রাস্তা নেই তবুও নির্মাণ করা হচ্ছে  তৃতীয় ব্রিজ!
রাস্তা নেই তবুও নির্মাণ করা হচ্ছে  তৃতীয় ব্রিজ!

সংগৃহীত ছবি

রাস্তা নেই তবুও নির্মাণ করা হচ্ছে  তৃতীয় ব্রিজ!

নাটোর প্রতিনিধি 

নাটোরের বড়াইগ্রামে মাত্র আধা কিলোমিটারের মধ্যে দুটি ব্রিজ থাকা স্বত্ত্বেও প্রায় ৪২ লাখ টাকা ব্যয়ে তৃতীয় আরেকটি ব্রিজ নির্মাণ কাজ চলছে। অথচ নির্মাণাধীন ব্রিজের উভয় পাশে চলাচলের কোন রাস্তা নেই। উপজেলার জোয়াড়ী বাজার সংলগ্ন জোয়াড়ী ও নটাবাড়িয়া মন্ডলপাড়ার মধ্যবর্তি বড়াল নদীতে বিপুল টাকা ব্যয়ে এমন অপ্রয়োজনীয় ও অপরিকল্পিত ব্রিজ নির্মাণে বিস্ময় প্রকাশের পাশাপাশি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন স্থানীয়রা।  

তারা অপ্রয়োজনীয় ব্রিজ নির্মাণ বন্ধের জন্য বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের রাজশাহী প্রধান কার্যালয়ের নির্বাহী পরিচালক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন।

 

সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা যায়, বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের বড়াইগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয়ের অধীনে জোয়াড়ী এলাকায় ৫০ ফুট দীর্ঘ একটি ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রায় ৪২ লাখ টাকা ব্যয় বরাদ্দে নওগাঁর ঠিকাদার মসলেম উদ্দিন ব্রিজটি নির্মাণ কাজ করছেন।  

মঙ্গলবার সরেজিমনে গিয়ে দেখা যায়, ইতিমধ্যে ব্রিজটির বেইজ নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। এক পাশে কিছু ইট, পাথর, বালি ও সিমেন্ট জড়ো করে রাখা হয়েছে। নির্মাণাধীন ব্রিজের উত্তরাংশে পায়ে হাঁটা একটি সরু রাস্তা থাকলেও দক্ষিণাংশে কোন রাস্তার অস্তিত্ব নেই। এ পাশে প্রায় ৮০ বিঘা জমিতে অর্ধশত বছরের পুরনো আম বাগানসহ নদীর তীর ঘেঁষে কলাবাগান ও কয়েকটি পরিবারের বসত বাড়ি রয়েছে। অথচ এমন রাস্তাবিহীন স্থানে চলছে ব্রিজ নির্মাণ কাজ।  

এ ব্যাপারে স্থানীয় বাসিন্দা রহমত আলী জানান, যেখানে ব্রিজ নির্মাণ করা হচ্ছে, তার উভয় পাশে মাত্র আড়াই শ’ মিটার দুরে জনসাধারণের চলাচলের জন্য দুটি ব্রিজ রয়েছে। অথচ এখানে কোন রাস্তা না থাকা স্বত্ত্বে ও সরকারী টাকা ব্যয় করে অপ্রয়োজনে আরেকটি ব্রিজ নির্মাণ করার কোন দরকার নেই।  

নটাবাড়িয়া গ্রামের কৃষক রবিউল করিম বলেন, জনসাধারণের চলাচলের জন্য পাশাপাশি দুটি ব্রিজ থাকার পরও অপরিকল্পিত ভাবে রাস্তাবিহীন আরেকটি ব্রিজ নির্মাণ করা হচ্ছে। এখানে ব্যক্তি মালিকানাধীন জমিতে কেউ রাস্তাও দেবে না। ফলে এ ব্রিজ নির্মাণ সরকারী টাকার অপচয় ছাড়া কিছুই না।  

এ ব্যাপারে বরেন্দ্র উন্নয়ন বহুমুখী কর্তৃপক্ষের বড়াইগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয়ের সহকারী প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ বলেন, নদীর দক্ষিণ পাশে রাস্তা না থাকলেও উত্তর পাশে রয়েছে। জনগণের স্বার্থেই ব্রিজটি নির্মাণ করতে চেয়েছিলাম, তবে তারা না চাইলে করবো না।  

news24bd.tv/আলী