নেত্রকোনায় নদ-নদীর পানি বিপদসীমার কাছাকাছি, দুশ্চিন্তায় কৃষক
নেত্রকোনায় নদ-নদীর পানি বিপদসীমার কাছাকাছি, দুশ্চিন্তায় কৃষক

নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি

নেত্রকোনায় নদ-নদীর পানি বিপদসীমার কাছাকাছি, দুশ্চিন্তায় কৃষক

সোহান আহমেদ কাকন, নেত্রকোনা

পাহাড়ি ঢলে নেত্রকোনার হাওরাঞ্চলে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাঠছে কৃষকদের। ইতোমধ্যে ধনু নদের পানি উপচে নষ্ট হয়েছে তীরবর্তী জমির ধান ও বিভিন্ন জাতের সবজি ঘের। হুমকিতে রয়েছে ফসল রক্ষা বেড়ীবাঁধ।

যদিও গতকাল সোমবার বিকেলে আগাম বন্যা থেকে ফসল রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের সকল প্রস্তুতি রয়েছে নিশ্চিত করলেও মঙ্গলবার সকাল থেকে পানি বৃদ্ধির গতি অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাওয়ায় এখন অনেকটাই শঙ্কায় পরেছে জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড।

জানা গেছে, ভারতের চেরাপুঞ্জিতে গত কয়েকদিনের ব্যাপক বৃষ্টিপাতে সুনামগঞ্জের সুরমা নদী হয়ে ঢলের পানি ধেয়ে আসছে নেত্রকোনার হাওরাঞ্চল গুলোতে। আজ মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত না-নদীর পানি বিপদসীমার কাছাকাছি চলে আসছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।  

জেলার সবচেয়ে বড় ধনু নদ ও কংশ নদীর পানি আশংকাজনক হারে বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এতে হাওরবাসীর একমাত্র ফসল হানির চরম দুশ্চিন্তায় দিন পাড় করছেন কৃষকরা। ইতোমধ্যে বিভিন্ন স্থানে পানি উপচে নষ্ট হয়েছে তীরবর্তী জমির ধান ও বিভিন্ন জাতের সবজি ঘের। বিস্তীর্ণ হাওর জুড়েই রয়েছে কৃষকের ঘাম ও অর্থে ফলানো কাঁচা ফসল।

কৃষকরা জানান, ধান পাকা ও কাটাইয়ে এখনো সময় লাগবে ২০/২৫দিন। কিন্তু নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় বাঁধ ভেঙ্গে ফসল হানির আশঙ্কা করছেন তারা।

যদিও ফসল রক্ষায় সার্বক্ষণিক বাঁধে কাজ করছেন সংশ্লিষ্ট পিআইসি সদস্যসহ স্থানীয় কৃষকরা।  

এদিকে, বন্যা থেকে ফসল রক্ষায় পূর্ব প্রস্তুতি রয়েছে জানালেও মঙ্গলবার সকাল থেকেই নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি চলে আসায় এখন অনেকটাই দুশ্চিন্তায় রয়েছেন বলে জানান পানি উন্নয়ন বোর্ড জেলা প্রশাসক কাজি মোঃ আবদুর রহমান ও পানি উন্নয়ন বের্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহন লাল সৈকত। ভোর থেকেই খালিয়াজুরীর বিভিন্ন হাওরের বাঁধগুলোতেই অবস্থান করছেন প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের সকল পর্যায়ের কর্মকর্তারা।  

পানি উন্নয়ন বোর্ডের দেয়া তথ্যমেত, জেলার ১০টি উপজেলার মাঝে হাওর বেষ্টিত ৬টি উপজেলায় ১৩৪টি হাওরে ডুবন্ত বাঁধ রছেয়ে ৩শ ৬৫ কিলোমিটার। এরমাঝে এ বছর ২৩ কোটি ৬ লাখ টাকা ব্যায়ে ১৮৩ কিলোমিটার বেড়ীবাঁধ মেরামত করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। হাওরাঞ্চলের একমাত্র ফসল ঘরে তুলার আগ পর্যন্ত টিকে থাকবে বাঁধগুলো। এমন প্রতাশাই হাওরবাসীর।

news24bd.tv/রিমু