ঢাবির বিতর্কিত শিক্ষক রহমত উল্লাহর পূণর্বহাল বিষয়ে কৌশল অবলম্বনের অভিযোগ
ঢাবির বিতর্কিত শিক্ষক রহমত উল্লাহর পূণর্বহাল বিষয়ে কৌশল অবলম্বনের অভিযোগ

সংগৃহীত ছবি

ঢাবির বিতর্কিত শিক্ষক রহমত উল্লাহর পূণর্বহাল বিষয়ে কৌশল অবলম্বনের অভিযোগ

অনলাইন ডেস্ক

২৫ এপ্রিল (সোমবার) দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগের উদ্যোগে এক জরুরি একাডেমিক কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভাটি ডাকা হয়েছিল পরীক্ষা কমিটি পুনর্গঠনের জন্য। কিন্তু এজেন্ডার বাইরে গিয়ে কোন কোন বক্তা বঙ্গবন্ধুর খুনী খন্দকার মোশতাক আহমেদের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনকারী বিতর্কিত শিক্ষক ড. রহমত উল্লাহকে পূণর্বহালের পক্ষে সুকৌশল অবলম্বন করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।  

জানা গেছে, একাডেমিক কমিটির সভার শেষ দিকে এজেন্ডার বাইরে গিয়ে অধ্যাপক বোরহান উদ্দিন খান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আইনের কয়েকটি ধারা উল্লেখ করে বলেন, অধ্যাপক রহমত উল্লাহকে একাডেমিক ও প্রশাসনিক কাজ থেকে সম্প্রতি অব্যাহতি দেওয়ার বিষয়টি আইন সঙ্গত হয়নি।

তিনি বৈঠকে প্রস্তাব দেন, এ ব্যাপারে আইনের কোন ব্যত্যয় আদৌ ঘটেছে কি না, সে বিষয়ে আইন বিভাগের একাডেমিক কমিটির পক্ষ থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি দেওয়া বা জানতে চাওয়া যায় কি না? এরপর অধ্যাপক আসিফ নজরুল, অধ্যাপক বোরহান উদ্দিন খান ও সহযোগী অধ্যাপক গোবিন্দ চন্দ্র মন্ডল নানা যুক্তি তর্ক উপস্থাপন করেন।  

তখন সভায় উপস্থিত অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান কার্জন এ প্রস্তাবের তীব্র বিরোধীতা করে বলেন, প্রথমত: রহমত উল্লাহর বিষয়টি আজকের সভার এজেন্ডাতে নেই। ফলে এ বিষয়ে কোন আলোচনাই হতে পারে না। দ্বিতীয়ত : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক বডি। ফলে এ ব্যাপারে সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তের পর একাডেমিক কমিটিতে কোন আলোচনা হতে পারে না। তাছাড়া, সিন্ডিকেট আইন বিভাগের একাডেমিক কমিটির কাছে কোন আইনি মতামতও চায়নি।  

এক পর্যায়ে বঙ্গবন্ধুর খুনীর প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর জন্য রহমত উল্লাহর বিরুদ্ধে নিন্দা প্রস্তাব গ্রহণের দাবি জানান অধ্যাপক হাসান তালুকদার। এ প্রস্তাব সমর্থন করেন অধ্যাপক কার্জন। এরপর একাডেমিক কমিটির সভাটি এ বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয়।  

এ ঘটনার সত্যতা জানতে চাইলে সভায় সভাপতিত্ব করা আইন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক আসিফ নজরুল নিউজ টোয়েন্টিফোরকে বলেন, আমাদের মিটিংয়ে তাকে বহাল রাখা বিষয়ে কোন আলোচনাই হয়নি। ড. রহমত উল্লাহর জায়গায় অলরেডি অন্য একজনকে অ্যাপয়নমেন্ট দেয়া হয়েছে। এখন পরীক্ষা কমিটির কার্যক্রম কীভাবে চলবে সেটা নিয়েই মূলত আালোচনা হয়েছে।  তিনি বলেন, অফিশিয়াল বা ফরমাল মিটিং শেষে কেউ যদি আলাদাভাবে অন্য কোন বিষয়ে আলাপ আলোচনা করে থাকেন তাতে কিছু বলার নেই। এর সঙ্গে অফিশিয়াল মিটিংয়েরও কোন সম্পর্ক নেই।

অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান কার্জন নিউজ টোয়েন্টিফোরকে বলেন, পরীক্ষা কমিটিতে কাকে দায়িত্ব দেয়া হবে-মিটিংটা ছিলো সেই সিঙ্গেল এজেন্ডা নিয়ে। কিন্তু সেখানে আলোচনা শুরু হয়েছে, রহমত উল্লাহ সাহেবের ব্যাপারে আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সিন্ডিকেটের কাছে কোন চিঠি লিখবো কিনা- এ বিষয়ে। এই ঘটনায় আইনের কোন ব্যত্যয় ঘটেছে কিনা-সেই আলোচনা যদি সেখানে হয় তাহলে তো উনাকে পূণর্বহালের কথাই বলা হলো।

অধ্যাপক কার্জন বলেন, মিটিংটি চলেছে বেলা একটা থেকে দুটো পর্যন্ত। আমাদের পরীক্ষা সংক্রান্ত আলোচনা শেষ হয়েছে দেড়টা পর্যন্ত। কিন্তু দেড়টা থেকে দুটো পর্যন্ত কি আলোচনা হয়েছে সেটা উনাদেরকে জিজ্ঞেস করলেই জানা যাবে।  

news24bd.tv/desk

;