সৈয়দপুর হাসপাতালে মেশিনের তার চুরি, এক্স-রে বন্ধ
সৈয়দপুর হাসপাতালে মেশিনের তার চুরি, এক্স-রে বন্ধ

মেশিনের তার চুরি, এক্স-রে বন্ধ

সৈয়দপুর হাসপাতালে মেশিনের তার চুরি, এক্স-রে বন্ধ

আব্দুর রশিদ শাহ্ , নীলফামারী

নীলফামারীর সৈয়দপুরে ১০০ শয্যা হাসপাতালে এক্স-রে সেবা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এত রোগীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। বেসরকারি রোগনির্ণয় কেন্দ্র থেকে কয়েকগুণ বেশি টাকা দিয়ে এক্স-রে করাতে হচ্ছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. মোহায়মেনুল ইসলাম বলেন, ‘মেশিনের এসি তার চুরি এবং প্রিন্টার নষ্ট হওয়ায় এক সপ্তাহ ধরে এক্স-রে কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

চুরির বিষয়টি স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক। আশা করা হচ্ছে, চলতি সপ্তাহেই এটি সচল হবে’।

তিনি জানান, এই এসি তার দেশের বাজারে পাওয়া যায় না। আর এক্স-রে ফিল্ম প্রিন্টার সারাতেও সময় লাগবে। সব মিলিয়ে অন্তত সাত দিন সময় লাগবে। তবে সৈয়দপুর থানার ওসি আবুল হাসনাত খান বলেন, হাসপাতালে এক্স-রে মেশিনের তার চুরির ঘটিনাটি তাঁর জানা নেই। এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোনো অভিযোগ করেননি।  

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালটিতে দিনাজপুরের রানীর বন্দর, রংপুরের তারাগঞ্জের রোগীরাও চিকিৎসা সেবা নিতে আসেন। প্রতিদিন গড়ে ৪০ থেকে ৫০ জন এক্স-রে করান। গত ১৬ এপ্রিল এক্স-রে মেশিনের তার চুরি যায়। এরপর থেকে সেবা বন্ধ।  

সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, এক্স-রে কক্ষটি তালাবদ্ধ। রোগীরা কক্ষের সামনে গেলে টেকনিশিয়ান তাঁদের নির্দিষ্ট কয়েকটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন।  

কয়েকজন রোগী বলেন, হাসপাতালে এক্স-রে করাতে ৬০ থেকে ৭০ টাকা লাগে। আর বেসরকারি ডায়াগনস্টিক কেন্দ্রে লাগে ১২০ থেকে ১৫০ টাকা। কোনো ক্ষেত্রে আরও বেশি নেওয়া হয়। তা ছাড়া হাসপাতালে উন্নত মানের ৩০০ এমএ এক্স-রে মেশিন থাকলেও বাইরে ১০০ বা ২০০ এমএ মেশিনে এক্স-রে করাতে হচ্ছে। অনেক সময় মান খারাপের অজুহাত দেখিয়ে বাইরে থেকে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা খরচে ডিজিটাল মেশিনে এক্স-রে করানো হচ্ছে।  

অর্থোপেডিক বিভাগে চিকিৎসাধীন একজন রোগীর ছেলে বলেন, তাঁর বাবা রিকশাচালক। সড়ক দুর্ঘটনায় ডান পা ভেঙে গেছে। বাবার আয় দিয়েই তাঁদের সংসার চলে। হাসপাতালে না হওয়ায় বাইরে এক্স-রে করতে বলেছেন ডাক্তার। কিন্তু বাইরে অনেক বেশি টাকা লাগবে। তা ছাড়া রোগীকে নিয়ে রাস্তা পারাপার করতে যাওয়াটাও কষ্টসাধ্য।

news24bd.tv/রিমু   

সম্পর্কিত খবর

;