টিকটকার স্বামীর বিরুদ্ধে নওমুসলিম স্ত্রীর মামলা
টিকটকার স্বামীর বিরুদ্ধে নওমুসলিম স্ত্রীর মামলা

সংগৃহীত ছবি

টিকটকার স্বামীর বিরুদ্ধে নওমুসলিম স্ত্রীর মামলা

অনলাইন ডেস্ক

টিকটকার স্বামী সুমন ও তার ২য় স্ত্রীর পরিবারের বিরুদ্ধে ইফতারির সঙ্গে বিষ মিশিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেছেন এক নওমুসলিম স্ত্রী।  মামলার আসামিরা হলো- টিকটকার ফজলুল করিম সুমন, তার শালা আজাদ মিয়া ও দ্বিতীয় স্ত্রীর মা হোসনে আরা বেগম। মামলা প্রসঙ্গে অ্যাডভোকেট গোলাম মাওলা মুরাদ বলেন, টিকটক করতে গিয়ে সমাজে যেসব অনাচার হচ্ছে এই ঘটনা তারই নিকৃষ্ট একটি উদাহরণ। সহজ-সরল নারীদের টিকটকের নামে প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিয়ের নামে নির্যাতনের এমন চিত্র আরও অনেক আছে।

বুধবার দুপুরে চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম মোহাম্মদ অলি উল্লাহর আদালতে মামলাটি করা হয়। আদালত মামলাটি গ্রহণ করে বায়েজিদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) দ্রুততম সময়ের মধ্যে তদন্ত করে রিপোর্ট দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।

নওমুসলিম স্ত্রীর আইনজীবী গোলাম মাওলা জানান, নগরীর উত্তর কাট্টলী এলাকার পিতৃহীন যুবতী পিংকি রাণী দে। সাগরপাড়ে ঘুরতে গিয়ে পরিচয় হয় টিকটকার ফজলুল করিম সুমনের সঙ্গে। পিংকির সুন্দর চেহারার বর্ণনা দিয়ে টিকটক করার মাধ্যমে অর্থ উপার্জনের প্রস্তাব দেন ফজলুল করিম সুমন। সেই থেকে পরিচয়, তারপর ধীরে ধীরে প্রেমের প্রলোভনে ফেলে পিংকিকে ধর্মান্তরিত করেন সুমন। পিংকিও সরল বিশ্বাসে সেই প্রস্তাবে রাজি হয়ে যান। ধর্মান্তরিত হয়ে পিংকি নাম রাখেন ইসরাত জাহান তোহা। নওমুসলিম তোহা ধীরে ধীরে জানতে পারেন তিনি সুমনের চতুর্থ স্ত্রী।

চারটি স্ত্রী ছাড়া টিকটকার সুমনের সঙ্গে আরও বেশ কয়েকজন নারীর বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক রয়েছে। এসব নিয়ে সুমনকে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর থেকেই তোহার ওপর দফায় দফায় শারীরিক নির্যাতন চালায় সুমন। সুমনকে সুপথে ফিরিয়ে আনতে রমজানে রোজা রাখতে শুরু করেন তোহা। আর তোহাকে শ্বশুরবাড়িতে নিয়ে যাওয়ার জন্য স্বামী সুমনের কাছে আবদার জানাতে থাকেন বারবার। এটাই তোহার জীবনে কাল হয়ে দাঁড়ায়।

তোহার অন্য স্ত্রীরা ততদিনে জেনে যান নামধারী পিংকির সঙ্গে সুমনের বিয়ে হয়েছে। তোহাকে পিংকির জীবন থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য সুমনের সঙ্গে চক্রান্তে যোগ দেন তার ২য় স্ত্রীর ভাই ও মা। বেছে নেওয়া হয় পবিত্র রমজানের ইফতারের সময়কে। সুমনসহ তার ২য় স্ত্রীর বাড়ির লোকজন সম্প্রতি ইফতারের সময় শরবতের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে তোহাকে হত্যার চেষ্টা করলে তোহা বিষপানে অজ্ঞান হয়ে পড়েন।

সুমন এসময় তার সঙ্গীদের নিয়ে স্ত্রী তোহাকে চমেক হাসপাতালে রেখে পালিয়ে যায়। কর্তব্যরত চিকিৎসকদের সহায়তায় তোহাকে হাসপাতালে ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে রেখে চিকিৎসা করানো হয় বলে জানান অ্যাডভোকেট গোলাম মাওলা মুরাদ।

গোলাম মাওলা মুরাদ জানান, সুমনের প্রলোভনে পিংকির ধর্মান্তরিত হওয়ার কারণে তোহা সমাজচ্যুত হয়ে অনেকটা একঘরে হয়ে যান। ফলে সুমনকে তিনি চাপ দিতে থাকেন তাকে শ্বশুড় বাড়িতে নিয়ে তোলার জন্য। তোহার কথায় সুমন জঙ্গি শাহ মাজার এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় তোহাকে তুলে দিয়ে রাতেই পালিয়ে যায়।

news24bd.tv/আলী

সম্পর্কিত খবর

;