‘অপারেশন গঙ্গা’ ছিল খুবই চ্যালেঞ্জিং : হর্ষবর্ধন শ্রিংলা
‘অপারেশন গঙ্গা’ ছিল খুবই চ্যালেঞ্জিং : হর্ষবর্ধন শ্রিংলা

‘অপারেশন গঙ্গা’ ছিল খুবই চ্যালেঞ্জিং : হর্ষবর্ধন শ্রিংলা

অনলাইন ডেস্ক

ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধকালে ইউক্রেনে আটকে পড়া ভারতীয়দের স্বদেশে ফিরিয়ে আনার জন্য ‘অপারেশন গঙ্গা’ নামে যে কর্মযজ্ঞ চালানো হয় তা ছিল খুবই চ্যালেঞ্জিং। ভারতের সদ্যবিদায়ী পররাষ্ট্র সচিব হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা টাইমস অব ইন্ডিয়াকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেছেন।

শ্রিংলা দুই বছরের বেশি সময় ভারতের পররাষ্ট্র সচিব পদে ছিলেন। তিনি ৩০ এপ্রিল অবসরে গেছেন।

ভারতের পররাষ্ট্র সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনের আগে শ্রিংলা বাংলাদেশে হাইকমিশনার ও যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

ভারত সরকার শ্রিংলাকে আগামী বছর ভারতে অনুষ্ঠেয় জি-২০ সম্মেলনের মুখ্য আহ্বায়ক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে।  

সাক্ষাৎকারে তিনি বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে মূলত পররাষ্ট্র সচিব হিসেবে তাঁর গত দুই বছরের অভিজ্ঞতা ও পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছেন। ওই দুই বছরকে শ্রিংলা তুলনা করেছেন ‘বিরতিহীন রোলার কোস্টারের’ সঙ্গে। সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশ প্রসঙ্গও এসেছে। সাক্ষাৎকারটি নেন ‘টাইমস অব ইন্ডিয়া’র শচিন পরাশর।

প্রশ্ন : ইউক্রেন থেকে ভারতীয়দের সরিয়ে আনার জন্য চালিত ‘অপারেশন গঙ্গা’ কীভাবে সফল হলো?

শ্রিংলা : এটা ছিল খুবই চ্যালেঞ্জিং। ২০ হাজারের বেশি ভারতীয় আটকা পড়ে যান ইউক্রেনে। তারা ছিলেন অত্যন্ত বিপন্ন অবস্থায়। প্রধানমন্ত্রী মোদির নির্দেশে অপারেশন শুরু হয়। প্রায় ১ হাজার কিলোমিটার জুড়ে বিভিন্ন শহরে থাকা ভারতীয় শিক্ষার্থী ও অন্যান্য পেশাদারকে পড়শি দেশ রোমানিয়া, পোল্যান্ড, হাঙ্গেরি ও স্লোভাকিয়ায় আনা হয়। এ দেশগুলোয় ভারতীয় দূতাবাসের লোকেরা অনেক মেহনত করেন। দেশ চারটি আন্তরিক সহযোগিতা করে। ৯০টি ফ্লাইটে ভারতীয়দের স্বদেশে নিয়ে আসা হয়েছে।
প্রশ্ন : ইউক্রেন সংকট মোকাবিলায় ভারত তার নিজস্ব কর্মকৌশল গ্রহণ করেছে। এর প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক কি ঝাঁকুনি খাবে?

শ্রিংলা : ইউক্রেনে অবনতিশীল মানবিক অবস্থা অবসানের জন্য আমরা অবিলম্বে সহিংসতা ও বৈরিতা বন্ধের ডাক দিয়েছি। প্রেসিডেন্ট পুতিন ও প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির সঙ্গে টেলিফোনে সংকট নিয়ে মতবিনিময় করেছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি।

ভারত যত জ্বালানি তেল আমদানি করে তার ২ শতাংশেরও কম আসে ইউক্রেন থেকে। বিশ্বের বৃহত্তম জ্বালানি আমদানিকারক দেশগুলোর অন্যতম ভারত। জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের প্রশ্নে জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতেই চলে ভারতের নীতি।

প্রশ্ন : পড়শি দেশগুলোকে গুরুত্ব দেওয়ার যে ধারা ভারত বজায় রেখেছে তা কত দূর এগিয়ে নেওয়া যাবে?

শ্রিংলা : ভারত ২০১৪ সাল থেকে ‘পড়শি প্রথম’ নীতি বলবৎ করছে। পররাষ্ট্র সচিবরা আসনে বসার পরপরই সাধারণত প্রথম বিদেশ ভ্রমণ করেন ভুটানে। আমি প্রথম ভ্রমণে গেলাম আফগানিস্তানে। ওই সময়কার গুরুতর চ্যালেঞ্জ হিসেবেই ওটা করলাম। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে আমাদের জাতীয় স্বার্থ নিশ্চিতকরণ পর্যায়েই আমি বাংলাদেশ, মিয়ানমার ও মালদ্বীপ সফর করি। প্রধানমন্ত্রী মোদির ভিশন ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ, সবকা বিশ্বাস’ এরই আলোকে অনুসৃত হচ্ছে ‘পড়শি প্রথম’ নীতি। আগের চাইতে এখন পড়শিদের সঙ্গে আমাদের সংযোগ অনেক ভালো।

প্রশ্ন : আপনার কার্যকালে যা যা হয়েছে তাতে আপনি সন্তুষ্ট?

শ্রিংলা : প্রথম দুটি বছর ছিল হুড়হাঙ্গামাপূর্ণ বিরামহীন দৌড়ঝাঁপের মধ্যে থাকতে হয়েছে। পররাষ্ট্র সচিব হিসেবে এই সময় কাজ করতে পারাটা সুবিধা প্রাপ্তির ব্যাপার। ওই বছরগুলো ছিল দেশ হিসেবে ভারতের জন্য আর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে কর্মরত আমাদের জন্য তাৎপর্যময়। হ্যাঁ, দিনগুলো চ্যালেঞ্জিং ছিল। ওইসব দিনের অর্জিত অভিজ্ঞতা আমি কোনো কিছুর জন্য বিনিময় করব না।

;