বিমান বন্দরে ব্যাগ বদল, চোরা কারবারির তকমা দুই বাংলাদেশির গায়ে

বিমান বন্দরে ব্যাগ বদল, চোরা কারবারির তকমা দুই বাংলাদেশির গায়ে

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি শ্রীকান্ত গোপকে সঙ্গে নিয়ে নাঈম আল জিকো :

দুবাই বিমান বন্দরে বদলে গেল ব্যাগ। ঢাকা বিমান বন্দরে এসে স্বর্ণসহ হলেন আটক। শুধু এ কারণেই চোরা কারবারির তকমা লেগেছে বাংলাদেশি দুই নাগরিকের গায়ে। তবে, স্বর্ণালঙ্কারের সেই ব্যাগে থাকা একটি ইনভয়েসের সূত্র ধরে এই ঘটনার রহস্য উন্মোচন করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান শেখ।

আদালতে চুড়ান্ত প্রতিবেদন দিলেও এখনও মুক্তি মেলেনি শাহজাহান ও জিহাদের।

রাজিয়া আক্তার জানান, চার বছর পর ২০২১ সালের ১৫ নভেম্বর দুবাই থেকে বাড়ি ফেরার কথা ছিল তার ছেলে শাহজাহানের। কিন্তু ৫ মাসেও বাড়ি ফিরতে পারেনি সে। ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে স্বর্ণ চোরাচালানের অভিযোগে এখন বন্দি হাজতে। দেখতে পারেননি একমাত্র সন্তানের চেহারাও।

দেশে ফেরার সময় একই ডিজাইন ও ব্রান্ডের হওয়ায় দুবাই এয়ার পোর্টেই বদলে যায় শাহজাহানের ব্যাগ। পরে দেশে এসে চেকিংয়ের সময় বিপুল পরিমান স্বর্ণের বার ও অলংকার আনার অভিযোগে সে আটক হয় শুল্ক গোয়েন্দার হাতে। এ সময় তার কাছে উপহার নিতে এসে ফেঁসে যান জিহাদুল ইসলাম।

তদন্তে নেমে শাহজাহানের ব্যাগে মেলে ভিএসকে জুয়েলার্স নামে একটি প্রতিষ্ঠানের খালি ইনভয়েস। সেখানে থাকা ই-মেইলে যোগাযোগ করলে ব্যাগটির প্রকৃত মালিক ভিশাঙ্ক সঞ্জয় কোঠারির খোঁজ পায় পুলিশ। ব্যাগ ও কোটি টাকার স্বর্ণ ফেরত নিতে দুবাই পুলিশের মাধ্যমে যোগাযোগও করেন তিনি।

তদন্তকারী কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান শেখ নিউজ টোয়েন্টিফোরকে জানান, মেইলে বলছে আমি বৈধ স্বর্ণ ব্যবসায়ী। আমি স্বর্ণ কাস্টমসে ক্লিয়ারেন্স করেছি। স্বর্ণ বাহরাইনে ব্যবসায়ী পারপাসে যাচ্ছিল। আমি ওনাকে বলি আইন গতভাবে আগান। সেভাবে এই ভদ্রলোক দুবাইয়ের একজন পুলিশ অফিসার মিস্টার বাতেনের  মাধ্যামে দুবাইতে আমাদের যে জেনারেল অফিস আছে সেখানে চিঠি লিখেন।

পুলিশ বলছে, দু-পক্ষের গাফিলতি ও নিজের সম্পদ সম্পর্কে উদাসিন হওয়ায় এধরনের ঘটনা ঘটেছে। নিরপরাধ দুজন মানুষকে খাটতে হচ্ছে জেল।

অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার, তাপশ কুমার দাশ নিউজ টোয়েন্টিফোরকে বলেন, যে প্রকৃত মালিক ছিলেন ব্যাগটি সে হয়তো খেয়াল করেনি। সেই ভুল করেছে হয়তো। সে ভুল না করলে বাংলাদেশি শ্রমিক ব্যাগটি নিতেন না।

বিদেশে শ্রমিক হিসেবে কাজ করা শাহজাহানের পরিবারের এখন দৈন্য দশা। পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী মানুষটি জেলে থাকায় আর্থিক ভাবেও ভেঙ্গে পরেছে পরিবারটি।

শাহজাহানের মা রাজিয়া আক্তার নিউজ টোয়েন্টিফোরকে বলেন, আমার ছেলে নির্দোষ, আমার ছেলেকে চাই আর কিছু চাই না।

শাহজাহানের স্ত্রী শাহানা আক্তার বলেন, গেল মাসের ৩১ তারিখ তাদের নিরপরাধ চুড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে পুলিশ। তবে এখনও মুক্তি মেলেনি শাহজাহান ও জিহাদের।

news24bd.tv/কামরুল 

সম্পর্কিত খবর