দাপুটে জয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে টাইগারদের ইতিহাস
দাপুটে জয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে টাইগারদের ইতিহাস

সংগৃহীত ছবি

দাপুটে জয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে টাইগারদের ইতিহাস

অনলাইন ডেস্ক

নতুন ইতিহাস গড়ে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে যে কোন ফরমেটে প্রথম জয়ের স্বাদ পেল বাংলাদেশ। তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের প্রথমটিতে ৩৮ রানের জয় পায় টাইগাররা।

টস হেরে ব্যাট করতে নামা তামিম ইকবালরা ৭ উইকেটে ৩১৪ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর ছুড়ে দেয় স্বাগতিকদের সামনে। জবাবে প্রোটিয়ারা গুটিয়ে যায়  ২৭৬ রানে।

আর ম্যাচ সেরা হয়ে সব সমালোচনার জবাব দেন সাকিব আল হাসান।

সেঞ্চুরিয়ানের ছোট্ট মাঠে তিনশোর বেশি রান চেস করা দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে মামুলি ব্যাপার। এর আগেও বহুবার প্রতিপক্ষের দেওয়া বড় লক্ষ্য তাড়া করে ম্যাচ জিতেছে সাউথ আফ্রিকা। কিন্তু এবারের চিত্রটা একেবারেই ভিন্ন।

বাংলাদেশী বোলারদের সামনে জয় তো দূরের কথা লড়াইটাও জমিয়ে তুলতে পারেনি প্রটিয়ারা।

বাংলাদেশের দেওয়া ৩১৫ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে শরিফুলের ধাক্কায় প্রথম উইকেটের পতন হয় প্রটিয়াদের। স্কোর বোর্ডে তাদের রান তখন মাত্র ১৮। বিদায় নেন ওপেনার মালান।

এর কিছুক্ষণ পরেই আরেক ব্যাটসম্যান কাইল ভেরেইনকে এলবির ফাঁদে ফেলে বিদায় জানান তাসকিন। দক্ষিণ আফ্রিকা পরিণত হয় ২ উইকেটে ৩৬ রানে। পরের বলেই আবারও শিকার ধরেন তাসকিন আহমেদ। মেহেদি মিরাজের হাতে বন্দি হয়ে শূন্যরানে মাঠ ছাড়েন দক্ষিণ আফ্রিকান ড্যাসিং ব্যাটসম্যান মাক্রাম।  

এর পরেই টাইগারদের হাতশ করে প্রটিয়ান দুই ব্যাটসম্যান বাভুমা ও দুসান। দু'জন মিলে গড়ে তোলেন ৮৫ রানের জুটি। কিন্তু সেই হতাশা কাটিয়ে শরিফুল আবারও প্রতিপক্ষ শিবিরে আঘাত হানে। পেস ও সুইয়িংয়ে বেশামাল হয়ে মুশফিকের হাতে ক্যাচ দেন বাভুমা। ১২১ রানে চার উইকেট নেই দক্ষিণ আফ্রিকার।  

তবে হাল ধরেন দুসন। কিন্তু সেই সুযোগ দেননি তাসকিন। দলীয় ১৯১ রানে টাইগার এই পেসারের বলে অবিশ্বাস্য ক্যাচ নেন ইয়াসির। তাতেই বিদায় নেন ম্যাচের সর্বোচ্চ ৮৬ রান করা দুসন।

প্রথম স্পেলে ৪ ওভারে ৩৮ রান দিলেও নতুন আত্মবিশ্বাসের উদ্দোমে ফেরেন মিরজ। ব্যাট হাতে ডেভিট মিলার আন্দিলেকে সাথে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও মিরাজের ঘুর্ণিতে নাজেহাল হয়ে মাঠ ছাড়েন আন্দিলে। এই স্পিনারে বলেই তামিমের  হাতে বন্দি হন মার্কো জ্যানসন।

রাবাদাকেও প্যাভিলিয়নের পথ দেখান মিরাজ। তবে অন্য প্রান্তে ব্যাট হাতে বিধ্বংসী ওয়ে ওঠা মিলারও ৭৯ তে দাড়িয়ে  আত্মসমার্পণ করেন মিরাজের বলেই। শেষ দিকে ঝড় তোলা মহারাজকে নিয়ে টাইগারদের জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন রিয়াদ। তাতে প্রটিয়ারা থামে ২৭৬ রানে।

বেশ কিছুদিন পর দারুণ সূচনা পায় বাংলাদেশ। ওপেনিং জুটিতে আসে ৯৫ রান। তামিম ৪১ এ ফিরলেও লিটন আদায় করে নেন ক্যারিয়ারের চতুর্থ ফিফটি।

বল হাতে অবদান রাখতে না পারলেও নানা কারণে সমালোচিত ম্যাচ সেরা সাকিব আল হাসান খেলেছেন ৭৭ রানের বিধ্বংসী ইনিংস। ৬৬ বলে ৭ চার ও তিন ছক্কায় তুলে নিয়েছেন ক্যারিয়ার ৫০তম হাফ-সেঞ্চুরি।

দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলা ইয়াসির রাব্বি দেখা পেয়েছেন ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম হাফ সেঞ্চুরির। ৪৪ বলে চার বাউন্ডারি আর দুই ছয়ে ৫০ রানের ইনিংস খেলেন এই ব্যাটার। আর শেষ দিকে মিরাজের ১৯ ও মাহমুদউল্লার ২৫ রানের ঝড়ো ইনিংসে ৭ উইকেটে ৩১৪ রানে জয় পায় বাংলাদেশ।  

লড়াইটা শুরু হয়েছিল ২০ বছর আগে। নিজেদের মাটিতে কিছুতেই বশ মানছিল না দক্ষিণ আফ্রিকা। এর আগে তাদের বিপক্ষে দেশের মাটিতে ওয়ানডে সিরিজ জয় এমনকী গত ওয়ানডে বিশ্বকাপেও জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। কিন্তু না পাওয়ার হাহাকার থেকেই যাচ্ছিল। সেই হতাশা এবার ঘুচল। সিংহের আবাসস্থল দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে স্বাগতিকদের বিপক্ষে দাপুটে জয়ে ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ।

news24bd.tv রিমু