দুই দেশ ন্যাটোতে ঢুকলে পরমাণু অস্ত্র মোতায়েন : রাশিয়া
দুই দেশ ন্যাটোতে ঢুকলে পরমাণু অস্ত্র মোতায়েন : রাশিয়া

সংগৃহীত ছবি

দুই দেশ ন্যাটোতে ঢুকলে পরমাণু অস্ত্র মোতায়েন : রাশিয়া

অনলাইন ডেস্ক

এতদিন নিরপেক্ষ থাকা সুইডেন ও ফিনল্যান্ড যদি যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ন্যাটোতে যুক্ত হয় তাহলে রাশিয়াকেও পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েনসহ বাল্টিক অঞ্চলে নিজের প্রতিরক্ষা আরও জোরদার করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন রাশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ। বাল্টিক সাগরের তীরে অবস্থিত, পোল্যান্ড ও লিথুয়ানিয়ার মাঝে ‘স্যান্ডউইচ’ হয়ে থাকা রুশ ভূখণ্ড কালিনিনগ্রাদ, মস্কোর জন্য কৌশলগতভাবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

রাশিয়ার হুশিয়ারি অপেক্ষা করে নিজেদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে সুইডেন ও ফিনল্যান্ড পশ্চিমা নেতৃত্বাধীন ন্যাটো জোটে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগামী জুনে তাদের সদস্য করা হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

 

ইউক্রেনে মস্কোর হামলার পরিপ্রেক্ষিতে রাশিয়ার সঙ্গে এক হাজার ৩০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত থাকা ফিনল্যান্ড এবং তার প্রতিবেশী সুইডেন ন্যাটোতে যোগ দেওয়ার চিন্তাভাবনা শুরু করেছে। ন্যাটোতে যোগ দেবে কি দেবে না, কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে বুধবার ফিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী সানা মারিন জানান।

এর প্রতিক্রিয়ায় মেদভেদেভ বলেন, সুইডেন ও ফিনল্যান্ড ন্যাটোতে যোগ দিলে ওই অঞ্চলে সামরিক ভারসাম্য ঠিক রাখতে রাশিয়াকে বাল্টিক সাগরে তার স্থল, নৌ ও বিমান বাহিনীর শক্তি বাড়াতে হবে।

স্পষ্ট ভাষায় হুমকি দিয়ে তিনি বলেন, সুইডেন, ফিনল্যান্ড ন্যাটোতে গেলে ‘পরমাণু মুক্ত’ বাল্টিক নিয়ে আর কোনো কথা হবে না। সুইডেন, ফিনল্যান্ড ন্যাটোতে গেলে বাল্টিকের পরমাণু মুক্ত অবস্থা নিয়ে কোনো কথা হতে পারে না, ভারসাম্য পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতেই হবে। আজ পর্যন্ত রাশিয়া এমন কোনো পদক্ষেপ নেয়নি, নিতে চায়ওনি। কিন্তু কেউ যদি আমাদের বাধ্য করে… মনে রাখবেন, আমরা এমনটা করার প্রস্তাব দিইনি।

সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের বিরুদ্ধে পশ্চিমা সামরিক শক্তি সুসংহত করার লক্ষ্যে ১৯৪৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ন্যাটো। এই জোটে ফিনল্যান্ড ও সুইডেনের অন্তর্ভুক্তি হতে পারে ইউক্রেন যুদ্ধের পরিণতি হিসেবে ইউরোপের সবচেয়ে বড় কৌশলতগত পদক্ষেপ।

১৯১৭ সালে রাশিয়ার কাছ থেকে স্বাধীনতালাভ করে ফিনল্যান্ড। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে তাদের মধ্যে আরও দুবার যুদ্ধ হয়, যাতে রাশিয়ার কাছে বেশ কিছু ভূখণ্ড হারায় ফিনিশরা। সেই তুলনায় সুইডেন অনেকটাই শান্তিপ্রিয়। গত ২০০ বছরে তারা কোনো যুদ্ধে লড়েনি। বরং তাদের পররাষ্ট্রনীতি গণতন্ত্র, বহুপাক্ষিক আলোচনা ও পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের পক্ষে কথা বলে।

news24bd.tv/আলী

;