প্রেমিক-প্রেমিকার একসঙ্গে বিষপানে আত্মহত্যা
প্রেমিক-প্রেমিকার একসঙ্গে বিষপানে আত্মহত্যা

প্রতীকী ছবি

প্রেমিক-প্রেমিকার একসঙ্গে বিষপানে আত্মহত্যা

পিরোজপুর প্রতিনিধি:

পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলায় প্রেমে বাধা দেওয়ায় প্রেমিক-প্রেমিকা একসঙ্গে বিষপানে আত্মহত্যা করেছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার কলারদোয়ানিয়া ইউনিয়নের উত্তর কলারদোয়ানিয়া গ্রামের চানদকাঠী এলাকায়।  

আজ শুক্রবার ভোরে তাদের মৃত্যু হয়। এর আগে বৃহস্পতিবার (২১ এপ্রিল) রাত ২টার দিকে প্রেমিকার বাড়ির সামনের কবরস্থানে বসে তারা বিষপান করে।

 

নিহত প্রেমিকা মোসা. মারিয়া খানম ওই গ্রামের মো. রফিকুল ইসলামের কন্যা। সে উপজেলার মুগারঝোর দাখিল মাদরাসার দশম শ্রেণির ছাত্রী। আর প্রেমিক ইয়াছিন তালুকদার (১৮) জেলার নেছারবাদ উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের উলিবুনিয়া গ্রামের মো. হাফিজ তালুকদারের ছেলে।  

নিহত ইয়াছিনের পিতা জানান, তার পুত্র গত ৩-৪ দিন আগে তার ফুফা মোজাম্মেল হক হাওলাদারের বাড়িতে বেড়াতে যায়। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ফুফাতো ভাই ছাব্বিরের সাথে তার দোকানে ঘুমাতে যায়। কিন্তু গরমের কথা বলে সেখান থেকে বের হয়। রাত ৩টার দিকে ইয়াছিনের ফুফু ছাবিনা ইয়াছমিন ফোন করে জানায়- ইয়াছিন ও বাড়ির পাশের এক মেয়ে একসঙ্গে বিষ  পান করেছে।  

নিহত মারিয়া খানমের মা শামীমা নাছরিন জানান, তার কন্যা মারিয়া রাতের খাবার খেয়ে ১০টার দিকে তার কক্ষে ঘুমাতে যায়। রাত ২টার দিকে বাড়ির সামনের কবর স্থান থেকে বাঁচাও বাঁচাও বলে ডাক চিৎকার করতে থাকে। পরে সেখানে গিয়ে কন্যা মারিয়া ও ইয়াছিনকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখি। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।  

নিহতদের পরিবার সূত্রে জানা যায়, তাদের হাসপাতালে আনা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রেমিকা মারিয়াকে মৃত্যু বলে ঘোষণা করেন। আর পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভোরে ইয়াছিনের মৃত্যু হয়।  

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাক্তার অসিত মিস্ত্রী জানান, মারিয়াকে মৃত্যু অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। আর ওই দিন ভোরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালে ইয়াছিনের মৃত্যু হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, প্রেমিকা মারিয়ার পিতা বাড়িতে থাকেন না।  মা শামীমা নাছরিন মেয়েকে প্রেমের বাধা হয়ে দাঁড়ান এবং বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে বিষয়টি নিয়ে মেয়েকে গালমন্দ করেন। এর জের ধরে প্রেমিক-প্রেমিকা একসঙ্গে আত্মহত্যা করে।  

নাজিরপুর থানার অফিসার ইন চার্জ (ওসি) মো. হুমায়ুন কবির জানান, প্রেমিক-প্রেমিকা একই সাথে বাড়ির সামনের কবর স্থানে গিয়ে বিষ পান করে আত্মহত্যা করেছে। আত্মহত্যার কারণ নিয়ে নিহতদের পরিবারের কেউ মুখ খুলছে না। তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।  

news24bd.tv/কামরুল