সয়াবিন তেল গুদামে আছে অথচ বাজারে উধাও!
সয়াবিন তেল গুদামে আছে অথচ বাজারে উধাও!

সয়াবিন তেল গুদামে আছে অথচ বাজারে উধাও!

অনলাইন ডেস্ক

সয়াবিন তেল মিলছে না কোথাও। তেল যেন রীতিমতো উধাও! রাজধানীর একাধিক বাজারের ক্রেতা-বিক্রেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পকেটভর্তি টাকা নিয়ে ঘুরছেন সবাই। বাড়তি দামও দিতে রাজি, কিন্তু তেল মিলছে না কোথাও। এ সংকট ঈদের আগে থেকেই।

রাজধানীতেই কোথাও কোথাও পলিথিনে করে কয়েক শ গ্রাম তেলও বিক্রি হয়েছে গত কয়েক দিনে। বিশেষ করে গত ১ মে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযানের পর কারওয়ান বাজারে সয়াবিন তেলের সংকট আরও প্রকট হয়েছে। আগে পরিবেশক বা পাইকারি বিক্রেতাদের কাছ থেকে চাহিদার বিপরীতে অল্পস্বল্প তেল মিললেও অভিযানের পর থেকে গুদামগুলো খালি।  

জানতে চাইলে কারওয়ান বাজারের হাজী মিজান এন্টারপ্রাইজের মালিক জানান, আগে পরিবেশক বা পাইকারি বিক্রেতাদের কাছ থেকে চাহিদার বিপরীতে অল্পস্বল্প তেল মিললেও অভিযানের পর থেকে গুদামও খালি। পরিবেশকেরা এখন আর তেলই তুলছেন না গুদামে। এর মধ্যে চলছে আবার ঈদের ছুটি। এ কারণে সয়াবিন তেলের সংকট এখন ‘মহাসংকট’–এ রূপ নিয়েছে।

হাজী মিজান স্টোরের পাশের দোকান জব্বার স্টোরের বিক্রেতা আজিজুল জানান, তাঁর দোকানেও ঈদের আগের দিন থেকে তেল নেই। হন্যে হয়ে পরিবেশক ও পাইকারদের কাছে তেল খুঁজেও পাচ্ছেন না তাঁরা। এ দোকানে তেল খুঁজতে রাজধানীর হাতিরপুল এলাকা থেকে এসেছেন অমর সরকার। তিনি বলেন, ‘হাতিরপুলের দোকানে তেল না পেয়ে কারওয়ান বাজার এসেছি কিনতে। এখানেও একই অবস্থা। তেল নাই, তেল নাই। ’

সয়াবিন তেল বাজার থেকে উধাও হয়ে গেলেও কারওয়ান বাজারে হাতে গোনা দুয়েকটি দোকানে অবশ্য মিলছে পাম তেল। তেমনই একটি আলী স্টোর। এখানে খোলা পাম তেল বোতলে করে ১৯০ টাকা কেজিদরে বিক্রি করা হচ্ছে। তা-ও আছে হাতে গোনা কয়েক বোতল। এদিকে আজ বুধবার সকালে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের টাউন হল বাজারে গিয়ে দেখা যায়, বেশির ভাগ মুদিদোকানে সয়াবিন তেল নেই। ব্যবসায়ীরা বলছেন, কোম্পানির পরিবেশকেরা তাঁদের তেল দিচ্ছেন না। অনেক দোকানি ব্যবসার স্বার্থে বেশি দামে কৃষি মার্কেট থেকে কিছু তেল কিনে আনছেন। তবে সেগুলোও খুব দ্রুত বিক্রি হয়ে যাচ্ছে।

এই বাজারের দোকানি আফজাল হোসেন বলেন, সকাল থেকে ১২-১৫ জন ক্রেতা তেলের খোঁজ করে গেছেন। কিন্তু দিতে পারেননি। ঈদের আগে ২ লিটারের দুই কার্টন ও আধা লিটারের দুই কার্টন তেল পেয়েছিলেন। আনার কিছুক্ষণ পরই সেগুলো বিক্রি হয়ে গেছে। এর পর থেকে আর কোনো তেল পাননি বলে তিনি জানান।

news24bd.tv/desk 

;