সাবেক অর্থমন্ত্রী মুহিত আর নেই 
সাবেক অর্থমন্ত্রী মুহিত আর নেই 

সংগৃহীত ছবি

সাবেক অর্থমন্ত্রী মুহিত আর নেই 

নিজস্ব প্রতিবেদক

সাবেক অর্থমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য আবুল মাল আবদুল মুহিত মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।  শুক্রবার দিবাগত রাত ১২:৫৬ মিনিটে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর।  পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড এ. কে আবদুল মোমেনের পিআরও মোহাম্মদ মহসিন রেজা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এম এ মুহিতের ভাই বাংলাদেশ পল্লী শিশু ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এ এস এ মুয়িয সুজন জানিয়েছেন, রাত সোয়া ১২টার দিকে অবস্থার অবনতি হলে আবুল মাল আব্দুল মুহিতকে ইউনাইটেড হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তারপর সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

আবুল মাল আবদুল মুহিতের প্রথম জানাজা সকাল সাড়ে ১০টায় গুলশান আজাদ মসজিদে ও সকাল সাড়ে ১১টায় সংসদ প্লাজায় দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। দুপুর ১২টায় তাঁর মরদেহ সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য শহিদ মিনারে নেয়া হবে। এরপর দাফনের জন্য মরদেহ সিলেটে নেয়া হবে।

সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত গত ১১ মার্চ শুক্রবার দুপুরে হাসপাতাল থেকে বাসায় ফিরেন। গত ৫ মার্চের আগে তিনি ঢাকার বনানীর বাসায় শারীরিকভাবে খুবই দুর্বল হয়ে পড়েন। মুখ দিয়ে কোনো খাবার খেতে পারছিলেন না। ফলে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। তাই ৫ মার্চ সকালের দিকে মুহিতকে ঢাকার গ্রিন রোডস্থ গ্রিন লাইফ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।

এর আগে গত বছরের ২৯ জুলাই তিনি করোনা আক্রান্ত হয়ে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ভর্তি হন। পরে তিনি সেখানে কয়েকদিন চিকিৎসা নিয়ে কিছুটা সুস্থ হয়ে বাসায় ফেরেন। তখন থেকেই শারীরিকভাবে অনেকটা দুর্বল হয়ে পড়েন তিনি।

আবুল মাল আবদুল মুহিত আওয়ামী লীগের দুই আমলে টানা ১০ বছর অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। অর্থমন্ত্রী হিসেবে আবুল মাল আবদুল মুহিত মোট ১২টি বাজেট উপস্থাপন করেছেন, যার ১০টিই আওয়ামী লীগ সরকার আমলের। আবুল মাল আবদুল মুহিত আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা কমিটির সদস্য। তাঁর আরেক ছোট ভাই পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন।

১৯৩৪ সালের ২৫ জানুয়ারি সিলেটে জন্মগ্রহণ করেন আবুল মাল আবদুল মুহিত। যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চতর ডিগ্রি নেওয়া আবদুল মুহিত বরাবরই একজন মেধাবী মানুষ। ১৯৫৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতক (সম্মান) পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করেন তিনি। পরের বছর একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। তার আগে অংশ নেন ভাষা আন্দোলনে। ছাত্রজীবনে সলিমুল্লাহ হল ছাত্র সংসদের ভিপি নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি।

১৯৫৬ সালে আবদুল মুহিত যোগ দেন পাকিস্তান সিভিল সার্ভিসে (সিএসপি)। সিএসপিতে যোগ দিয়ে তিনি ওয়াশিংটন দূতাবাসে পাকিস্তানের কূটনীতিকের দায়িত্ব নেন এবং মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১৯৭১ সালের জুন মাসে পাকিস্তানের পক্ষ ত্যাগ করেন। ওই সময়ে তিনি বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন করেন এবং যুক্তরাষ্ট্রে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।  

news24bd.tv/আলী

;