৭৫ বছরে কেউ পারেনি প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ পূর্ণ করতে

৭৫ বছরে কেউ পারেনি প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ পূর্ণ করতে

চন্দ্রানী চন্দ্রা

পাকিস্তানের ৭৫ বছরের রাজনৈতিক ইতিহাসে কোনও প্রধানমন্ত্রীই পূর্ণ মেয়াদে দায়িত্ব পালন করতে পারেননি। ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতা লাভ করা দেশটির পূর্ণ গণতন্ত্র থাকা সত্বেও কোনো প্রধানমন্ত্রীই মেয়াদ পূর্ণ করতে পারেননি। এসব নেতা সামরিক অভ্যুত্থান, হত্যা, বরখাস্ত, সেনাবাহিনীর চাপসহ নানা কারণে চেয়ার ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা অথবা সামরিক অভ্যুত্থানের কারণে ক্ষমতা থেকে বিদায় নিতে বাধ্য হন তারা।

 

মেয়াদ শেষ হবার আগেই ক্ষমতার পালা বদল যেন পাকিস্তানের রাজনীতির নিয়তি। বিরোধীদের অনাস্থা ভোটের চাপ শেষ পর্যন্ত এড়াতে পারলেও প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে দিতে হয়েছে আগাম নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি। জোট সঙ্গী ছিল এমকিউএম বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণায় মেয়াদ শেষ করা হলো না ক্রিকেটের মাঠ থেকে  প্রধানমন্ত্রী হ্ওয়া ইমরান খানের।  

১৯৪৭ সালের ১৪ অগস্ট অর্থাৎ পাকিস্তানের স্বাধীনতার দিন প্রথম প্রধানমন্ত্রী হয়ে দায়িত্বভার নেন লিয়াকত আলি খান।

কিন্তু ১৯৫১ সালের ১৬ অক্টোবর এক জনসভায় বক্তৃতা দেয়ার সময় আততায়ীর গুলিতে প্রাণ হারান তিনি। মোট চার বছর ৬৩ দিন ক্ষমতায় ছিলেন এর আগে ধাপ ধাপে ২১ জন প্রধানমন্ত্রী পেয়েছে পাকিস্তান। ক্ষমতার দ্বন্দ্ব আর রাজনৈতিক অস্থিরতায় তাদের বেশিরভাগই ৩ বছরের বেশি ক্ষমতায় থাকতে পারেননি।

১৯৭৩ সালে প্রধানমন্ত্রী হন পাকিস্তান পিপলস্‌ পার্টির নেতা জুলফিকার আলী ভুট্টো। তিনি ছিলেন মাত্র তিন বছর ৩২৫ দিন। এরপর সামরিক অভ্যুত্থান আর সেনা শাসন চলে দেশটিতে। নবববইয়ের দশকে বিশ্বের প্রথম মুসলিম নারী প্রধানমন্ত্রী হন -পাকিস্তান পিপলস পার্টির নেতা বেনজির ভুট্টো। তিনি দু’বছর ছিলেন ক্ষমতায়।  

এরপর প্রধানমন্ত্রী হন মুসলিম লিগ-এন এর নেতা নওয়াজ শরীফ। সেনা অভ্রুত্থানে তাকেও ছাড়তে হয় পদ। এরপর অনেকটা সময় ছিলো জেনারেল পারভেজ মোশাররফের শাসন। ক্ষমতার পালা বদলে বিদায় নেন তিনিও। এরপর ক্ষমতায় আসেন প্রয়াত বেনজীর ভুট্টোর স্বামী আসিফ আলি জারদারী।  তিনি প্রেসিডেন্ট হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী দায়িত্বে ছিলেন ইউসুফ রাজা গিলানি।
news24bd.tv/আলী