যারা মুমিন হিসেবে গণ্য হবে না
যারা মুমিন হিসেবে গণ্য হবে না

প্রতীকী ছবি

যারা মুমিন হিসেবে গণ্য হবে না

মুফতি আতাউর রহমান   

স্রষ্টা ও প্রতিপালক হিসেবে মহান আল্লাহর অস্তিত্বে বিশ্বাস স্থাপন করার পরও একশ্রেণির মানুষ মুমিন হিসেবে গণ্য হয় না। তাদের ঈমান গ্রহণযোগ্য না হওয়ার প্রধান কারণ হলো বিশ্বজগতের এক ও অদ্বিতীয় স্রষ্টা হিসেবে তারা এক আল্লাহর ইবাদত করে না। ইবাদতের ক্ষেত্রে তারা অন্যদের আল্লাহর সঙ্গে শরিক করে। পবিত্র কোরআনে এই শ্রেণির মানুষকে ঈমানের আহ্বান করা হয়েছে।

ইরশাদ হয়েছে, ‘বলুন! কে তোমাদের আকাশ ও পৃথিবী থেকে জীবনোপকরণ সরবরাহ করে অথবা শ্রবণ ও দৃষ্টিশক্তি কার কর্তৃত্বাধীন, জীবিতকে মৃত থেকে কে বের করে এবং মৃতকে জীবিত থেকে কে বের করে এবং সব বিষয় কে নিয়ন্ত্রণ করে? তখন তারা বলবে, আল্লাহ। বলুন! তবু কি তোমরা সাবধান হবে না? তিনি আল্লাহ, তোমাদের সত্য প্রতিপালক। সত্য ত্যাগ করার পর বিভ্রান্তি ছাড়া আর কী থাকে? সুতরাং তোমরা কোথায় চালিত হচ্ছো? (সুরা ইউনুস, আয়াত : ৩১-৩২)

কিতাবধারী জাতি তথা ইহুদি ও খ্রিস্টানদের ঈমান গ্রহণযোগ্য না হওয়ারও এটি একটি কারণ। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘ইহুদিরা বলে, উজাইর আল্লাহর পুত্র এবং খ্রিস্টানরা বলে, মসিহ আল্লাহর পুত্র। তা তাদের মুখের কথা। আগে যারা কুফরি করেছিল তারা তাদের মতো কথা বলে। আল্লাহ তাদের ধ্বংস করুন। আর কোন দিকে তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তারা আল্লাহ ছাড়া তাদের পণ্ডিতদের ও সংসার বিরাগীদের তাদের প্রভুরূপে গ্রহণ করেছে এবং মারিয়ামের পুত্র মাসিহকেও। কিন্তু তারা এক ইলাহের ইবাদত করার জন্যই আদিষ্ট হয়েছিল। তিনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। তারা যাকে শরিক করে তা থেকে তিনি কত পবিত্র। ’ (সুরা তাওবা, আয়াত : ৩০-৩১)

আল্লাহ ছাড়া যাদের ইবাদতের ক্ষেত্রে শরিক করা হয়, তাদের অক্ষমতা ও অসারতার নানা দিক কোরআনে বর্ণিত হয়েছে, ‘আর তারা তাঁর পরিবর্তে ইলাহরূপে গ্রহণ করেছে অন্যদের, যারা কিছুই সৃষ্টি করে না; বরং তারা নিজেরাই সৃষ্ট এবং তারা নিজেদের অপকার বা উপকার করার ক্ষমতা রাখে না এবং মৃত্যু, জীবন ও উত্থানের ওপরও কোনো ক্ষমতা রাখে না। ’ (সুরা ফোরকান, আয়াত : ৩)

অবশ্য যারা আল্লাহর অস্তিত্বে বিশ্বাস করার পরও ইবাদতে অন্যদের শরিক করে। তাদের অপরাধ শুধু শিরকে সীমাবদ্ধ নয়। তারা আরো বহুভাবে আল্লাহর অবাধ্যতায় লিপ্ত। ইরশাদ হয়েছে, ‘যাদের প্রতি কিতাব অবতীর্ণ হয়েছে তাদের মধ্যে যারা আল্লাহতে ঈমান আনে না, শেষদিনেও না এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসুল যা হারাম করেছেন তা হারাম গণ্য করে না এবং সত্য দ্বিন অনুসরণ করে না। ’ (সুরা তাওবা, আয়াত : ২৯)

news24bd.tv রিমু