয়ে দ্রুততম শরণার্থী সংকট সৃষ্টি করেছে বলে জানিয়েছে ইউএনএইচসিআর।

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের প্রাণকেন্দ্রে একটি আবাসিক ভবনে গোলাবর্ষন তাতে ধসে পড়ে ৯ তলা ভবন। এরপরও ব্যাপকভাবে চলছে রুশবাহিনীর গুলিবর্ষন।

প্রতিদিনই ব্যাপক বোমা হামলার মুখোমুখি হচ্ছেন জাইতোমির অঞ্চলের  বাসিন্দারা। এতে  ঘরবাড়ি হারিয়ে বাস্তুহারা অনেকে। আক্রমণের প্রথম দুই সপ্তাহে, রাশিয়ানরা ৪০ টিরও বেশি রকেট এবং বিমান হামলা চালিয়েছে জাইতোমির আশেপাশের শহর ও গ্রামে। সেনা ও বেসামরিক উভয়েরই কয়েক ডজন লোক নিহত হয়েছে। তারা ভাবছে রাশিয়া ইউক্রেনের এই অংশে এত প্রচণ্ড আক্রমণ করছে?

অনেক জায়গায় ছাদ ঘরবাড়ী ভেঙে গেছে । উঠানে শুয়ে অনেক মৃত মানুষ। কোনদিকে যাবো বুঝছিনা।

রাশিয়ান বাহিনী ইউক্রেনের বেশ কয়েকটি শহরে ক্রমাগত ধ্বংসাত্মক বোমা হামলা চালাচ্ছে। ৪৪ লাখ লোকের বাস মারিউপোল বন্দরের জায়গাগুলো বিদ্যুৎ পানিহীন অবস্থায় রয়েছেন কয়েক হাজার মানুষ।

কয়েকদিন ধরে মারিউপোলের দোকানের কাছে ফুটপাতে লাশ পড়ে থাকতে দেখেছি। স্থানীয়রা তাদের কার্পেট দিয়ে ঢেকে দিয়েছে এবং তারা সেখানে শুয়ে আছে।

রুশ সামরিক অভিযানের মুখে দেশ ছাড়তে মরিয়া লাখ লাখ ইউক্রেনীয়। ইউক্রেন সীমান্তে শত শত শরণার্থী দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করছে মলদোভায় প্রবেশের জন্য। ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস ২৬ ফারেনহাইট হিমাঙ্কের তাপমাত্রায় ছোট বাচ্চা এবং নারীদের সাথে হুইলচেয়ারে চলা বৃদ্ধরাও সীমান্ত অতিক্রম করছে।

পূর্ব ইউক্রেনের দোনাস্ক অঞ্চলের মারিউপোল এবং আশেপাশের এলাকা থেকে উদ্বাস্তুদের স্বঘোষিত দোনেস্কস পিপলস রিপাবলিকদের সরিয়ে নেয় রাশিয়া-সমর্থিত বাহিনী । হামলা চালালেও ইউক্রেনের দনবাস থেকে আসা শরণার্থীদের জন্য আড়াইশোর বেশি অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র স্থাপন করেছে রাশিয়াও।  

রুশ অভিযান শুরুর পর এ পর্যন্ত প্রায় ২৫ লাখ মানুষ ইউক্রেন ছেড়েছে। সবার চোখে মুখে একটাই প্রত্যাশা, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে কবে?
news24bd.tv/আলী   

;