কোটচাঁদপুরে চাঁদা তোলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, নিহত ২
কোটচাঁদপুরে চাঁদা তোলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, নিহত ২

কোটচাঁদপুরে চাঁদা তোলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ

কোটচাঁদপুরে চাঁদা তোলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, নিহত ২

শেখ রুহুল আমিন, ঝিনাইদহ

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর পৌর শহর এলাকায় আওয়ামীলীগের সহযোগী সংগঠনের আধিপত্য বিস্তার ও পৌরসভার টোল আদায়কে কেন্দ্র করে প্রকাশ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে  জীবন হোসেন (১৯) ও আক্তার হোসেন (২০) নামে দুইজন নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় সাব্বির হোসেন ও সোহাগ নামে দুইজন গুরতর আহত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে শহরের থানা সড়কের চৌগাছা বাসষ্ট্যান্ড সংলগ্ন ইসলামী সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও এতিম খানার সামনে দু’পক্ষের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ইমন হোসেন ডন ও আব্বাস আলী নামে দুইজনকে আটক করে।

বর্তমানে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি শান্ত রাখতে শহরের বিভিন্ন স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে রাখা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানায়, এলাকায় আওয়ামীলীগের সহযোগী সংগঠনের দু’পক্ষের আধিপত্য বিস্তার ও পৌরসভার টোল আদায়কে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এর আগে যারা টোল আদায় করতেন, এবার তাদের টোল আদায় করার কথা ছিল না। কিন্তু বুধবার রাতে বিদ্রোহী মেয়র সহিদুজ্জামান সেলিম পূর্বে যারা ছিল তাদেরকেই টোল আদায়ের ইজারা দেন। এ নিয়ে রাত থেকেই ওই এলাকায় উত্তেজনা চলছিল। বৃহস্পতিবার সকালে টোল আদায় করতে উভয়পক্ষ চৌগাছা বাসষ্ট্যান্ড এলাকায় জড়ো হয়। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে শুরু হয় মারামারি। এক পর্যায়ে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে লিপ্ত হয় সংঘর্ষে। এতে সলেমানপুর মালাকার পাড়ার দাউদ হোসেনের ছেলে সোহাগ, একই এলাকার নজির মালিতার ছেলে সাব্বির হোসেন, আখ সেন্টার পাড়ার ফিরোজ হোসেনের ছেলে জীবন ও এলাঙ্গী গ্রামের বাবু তালেবের ছেলে আক্তার হোসেন গুরতর আহত হয়।

স্থানীয়রা তাদেরকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. ইশরাত জেরিন আহত জীবনকে মৃত ঘোষণা করেন। বাকীদেরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালে রেফার্ড করলে পথে আক্তার হোসেন নামে আরো একজন মারা যায়।

এ ঘটনায় পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে সলেমানপুর উত্তর পাড়ার ইকবাল হোসেনের ছেলে ইমন হোসেন ডন ও সলেলমানপুর কারিগর পাড়ার আব্বাস হোসেনকে গ্রেফতার করেছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে কোটচাঁদপুর থানার ওসি মঈন উদ্দিন জানান, এখানে ঝিনাইদহ-৩ আসনের এমপি শফিকুল আজম খাঁন চঞ্চল গ্রুপের নেতৃত্বে রয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান আলী এবং অপর গ্রুপের নেতৃত্বে দেন কোটচাঁদপুর বিদ্রোহী পৌর মেয়র শহিদুজ্জামান সেলিমের ভাই শাহিন মিয়া। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি চলছে। দোষী যেই হোক না কেন কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানান তিনি।

news24bd.tv/রিমু 

 

;