টয়লেটে সন্তান প্রসব শিক্ষার্থীর, অথচ জানতেন না তিনি গর্ভবতী!
টয়লেটে সন্তান প্রসব শিক্ষার্থীর, অথচ জানতেন না তিনি গর্ভবতী!

সংগৃহীত ছবি

টয়লেটে সন্তান প্রসব শিক্ষার্থীর, অথচ জানতেন না তিনি গর্ভবতী!

অনলাইন ডেস্ক

লন্ডনের একটি হাসপাতালের টয়লেটে সন্তান জন্ম দিল এশিয়ান এক শিক্ষার্থী। তবে আশ্চর্যের খবর হচ্ছে সন্তান জন্মের আগ পর্যন্ত সেই নারী জানতেন না যে তিনি গর্ভবতী। আর এ কারনে ২৩ বছর বয়সী লালেন মালিকের জন্ম নেওয়া সদ্যজাত সন্তানকে ‘মিরাকল বেবি’ আখ্যায়িত করা হয়েছে।  

তবে সঠিক সময়ে তার গর্ভাবস্থার বিষয়টি নির্ণয় করতে না পারার জন্য চিকিৎসকের উপর বিরক্তি প্রকাশ করেছেন এই নারী।

একই সাথে বিষয়টি তদন্ত করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গত ২৬ মার্চে পশ্চিম লন্ডনের গ্রিনফোর্ডের বাড়িতে পেটে ব্যথা অনুভব করলে লালেনের পরিবার তাকে নর্থউইক পার্ক হাসপাতালে নিয়ে যায়।
 
সেই নারী বিষয়টির বিস্তারিত জানান, হাসপাতাল থেকে তাকে পাঁচ মাস আগে গর্ভনিরোধক পিল দেওয়া হয়েছিল। একই সাথে গত ফেব্রুয়ারিতে দুটি নেগেটিভ প্রেগন্যান্সি টেস্টের রিপোর্ট আসে। ফলে তার মনে হয়েছিলো যে, তার হয়তো কোষ্ঠকাঠিন্য হয়েছে। রোহ্যাম্পটন ইউনিভার্সিটিতে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের স্নাতকোত্তর পর্যায়ের এই শিক্ষার্থী জানান, তিনি সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা করেননি এবং ডাক্তারের পরামর্শে অক্টোবর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত পিলটি খেয়েছিলেন।

তবে শিক্ষার্থীর মা সুমরার সন্দেহ ছিল, কিছু একটা ভুল হচ্ছে। কারণ তার মেয়ে হাসপাতালের বাথরুমে যাওয়ার পর যন্ত্রণায় কান্নাকাটি শুরু করেন। লালেন যখন কমোড ফ্লাশ করতে যাচ্ছিলেন, তখন নবজাতকের ছোট হাত দেখতে পান এবং আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।

লালেন আরও জানান, তিনি টয়লেট থেকে বের হয়ে যাচ্ছিলেন। হঠাৎ ওজন কমে যাওয়া অনুভব করলেন। তারপর তিনি টয়লেটে তার সন্তানকে দেখলেন। প্রথমে সে তার সন্তানের হাত দেখতে পায়।  আর এতেই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে অন্য ঘরে নিয়ে যাওয়া হয়। এমন দৃশ্য দেখে তিনি ও তার মা কাঁদছিলেন। কারন তাদের উভয়ের জন্য এটি ছিল একটি বড় ধাক্কা। তারা পুরো ট্রমার মধ্যে পড়ে যায়। লালেন বলেন, ‘যদি তিনি জানতেন যে  তিনি গর্ভবতী তাহলে তিনি সেই মুহূর্তগুলো উদযাপন করতেন কেনাকাটা করতে, বাচ্চার জন্য জিনিসপত্র প্রস্তুত করতো।  

এদিকে শিশুটিকে উদ্ধারকারী চিকিৎসকরা বলেছেন, প্রথমে শিশুটিকে ‘প্রাণহীন’ দেখাচ্ছিল এবং শ্বাস নিচ্ছিল না, তবে তাকে বাঁচিয়ে তোলার প্রচেষ্টা সফল হয়েছে। ডা. ইওয়া গ্রোকোলস্কি, মোহাম্মদ ইব্রাহিম নামের সেই ছোট শিশুটিকে বের করে আনার পর তাকে বুকে চাপ দিয়ে (সিপিআর প্রয়োগ করে) তাকে বাঁচাতে সাহায্য করেছিলেন। তিনি বলেন, এটি ছিল তার চিকিৎসা পেশার সবচেয়ে আশ্চর্যজনক অভিজ্ঞতা।

সূত্র : স্কাই নিউজ

news24bd.tv/এমি-জান্নাত