ব্যাভিচারে জড়ালেও স্ত্রীকে ভরণপোষণ দিতে হবে : আদালত
ব্যাভিচারে জড়ালেও স্ত্রীকে ভরণপোষণ দিতে হবে : আদালত

প্রতীকী ছবি

ব্যাভিচারে জড়ালেও স্ত্রীকে ভরণপোষণ দিতে হবে : আদালত

অনলাইন ডেস্ক

২০১৭ সালে নিজের অবৈধ সম্পর্কের (ব্যাভিচার কিংবা পরকীয়ায়) জেরে যদি কোনও মহিলার বিয়ে ভেঙে যায়,  তবে সে ক্ষেত্রে ওই মহিলা তার সাবেক স্বামীর কাছ থেকে  ভরণপোষণ দাবি করতে পারেন না বলে রায় দিয়েছিলো মাদ্রাজ হাইকোর্ট। কিন্তু সাত বছর পরে তার উল্টো পথেই হাঁটল দিল্লি হাইকোর্ট।  

এবার ব্যাভিচার কিংবা পরকীয়ায় জড়ালে স্ত্রীর ভরণপোষণ বন্ধ করা যাবে না বলে রায় দিয়েছেন দিল্লির হাইকোর্ট। তবে বিচারপতি চন্দ্রধারী সিং এও বলেছেন, ভরণপোষণ প্রদান তখনই বন্ধ করা যাবে যখন ক্রমাগত বা স্থায়ীভাবে স্ত্রীর পরকীয়ায় জড়ানোর নির্দিষ্ট প্রমাণ থাকে।

 

দিল্লি হাইকোর্ট জানায়, নিষ্ঠুরতা কিংবা বিক্ষিপ্তভাবে ব্যভিচারের ঘটনা ঘটালেও স্বামীর থেকে রক্ষণাবেক্ষণ বাবদ অর্থ পেতে পারেন স্ত্রী। অন্তত সেই বাবদে অর্থ আদায়ের ক্ষেত্রে স্ত্রীকে যোগ্য বলেই বিবেচনা করছে আদালত।

দিল্লির পারিবারিক আদালত কিছুদিন আগেই এক ব্যক্তিকে তার স্ত্রীর ভরণপোষণের জন্য ১৫ হাজার করে রুপি দেয়ার নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশের বিরুদ্ধে ওই ব্যক্তি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। স্ত্রীকে ভরণপোষণের অর্থ প্রদানের বিরোধিতা করে ওই ব্যক্তি জানান, এই মামলায় একাধিক ক্ষেত্র রয়েছে যেখানে এই নির্দেশের কোনো যুক্তি নেই। ওই ব্যক্তির মতে- তার স্ত্রী চরম নিষ্ঠুরতা, পরকীয়ার পরিচয় দিয়েছে এবং স্বামীকে পরিত্যাগ করে অন্য পুরুষের সঙ্গে বসবাস করছে।  

পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণের অভাবে ওই ব্যক্তির আবেদন খারিজ করে বিচারপতি বলেন, নিষ্ঠুরতার জন্য কোনো স্ত্রী ভরণপোষণ থেকে বঞ্চিত হতে পারেন না। এমনকি স্ত্রীর নিষ্ঠুরতার জন্য যদি বিবাহ বিচ্ছেদও হয়, তবু তিনি ভরণপোষণ পাবেন।

বিচারপতি আরও বলেন, কোনো ব্যক্তির স্ত্রী, সন্তান বা বাবা-মা যেন অর্থাভাবে না পড়েন, সে জন্যই ভরণপোষণ আইন তৈরি হয়েছে। কিন্তু অনেক সময় সেই দায়িত্ব কাঁধ থেকে নামানোর চেষ্টা করা হয়।

হাইকোর্টের বিচারপতি চন্দ্রধারী সিং বলেন, ভারতের ভরণপোষণ আইন সম্পর্কে এরই মধ্যে বিভিন্ন হাইকোর্ট যে মত পোষণ করেছেন, তা হলো- স্ত্রী যদি নিয়মিত পরকীয়া সম্পর্কে জড়ান অথবা তার প্রেমিকের সঙ্গে স্থায়ীভাবে বসবাস করেন, সেক্ষেত্রে ভারতীয় দণ্ডবিধির ১২৫ (৪) ধারা প্রযোজ্য হবে।

ভারতীয় দণ্ডবিধির এই ধারাটিতে স্ত্রী, শিশুসন্তান ও বাবা-মায়ের ভরণপোষণের কথা বলা হয়েছে। তাতে উল্লেখ রয়েছে, কোনো স্ত্রী যদি স্বামীকে ছেড়ে প্রেমিকের সঙ্গে স্থায়ীভাবে বসবাস করেন অথবা যথেষ্ট কারণ ছাড়া স্বামীর সঙ্গে থাকতে অস্বীকার করেন, তাহলে তিনি স্বামীর কাছ থেকে ভরণপোষণের অর্থ পাবেন না।

কিন্তু স্ত্রী বিক্ষিপ্তভাবে পরকীয়া সম্পর্কে জড়ালেও তিনি স্বামীর থেকে রক্ষণাবেক্ষণ বাবদ অর্থ দাবি করতে পারবেন, এমনই পর্যবেক্ষণ আদালতের। স্থায়ীভাবে অবৈধ সম্পর্কে জড়ালে, অথবা তেমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটলে তবেই এর অন্যথা হতে পারে বলে জানিয়েছেন জাস্টিস চন্দ্র ধারী সিং।

সুত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া ও সংবাদ প্রতিদিন।

news24bd.tv/আলী