নাটোরে সজনের আবাদ বেড়েছে 
নাটোরে সজনের আবাদ বেড়েছে 

সজনে চাষের পরিধি বেড়েছে

নাটোরে সজনের আবাদ বেড়েছে 

নাটোর প্রতিনিধি

সজনের আবাদ বেড়েছে নাটোরে। জেলার ১৬৪টি কৃষি ব্লকের প্রত্যেকটিতে গড়ে তোলা হয়েছে সজনে গ্রাম। পুষ্টি ও ওষুধি গুণাগুণের কারণে অত্যাশ্চার্য বৃক্ষ হিসেবে পরিচিত সজনে। বৃদ্ধি পাচ্ছে সজনে গাছের সংখ্যা ও এর উৎপাদন।

প্রচলিত কাটিং পদ্ধতি ছাড়াও চারা রোপণের মাধ্যমে সজনে চাষের পরিধি বেড়েছে।

বিজ্ঞানীরা গবেষণায় দেখেছেন সজনেরর পুষ্টিগুণ ব্যতিক্রমধর্মী। আমিষের অনুপাত বিবেচনায় সজনে গাছকেই পৃথিবীর সেরা গাছ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এর পাতায় ৩৮ রকম অত্যাবশ্যকীয় এমাইনো এসিডসহ ৩৮ শতাংশ আমিষ রয়েছে।

বিজ্ঞানীরা মনে করেন, সজনের পাতা পুষ্টিগুণের আঁধার। পরিমাণের ভিত্তিতে তুলনা করলে একই ওজনের সজনে পাতায় কমলা লেবুর সাতগুণ ভিটামিন সি, দুধের চারগুণ ক্যালসিয়াম এবং দুইগুণ আমিষ, গাজরের চারগুণ ভিটামিন ‘এ, কলার তিনগুণ পটাসিয়াম, পালং শাকের তিনগুণ লৌহ বিদ্যমান। পুষ্টি ও ওষুধি গুণ বিবেচনায় এই গাছকে অত্যাশ্চার্য বৃক্ষ বলা হয়। বাড়ির আঙ্গিনায় এটি একটি মাল্টি ভিটামিন বৃক্ষ।

সজনের মূল ফলন শেষে বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসে গাছ থেকে ডাল সংগ্রহ করে কাটিং রোপণ করা হয়। বসতবাড়ি, রাস্তার ধারসহ যে কোনো স্থানের মাটিতে ৩ মিটার দূরত্বে কাটিং রোপন করা যায়। রোপনকালে গোবর সার এবং দ্রুত শিকড় গজানোর জন্য সামান্য ফসফরাস সার ও ছাই ব্যবহার করা উত্তম।

সাম্প্রতিক সময়ে পি কে এম জাতের বীজ থেকে সজনের চারা উৎপাদন করা হচ্ছে। ৩ বছর মেয়াদী বিশেষ কর্মসূচির আওতায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বারোমাসি সজনের সম্প্রসারণ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এই পরিকল্পনায় দেশের ৪০টি হর্টিকালচার সেন্টারের মাধ্যমে ৩০ লাখ চারা উৎপাদন করা হচ্ছে। আর গাছের উচ্চতা এক মিটার হলে ডগা কেটে এর আকৃতি ঝোপালো করা হলে ফলন বৃদ্ধি পায় এবং সজনে সংগ্রহে সুবিধা হয় এবং এসব গাছে বারোমাসই ফলন পাওয়া যায় বলে জানান নাটোর সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. মেহেদুল ইসলাম।

নাটোর কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে জেলায় ২২০ হেক্টর আবাদি এলাকা থেকে প্রায়  চার হাজার টন সজনে উৎপাদন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির ফলে সজনের আবাদ বাড়ছে। অনুকূল আবহাওয়ার কারণে বিগত বছরের চেয়ে ফলন অনেকটা বাড়বে। বসতবাড়ি ছাড়াও রাস্তার দুধারে সজনের গাছ চোখে পড়ে।

নাটোর সদর উপজেলার বড়হরিশপুর ইউনিয়নের দত্তপাড়া, ফতেঙ্গাপাড়া এলাকায় সজনে গাছের আধিক্য লক্ষ্য করা যায়। শহরতলীর বলারিপাড়া, হাজরা নাটোর এলাকার রাস্তার দু’ধারে শোভিত অর্ধ শত গাছ নজর কাড়ে। শহরের ঝাউতলা সড়কেও এখন গাছে গাছে সজনে।

কৃষি বিভাগ জেলার ১৬৪টি কৃষি ব্লকে ১৬৪টি গ্রাম নির্বাচন করে ২৩ হাজার ১০৮ জন কৃষকের মাধ্যমে ৫৬ হাজার ৮৭২টি সজনের কার্টি ও চারা রোপন করেন। গড়ে তোলা হয় সজনে গ্রাম।

এসব সজনে গ্রামে সজনে গাছের সংখ্যা চোখে পড়ার মত। বসতবাড়ি ছাড়াও রাস্তার দু’ধারে সজনে গাছ চোখে পড়ে। নাটোর সদর উপজেলার রুয়েরভাগ এলাকার কৃষক মজিবর রহমান তার বসতবাড়ি ছাড়াও বাড়ি সংলগ্ন রুয়েরভাগ, বালিয়াডাঙ্গা সড়কের দু’ধারে প্রায় ১০০টি সজনের কাটিং ও চারা গত মৌসুমে রোপণ করেন।

চন্দ্রকোলা কৃষি ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. আতিকুর রহমান বলেন, একটি গাছ থেকে দুই মণ সজনে সংগ্রহ করা সম্ভব। সজনে চাষ বৃদ্ধি পাওয়াতে বাজারে বিক্রির মাধ্যমে কৃষকদের আর্থিক সংগতিও বেড়েছে।

নাটোর সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মেহেদুল ইসলাম জানান, গাছে গাছে এখন সজনের প্রাচুর্য। ঝড়-বৃষ্টিমুক্ত আবহাওয়া থাকায় এবার ফলন হবে আশাতীত। একটি গাছ থেকে দুই মণ সজনে সংগ্রহ করা সম্ভব। সজনের আবাদ বাড়াতে নতুন কাটিং রোপণে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে ব্লক কর্মকর্তাবৃন্দ প্রতি বছরের মতো এবারও ভূমিকা রাখবেন বলে জানান এ কর্মকর্তা।

বাণিজ্যিকভাবে বারোমাসী সজনে চাষে আগ্রহের কথা জানিয়েছেন নাটোর সদর উপজেলার তেবাড়িয়া এলাকার কৃষক মো. খোকন এবং নলডাঙ্গা উপজেলার রামশার কাজীপুর এলাকার কৃষক জহুরুল ইসলাম।

নাটোর কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ পরিচালক মাহমুদুল ফারুক বলেন, নাটোরে অত্যাশ্চার্য বৃক্ষ সজনের আবাদ ও উৎপাদন ক্রমশঃ বাড়ছে। সজনে চাষ বৃদ্ধি পাওয়াতে বাজারে বিক্রির মাধ্যমে কৃষকদের আর্থিক সংগতিও বেড়েছে। সজনের সকল উপাদান অর্থাৎ সজনেসহ এর ফুল ও পাতার যথাযথ এবং বহুমুখী ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে সুফল প্রাপ্তির পরিধি আরো বাড়বে।

news24bd.tv/কামরুল