পাকিস্তানের সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী কে এই শেহবাজ শরিফ?
পাকিস্তানের সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী কে এই শেহবাজ শরিফ?

সংগৃহীত ছবি

পাকিস্তানের সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী কে এই শেহবাজ শরিফ?

অনলাইন ডেস্ক

নানা নাটকীয়তার পর অবশেষে অনাস্থা ভোট হেরে যাওয়ায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর পদ হারালেন ইমরান খান। শনিবার রাতে পাকিস্তানের পার্লামেন্টের অধিবেশনে বিরোধীদের আনা অনাস্থা প্রস্তাবে ইমরানের বিরুদ্ধে পড়েছে ১৭৪টি ভোট। প্রস্তাব পাশের জন্য দরকার ছিল ১৭২টি।

ইমরান খানের বিদায়ের পর কে হচ্ছেন পাকিস্তানের নতুন প্রধানমন্ত্রী এ নিয়ে চলছে নানা জল্পনা কল্পনা।

তবে পাকিস্তানের গণমাধ্যমে জানা যাচ্ছে, বিরোধী দল মুসলিম লীগের সভাপতি শাহবাজ শরিফ প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন। এর মধ্যে শাহবাজ শরিফ জানিয়েছেন, নতুন সরকার প্রতিশোধের রাজনীতি করবে না।

পাক অ্যাসেম্বলিতে দাঁড়িয়ে শেহবাজ বলেন, ‘আমরা কারো বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেব না, কারো প্রতি অবিচার করব না এবং কাউকে জেলে পাঠাব না, আইন তার নিজস্ব পথে হাঁটবে’।    

পাকিস্তানের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে পারেন পাক ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির প্রধান বিরোধী দলনেতার পদে থাকা শেহবাজ শরিফ। আন্তর্জাতিক স্তরে সেভাবে পরিচিতি না থাকলেও পাকিস্তানের ঘরোয়া রাজনীতিতে দক্ষ প্রশাসক হিসেবে তাঁর সুনাম রয়েছে।

পাকিস্তানের তিনবারের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের ছোট ভাই হলেন শেহবাজ। ৬৯ বছর বয়সি ইমরান খানের নেতৃত্বাধীন সরকারের পতনের লড়াইয়ে বিরোধীদের নেতৃত্ব দেন তিনি। কয়েক সপ্তাহের রাজনৈতিক অস্থিরতার আবহে এবার পাকিস্তানের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন শেহবাজ শরিফ।

জানা গেছে, পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে শেহবাজের। ঐতিহাসিকভাবে দেখা গিয়েছে ২২ কোটি মানুষের এই দেশের পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা নীতি নিয়ন্ত্রণ করে পাক সেনা। সেখানে পাক সেনার সঙ্গে সুসম্পর্ক ক্ষমতায় থাকার অন্যতম মূল চাবিকাঠি পাকিস্তানে।

শেহবাজ তিন দফায় ১২ বছর ধরে পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী থেকেছেন। পঞ্জাবের সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদী মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন তিনি। প্রথমে ১৯৯৭ থেকে ১৯৯৯ এবং পবর্তীতে টানা দুই দফায় ২০০৮ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত পঞ্জাব প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন শেহবাজ। ২০১৮ সাল থেকে পাক ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে শেহবাজ বিরোধী দলনেতার পদ সামলেছেন।

১৯৯৯ সালে পাকিস্তানে সামরিক অভ্যুত্থানের পর শেহবাজকে কারারুদ্ধ করা হয়েছিল এবং পরবর্তীতে সৌদি আরবে নির্বাসিত করা হয়েছিল। তিনি ২০০৭ সালে দেশে ফিরে আসেন।

২০১৭ সালে প্রকাশিত পানামা পেপারসে নওয়াজ শরিফের নাম থাকার পর শেহবাজ পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজ পার্টির প্রধান হন। পঞ্জাবের রাজনীতি ছেড়ে সেই প্রথম জাতীয় রাজনীতিতে প্রবেশ তাঁর।

আমেরিকার সাথে পাকিস্তানের ‘ভালো সম্পর্কে’ বিশ্বাসী শেহবাজ শরিফ। উল্লেখ্য, ইমরানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবের পর থেকেই পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ কের এসেছেন যে তাঁর সরকের পতনের নেপথ্যে রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। সেখানে শেহবাজ তাঁর দাদার মতোই মার্কিনপন্থী নীতিতে বিশ্বাসী।

news24bd.tv/রিমু