পঞ্চগড়ে ‘বারুণী স্নান উৎসবে’ লাখো হিন্দু ধর্মালম্বী 
পঞ্চগড়ে ‘বারুণী স্নান উৎসবে’ লাখো হিন্দু ধর্মালম্বী 

সংগৃহীত ছবি

পঞ্চগড়ে ‘বারুণী স্নান উৎসবে’ লাখো হিন্দু ধর্মালম্বী 

সরকার হায়দার, পঞ্চগড়

মধুকৃষ্ণের ত্রয়োদশ তিথি উপলক্ষ্যে পঞ্চগড়ের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া করতোয়া নদীর উত্তরমুখী স্রোতে সনাতন ধর্মালম্বীদের পুণ্য স্নান উৎসব শুরু হয়েছে। বোদা উপজেলার বোয়ালমারী এলাকায় বুধবার সকাল থেকে ‘বারুণী স্নান উৎসব’ নামে এই উৎসব শুরু হয়। দেশের নানা প্রান্ত থেকে লাখো হিন্দু ধর্মালম্বী যোগ দিয়েছে বলে জানা গেছে।  

নিজেকে পাপ মুক্ত করতে, স্বর্গীয় পিতা মাতা, আত্মীয় স্বজনের মঙ্গল কামনায় এ উপলক্ষ্যে নদীর দুই পাড়ে বসেছে মেলা।

করোনা সংকটের কারণে গত দুবছর এই মেলা আয়োজন বন্ধ ছিলো। প্রতিবছরের মতো এবারো বোদা উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় গঙ্গা মন্দির কমিটি, এই  বারুণী স্নান উৎসব মেলার আয়োজন করে। স্নান উপলক্ষ্যে এখানে ৭ দিন বারুনী মেলাও শুরু হয়েছে। সবার বিনোদনের জন্য মেলায় যাত্রা, সার্কাস, মোটরসাইকেল খেলার পাশাপাশি নিত্য প্রয়োজনীয় নানা জিনিসপত্র বেচাকেনা চলবে।  

স্থানীয়রা বলছেন, তিনশ বছর ধরে করতোয়া নদীর উত্তর স্রোতে মধুকৃষ্ণ ত্রয়োদশী তিথি উপলক্ষ্যে স্নানোৎসব পালন করে আসছে সনাতন ধর্মালম্বীরা। এখানে স্নান করে দেহ-মনকে পরিশুদ্ধ করতে অনেকে মাথার চুল বিসর্জন দেন, পূজা অর্চনা করেন। তারপর তারা স্নানমন্ত্র পাঠ করে হাতে বেল পাতা, ফুল, ধান, দূর্বাঘাস, হরিতকী, কাঁচা আম, ডাব, কলা ইত্যাদি অর্পণের মাধ্যমে স্নান সম্পন্ন করেন।   হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মতে, যে স্থানে নদীর প্রবাহ সোজা উত্তরমুখী সেই স্থানে স্নান করা পুণ্যের কাজ। তাদের ধর্মীয় বিধান মতে, জীবন মরনে স্নান হলো হিন্দুদের এক অখণ্ড মহামন্ত্র। স্নানের পবিত্র ধারায় দেহ ও মনকে ধন্য করা এক আত্মীক সাধনা।  

করতোয়া নদীর এই স্থানে প্রায় ১ কিলোমিটার পর্যন্ত উত্তরমুখী স্রোত প্রবাহিত হয়। সূর্য ওঠার আগেই পুণ্যার্থীরা পবিত্র হওয়ার জন্য মাথার চুল বিসর্জন ও পূজা অর্চনা করেন। এরপর করতোয়া নদীর উত্তরমুখী স্রোতে স্নান করেন। দেশের বিভিন্ন এলাকার কয়েক লাখ পূজারী ও নর সুন্দররাও (নাপিত) এখানে আসেন।

নীলফামারী জেলার কিশোরগঞ্জ এলাকার নিলিমা বালা জানান, পরিবারের সবাই এসেছেন পুণ্যস্নান করতে । তিনি জানান, এখানে স্নান করলে মন পরিশুদ্ধ হয়। স্নান করে পিতামাতার জন্য প্রার্থনা করেছি।  মেলায় আসা তেঁতুলিয়ার গিতালগছ গ্রামের লক্ষণ চন্দ্র মালাকার জানান, গত দুই বছর করোনার কারণে পুণ্যস্নান করতে পারিনি। এবার পরিবারের সবাই এসেছি। পুজো, প্রার্থনা করেছি আত্নীয় স্বজনের জন্য।  

মন্দির কমিটির সভাপতি পরেশ চন্দ্র বলেন, দুর দুরান্ত থেকে আগত সাধু সাধকদের থাকা ও প্রসাদ গ্রহনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। কমিটির সফল ব্যবস্থাপনায় উৎসব জমে উঠেছে।

বোদা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সোলায়মান আলী  জানান, হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের এই পুণ্যস্নান উৎসব সফল ভাবে সম্পন্ন করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

news24bd.tv/arkabul