ইফতার পর্যন্ত বাঁচিয়ে রাখার আকুতির পরও হত্যা, গ্রেপ্তার ৭
ইফতার পর্যন্ত বাঁচিয়ে রাখার আকুতির পরও হত্যা, গ্রেপ্তার ৭

প্রতীকী ছবি

ইফতার পর্যন্ত বাঁচিয়ে রাখার আকুতির পরও হত্যা, গ্রেপ্তার ৭

অনলাইন ডেস্ক

কক্সবাজারের মোরশেদ হত্যা মামলায় সাতজনকে গ্রেপ্তার র‌্যাব। শুক্রবার (১৫ এপ্রিল) চট্টগ্রাম র‌্যাব তাদেরকে গ্রেপ্তার করে। ইফতার পর্যন্ত বাঁচিয়ে রাখার আকুতির পরও জনসম্মুখে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয় মোরশেদকে। আলোচিত এ হত্যা মামলায় মূল পরিকল্পনাকারী ও হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত ৫ আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব।

 নিহত মোরশেদ আলী কক্সবাজার সদর উপজেলার পিএমখালী ইউনিয়নের মাইজপাড়ার মৃত ওমর আলীর ছেলে।

৭ এপ্রিল কক্সবাজার সদরের পিএমখালী ইউনিয়নের চেরাংঘাটা বাজার এলাকায় পানি সেচযন্ত্র ব্যবস্থাপনা নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র করে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতার নেতৃত্বে হামলায় প্রতিপক্ষের মোরশেদ আলী নিহত হন বলে স্বজনদের অভিযোগ। ঘটনার পর পুলিশ জানায়, পানি সেচযন্ত্র ব্যবস্থাপনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় দুপক্ষের লোকজনের মধ্যে দীর্ঘদিন বিরোধ চলছিল। এর জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় মোরশেদ মারা গেছে।

নিহতের স্বজনরা জানায়, আওয়ামী লীগের কক্সবাজার সদর উপজেলা কমিটির সদস্য ও উপজেলা যুবলীগের সহসভাপতি আবদুল মালেক এবং পিএমখালী ইউনিয়ন কমিটির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম আলালের নেতৃত্বে ১০ থেকে ১৫ জনের প্রতিপক্ষের একদল লোক তার ওপর হামলা চালায়।  ‘সারা দিনের রোজায় বেশি ক্লান্ত, মারতে চাইলে ইফতারের পর মারিও। ’ হামলার সময় মোরশেদ এমন কথা বলছিলেন বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা। এরপরও মোরশেদকে মাটিতে ফেলে মারধর ও কুপিয়ে হামলাকারীরা পালিয়ে যান। পরে আহতাবস্থায় মোরশেদকে উদ্ধার করে স্থানীয়রা কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে আসে। এ সময় হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের ছোট ভাই আইনজীবী জাহেদ আলী বলেন, কক্সবাজার সদর উপজেলার পিএমখালী ইউনিয়নের পাতলী এলাকায় বাঁকখালী নদীতে স্থাপিত ‘রাবার ড্যাম সেচ প্রকল্পের’ অধীন একটি পানি সেচযন্ত্র ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব নিতে গত ডিসেম্বর মাসে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে আবেদন করেন তার চাচাতো ভাই নুরুল কবির। এ নিয়ে পানি সেচযন্ত্রটির ইতোপূর্বে ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা মতিউল ইসলাম মতির সঙ্গে নুরুল কবিরের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এর জেরে প্রতিপক্ষের লোকজন নুরুল কবিরকে মারধর করেছিল।

তিনি বলেন, ‘এ ঘটনায় আমার বড় ভাই মোরশেদ আলী প্রতিবাদ জানালে ক্ষিপ্ত হয়ে প্রতিপক্ষের লোকজন তাকেও মারধর করে। পরে প্রতিপক্ষের মতিউল ইসলাম মতি বাদী হয়ে মিথ্যা অভিযোগ এনে নুরুল কবির ও মোরশেদ আলীসহ ১০-১২ জনের নামে থানায় মামলা দায়ের করে। ’ তিনি আরও আরও বলেন, ‘এরপর থেকে আমার ভাইসহ স্বজনদের নানাভাবে হুমকি দিয়ে আসছিল প্রতিপক্ষের লোকজন। তাদের হুমকিতে গত ২-৩ মাস পর্যন্ত আমরা এক প্রকার ঘরবন্দি জীবনযাপন করেছি। একা কোথাও চলাফেরা করা সম্ভব ছিল না। ’

জাহেদ বলেন, বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৫টায় পিএমখালী ইউনিয়নের চেরাংঘাটা বাজারে তার ভাই মোরশেদ আলী একা ইফতার কিনতে যান। এতে আগে থেকে ওত পেতে থাকা প্রতিপক্ষের আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল মালেক ও সিরাজুল ইসলাম আলালসহ ১০-১৫ জন লোক ফাঁকা গুলি ছুড়ে তার ওপর হামলে পড়ে। এ সময় হামলাকারীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করে। একপর্যায়ে হাতুড়ি দিয়ে পেটানোর পর তার শরীরের কয়েকটি স্থানে ছুরিকাঘাতও করা হয়েছে।  তিনি অভিযোগ করে বলেন, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল মালেক, সিরাজুল ইসলাম আলাল, কলিম উল্লাহ, মতিউল ইসলাম মতি, মাহামুদুল হক, ছৈয়দুল হক ও আবু তাহেরসহ ১০-১৫ জনের একটি দল হামলার ঘটনায় জড়িত।

এ ঘটনায় মামলা দায়েরের পর অভিযানে নামে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সবশেষ অভিযান চালিয়ে হত্যা মামলায় মূল পরিকল্পনাকারী ও হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত ৫ আসামিকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব-৭।

news24bd.tv/কামরুল 

;