রানা প্লাজা ধসের ৯ বছর আজ, আহত শ্রমিকদের দুঃসহ জীবন
রানা প্লাজা ধসের ৯ বছর আজ, আহত শ্রমিকদের দুঃসহ জীবন

পুরোনো ছবি

রানা প্লাজা ধসের ৯ বছর আজ, আহত শ্রমিকদের দুঃসহ জীবন

নাজমুল হুদা, সাভার

রানা প্লাজা ধসের ৯ বছর আজ, দুঃসহ জীবন বয়ে বেড়াচ্ছেন আহত শ্রমিকরা, কাজ না পাওয়ায় আর্থিক কষ্টে সংসার চালানোই দায়। আগেই যেমনটি জানিয়েছি, নয় বছর ধরে দুঃসহ স্মৃতি বয়ে বেড়াচ্ছেন রানা প্লাজা ধসে আহত শ্রমিকরা। এক দিকে চিকিৎসা ব্যয়, অন্যদিকে বেকারত্ব, সব মিলিয়ে দুর্বিসহ হয়ে পড়েছে তাদের জীবন। শ্রমিক নেতারা বলছেন, পূনর্বাসনের কথা বার বার বলা হলেও তার বাস্তবায়ন এখনো নেই।

এদিকে রানা প্লাজার ঘটনায় দায়ের করা মামলার বিচার শুরু হলেও সাক্ষ্যগ্রহণই শেষ হয়নি ৯ বছরে।

৭ বছর ধরে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরির জন্য ধর্না দিচ্ছেন সাভারের শ্রমিক আজিরুন নেছা। ৯ বছর আগে রানা প্লাজা দুর্ঘটনায় আহত আজিরুনের চাকরি পেতে বড় বাধা ‘রানা প্লাজার শ্রমিক’ পরিচয়।  

ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় ২০০২ সালে এই তরুণী নীলফামারী থেকে ঢাকা আসেন। পরের বছর কাজ নেন রানা প্লাজার একটি গার্মেন্টসে। ২০১৩ সালের দুর্ঘটনায় তার ডান পা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দেড় বছর পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসা। পঙ্গু এই শ্রমিককে কাজে নেয় না কেউ, কিন্তু প্রত্যেক মাসে তাকে কিনতে হয় কয়েক হাজার টাকার ওষুধ।

মর্মান্তিক সেই দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া প্রায় হাজারো শ্রমিকের পরিণতি এদের মতোই। জীবন-জীবিকার সন্ধানে কেউ সাভার ছেড়েছেন। কেউ মুছে ফেলেছেন রানা প্লাজার পরিচয়, আবার চাকরি না পেয়ে অনেকেই পরিবারের অন্য সদস্যদের ওপর নির্ভরশীল হয়ে আছেন। তাদের পূনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন শ্রমিক নেতারা।

বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক সংহতির সমন্বয়ক তাসলিমা আক্তার জানান, সেদিনের ভবন ধসের ঘটনায় স্থায়ীভাবে পঙ্গু হয়েছেন ১৪শ শ্রমিক। এর পাশাপাশি মানসিক বিকলাঙ্গতা বা ট্রমার মধ্যে পড়েছে আরো অনেকেই।

রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় দায়ীদের বিচার শেষ হয়নি। ৮ বছর আগে বিচার শুরু হলেও শেষ হয়নি সাক্ষ্যগ্রহণ। এই নিয়ে ক্ষুব্ধ নিহতের পরিবারের সদস্যরা।

news24bd.tv/রিমু   

;