‘যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক আর্থিক সংকট হবে না’
‘যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক আর্থিক সংকট হবে না’

‘যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক আর্থিক সংকট হবে না’

অনলাইন ডেস্ক

ইউক্রেনের ওপর রাশিয়ার আগ্রাসনের কারণে রুশ অর্থনীতির ওপর নানা ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে পশ্চিমা দেশগুলো। এ কারণে রাশিয়ার হয়তো ঋণ পরিশোধে কিছু সময় লাগবে, তবে তা পরিশোধ অসম্ভব হবে না। আবার এর কারণে বৈশ্বিক কোনো অর্থনৈতিক সংকটও তৈরি হবে না বলে মনে করছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)।

আইএমএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিভা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য দেশের নিষেধাজ্ঞার প্রভাব এরই মধ্যে রাশিয়ার অর্থনীতিতে পড়তে শুরু করেছে।

এতে চলতি বছর গভীর মন্দার মুখোমুখি হতে পারে রাশিয়া।

অন্যদিকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে খাদ্য ও জ্বালানির দাম বাড়তে শুরু করেছে, যা আফ্রিকায় খাদ্যমন্দা সৃষ্টি করতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।

এক সাক্ষাৎকারে জর্জিভা বলেন, ঋণ পরিশোধ করা রাশিয়ার জন্য অসম্ভব বলে আমি মনে করি না। ঋণ পরিশোধের জন্য যথেষ্ট অর্থ রাশিয়ার কাছে আছে। কিন্তু পরিশোধের উপায় আপাতত নেই।

গত সপ্তাহে বিশ্বব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ কারম্যান রেইনহার্ট সতর্ক করে বলেন, রাশিয়া ও তার ঘনিষ্ঠ মিত্র ঋণ পরিশোধে অসমর্থ হওয়ার পথে রয়েছে।

তবে রাশিয়ার এ ঋণ পরিশোধে অসমর্থতা বিশ্বের অর্থনীতিতে কোনো সংকট সৃষ্টি করবে না বলেই এখন পর্যন্ত মনে করছেন ক্রিস্টালিনা জর্জিভা। যুদ্ধের কারণে বিশ্বের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির যে পূর্বাভাস আইএমএফ করেছিল, সেখান থেকে সরে এসেছে সংস্থাটি। ২০২২ সালের জন্য ৪ দশমিক ৪ শতাংশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।

চলতি সপ্তাহেই রাশিয়া বলেছে, বিভিন্ন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার পরিপ্রেক্ষিতে চীনকে তারা সহায়তাকারী বন্ধু হিসেবে বিবেচনা করছে। যদিও রাশিয়াকে কোনো ধরনের সহায়তা না দিতে বেইজিংকে সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

রাশিয়ার অর্থমন্ত্রী অ্যান্টন সিলুয়ানভ জানান, স্বর্ণ ও বৈদেশিক রিজার্ভে তাদের যে ৬৪ হাজার কোটি ডলার রয়েছে তার প্রায় অর্ধেকেরই নিয়ন্ত্রণ নিতে পারছেন না তারা। তবে চীনের মুদ্রায় এখনো কিছু বৈদেশিক রিজার্ভ তাদের হাতে রয়েছে।

তিনি বলেন, আমাদের যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও সম্পর্ক রয়েছে, তা বজায় রাখায় পশ্চিমা দেশগুলো চীনের ওপর যে চাপ প্রয়োগ করছে, সেটি আমরা বুঝতে পারছি। এটাও বুঝতে পারছি যে বৈদেশিক রিজার্ভের ওপর আমাদের নিয়ন্ত্রণ খর্ব করতেও চাপ দেওয়া হচ্ছে।

দুটি ঋণ পরিশোধের জন্য ১৬ মার্চ দিন নির্ধারিত ছিল। কিন্তু কুপন পেমেন্টের জন্য ৩০ দিনের গ্রেস পিরিয়ড পাবে রাশিয়া।

এ বিষয়ে সিলুয়ানভ বলেন, যতদিন পর্যন্ত বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আটকে থাকবে ততদিন সভেরিন ঋণ পরিশোধের জন্য রুবল ব্যবহার করাই হবে ন্যায্য।

ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যকার এ যুদ্ধ প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর বাড়তি সমস্যার বোঝা চাপিয়ে দেবে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেন আইএমএফের প্রধান।

তিনি বলেন, আশপাশের দেশগুলোর সঙ্গে বিবাদমান দেশগুলোর গভীর বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। তাছাড়া যুদ্ধ শুরুর পর বিপুলসংখ্যক মানুষ ইউক্রেন ছেড়ে পালিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর প্রথমবারের মতো এত বড় শরাণার্থী সমস্যার মোকাবেলা করতে হচ্ছে ইউরোপকে।

জর্জিয়া বলেন, ইউক্রেন যুদ্ধ আফ্রিকায় খাদ্য সংকট সৃষ্টি করতে পারে। কিন্তু কেবল খাদ্য সংকটই নয়, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ আশেপাশের অনেক দেশের আর্থসামাজিক খাতে প্রভাব ফেলবে।

news24bd.tv তৌহিদ