স্বামী ছেড়ে একাধিক পুরুষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সুমাইয়া!
স্বামী ছেড়ে একাধিক পুরুষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সুমাইয়া!

সংগৃহীত ছবি

স্বামী ছেড়ে একাধিক পুরুষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সুমাইয়া!

অনলাইন ডেস্ক

সুমাইয়া আক্তার স্বামীকে ছেড়ে পরকীয়া প্রেমিক আলামিন ওরফে বাপ্পীর সঙ্গে  স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে বসবাস শুরু করেন। কিন্তু সেই প্রেমিকের মনে একসময় সন্দেহ জাগে সুমাইয়ার অন্য আরও অনেক  পুরুষের সঙ্গে সম্পর্ক আছে।  সেই থেকে তাদের মধ্যে ঝগড়া হলে বাপ্পীকে ছেড়ে অন্য জায়গায় চলে যায়। পরে সে বাপ্পীর ফেসবুক আইডিতে ও মেসেঞ্জারে সুমাইয়া বিভিন্ন পুরুষের সঙ্গে তোলা ছবি পাঠাতে থাকেন।

এরপর বাপ্পীই তাকে আবার কাছে এনে ফেনসিডিল খাইয়ে হত্যা করেন।

যশোরের ঝিকরগাছার সুমাইয়া আক্তার হত্যার দায় শিকার করেছেন গ্রেফতার প্রেমিক আলামিন ওরফে বাপ্পী। গ্রেফতার আলামিন ওরফে বাপ্পী ঝিকরগাছা উপজেলার কাউরিয়া চৌধুরীপাড়ার আলাউদ্দিন গাজীর ছেলে।

গত সোমবার বিকেলে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক পলাশ কুমার দালাল জবানবন্দি গ্রহণ শেষ তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এ মামলায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বাপ্পী জানান,  একাধিক পুরুষের সঙ্গে সুমাইয়ার সম্পর্ক আছে এমন সন্দেহে তাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে।

জানা যায়, ২০১২ সালে যশোরের শার্শা উপজেলার রেজাউল হকের মেয়ে সুমাইয়ার সঙ্গে বাপ্পীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এর প্রায় ৩ বছর পরই বাপ্পী বিদেশ চলে যান। ২০১৮ সালে বাপ্পী দেশে ফিরে এসে জানতে পারেন সুমাইয়ার বিয়ে হয়ে গেছে। এরপর প্রেমিকার মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করেন আবারও যোগাযোগ অব্যাহত রাখেন বাপ্পী। ধীরে ধীরে দুজনেই পরকীয়া প্রেমে মত্ত হয়ে ।

যশোর পুলিশের মুখপাত্র ডিবির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রূপণ কুমার সরকার বাপ্পীর বরাত দিয়ে তিনি জানান, বছর খানেক আগে স্বামীর বাড়ি থেকে পালিয়ে প্রেমিক বাপ্পীর কাছে চলে আসেন সুমাইয়া। ঘটনাটি জানাজানি হলে মাতব্বরদের মধ্যস্থতায় সুমাইয়াকে তার স্বামীর কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু  ফের স্বামীর বাড়ি থেকে পালিয়ে প্রেমিক বাপ্পীর কাছে চলে আসেন সুমাইয়া।

এরপর যশোর শহরে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করেন বাপ্পী ও সুমাইয়া। সেই সময়ে একাধিক পুরুষের সঙ্গে সুমাইয়ার সম্পর্ক রয়েছে বলে বাপ্পীর সন্দেহ হয়। এ নিয়ে মনোমালিন্য হলে বাপ্পীর কাছ থেকে চলে যান সুমাইয়া। কিন্তু এরপর থেকে বাপ্পীর ফেসবুক আইডিতে ও মেসেঞ্জারে সুমাইয়া বিভিন্ন পুরুষের সঙ্গে তোলা ছবি পাঠাতে থাকেন। এ ঘটনায় সুমাইয়ার প্রতি বাপ্পীর প্রচণ্ড ক্ষোভ জন্মে।

যশোর পুলিশের মুখপাত্র জানান, এরপর সুমাইয়াকে হত্যার পরিকল্পনা করেন বাপ্পী। গত ২৩ মার্চ সুমাইয়াকে মোবাইল ফোন করে তার সঙ্গে শেষবার দেখা করার অনুরোধ জানান বাপ্পী। পরদিন বিকেল ৩টার দিকে সুমাইয়া বাপ্পীর সঙ্গে দেখা করলে তারা একটি মোটরসাইকেলে করে বেনাপোলে যান। সেখানকার এক মাদকব্যবসায়ীর কাছ থেকে এক বোতল ফেনসিডিল কিনে দুজনে সেবন করেন। এরপর তারা মোটরসাইকেলে ঝিকরগাছায় ফিরে আসেন এবং বিভিন্ন জায়গায় ঘোরাঘুরির পর রাত সাড়ে ৯টার দিকে চাঁপাতলা গ্রামের ঝিনুকদাহ মাঠের ফাঁকা স্থানে যান। সেখানে যাওয়ার পর লুকিয়ে রাখা একটি চাকু নিয়ে আচমকা সুমাইয়ার বুকে বসিয়ে দেন বাপ্পী। এ সময় দুজনের মধ্যে ধস্তাধস্তিও হয়। সুমাইয়া পরাস্ত হলে তার দুই হাতের রগ ও গলা কেটে হত্যা করেন বাপ্পী।

হত্যার পর ওই রাতেই নিজ বাড়িতে ফিরে আসেন বাপ্পী। রক্তমাখা পোশাক দেখে জিজ্ঞেস করলে মায়ের কাছে সুমাইয়াকে হত্যার কথা স্বীকার করেন বাপ্পী। এ কথা শুনে তার মা ছেলের রক্তমাখা পোশাক আগুনে পুড়িয়ে ফেলেন।

এরপর বাপ্পী মণিরামপুরের মুক্তারপুরে চাচা জুয়েলের বাড়িতে গিয়ে আত্মগোপন করেন। চাচা তার কাছ থেকে সব কথা শুনে মোটরসাইকেলসহ তাকে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক এক বন্ধুর চেম্বারে নিয়ে গিয়ে লুকিয়ে রাখেন। এরপর সেখান থেকে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার বংশীপুরে চলে যান বাপ্পী। তথ্যপ্রযুক্তির সাহায্যে সোমবার সকাল সাড়ে ৫ টার দিকে সেখানে অভিযান চালিয়ে বাপ্পীকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি জব্দ করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পালাতে সহায়তা করায় চাচা জুয়েলকে মনিরামপুরের মুক্তারপুর থেকে আটক করা হয়।

সুমাইয়া আক্তার হত্যার দায় আদালতের  জবানবন্দি গ্রহণ শেষ তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে  আলামিন ওরফে বাপ্পীকে।

news24bd.tv/আলী