আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভে ৫ করণীয়
আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভে ৫ করণীয়

প্রতীকী ছবি

আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভে ৫ করণীয়

মুফতি ইবরাহিম সুলতান

মুমিন জীবনের প্রধানতম লক্ষ্য হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি বা তাঁর ভালোবাসা অর্জন। প্রকৃত মুমিনের সব কর্মপ্রচেষ্টা এর ওপর নির্ভর থাকে। সন্তুষ্টি ও ভালোবাসা লাভের এই ব্যাকুলতা থেকে আল্লাহর বান্দারা ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল থাকে প্রতিনিয়ত, আল্লাহ যা হারাম করেছেন তা পরিত্যাগ করে। আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভে মুমিনের অন্যতম পদক্ষেপগুলো এখানে তুলে ধরা হলো—

১।

কোরআনচর্চায় মনোযোগী হওয়া : পবিত্র কোরআন মহান আল্লাহর কালাম। এটি মানুষকে আলোকিত করে। মানুষকে আল্লাহর সান্নিধ্য অর্জনে সাহায্য করে। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘এটি একটি বরকতময় কিতাব, যা আমি আপনার প্রতি বরকত হিসেবে অবতীর্ণ করেছি, যাতে মানুষ এর আয়াতসমূহ লক্ষ্য করে এবং বুদ্ধিমানগণ যেন তা অনুধাবন করে। ’ (সুরা : সদ, আয়াত : ২৯)

২। আল্লাহর মুখাপেক্ষী হওয়া : আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের অন্যতম একটি উপায় হলো অন্তরে এ বিশ্বাস রাখা যে আল্লাহ সব কিছুর ওপর ক্ষমতাবান। তিনি কারো মুখাপেক্ষী নন। সবাই তাঁর মুখাপেক্ষী। এই অনুভূতি সর্বদা অন্তরে জাগ্রত রাখা। তবেই আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন সম্ভব। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা তাঁর অমুখাপেক্ষিতার কথা তুলে ধরে বলেন, ‘হে মানুষ, তোমরা আল্লাহর কাছে মুখাপেক্ষী। আর আল্লাহ অভাবমুক্ত, প্রশংসিত। ’ (সুরা : ফাতির, আয়াত : ১৫)

৩। নফল ইবাদতের প্রতি যত্নবান হওয়া : ফরজ, ওয়াজিব আমলগুলোর পাশাপাশি নফল ও মুস্তাহাব আমলের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া। যদিও ইসলামে নফল আমল পালন করা আবশ্যকীয় বিধান নয়। তবু আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন ও তাঁর সঙ্গে গভীর সম্পর্ক স্থাপনে সেসব আমলের বিকল্প নেই। এক হাদিসে কুদসিতে এসেছে, রাসুল (সা.) বলেছেন, আল্লাহ বলেন, ‘আমি যা কিছু আমার বান্দার ওপর ফরজ করেছি, তা দ্বারা কেউ আমার নৈকট্য লাভ করবে না। বান্দা সর্বদা নফল ইবাদত দ্বারা আমার নৈকট্য লাভ করতে থাকবে। একপর্যায়ে আমি তাকে এমন প্রিয় পাত্র বানিয়ে নিই যে আমিই তার কান হয়ে যাই, যা দিয়ে সে শোনে। আমিই তার চোখ হয়ে যাই, যা দিয়ে সে দেখে। আর আমিই তার হাত হয়ে যাই, যা দিয়ে সে ধরে। আমিই তার পা হয়ে যাই, যা দ্বারা সে চলে। ’ (বুখারি, হাদিস : ৬৫০২)

৪। সর্বদা অন্তরে আল্লাহর স্মরণ : চলতে-ফিরতে, মুখে-অন্তরে সর্বদা আল্লাহর স্মরণ রাখা। আল্লাহর স্মরণ প্রসঙ্গে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আল্লাহ তাআলা বলেন, আমার সম্পর্কে আমার বান্দার ধারণা মোতাবেক আমি (আচরণ করি)। আমি তার সঙ্গে থাকি, যখন সে আমাকে স্মরণ করে। যদি সে আমাকে তার অন্তরে স্মরণ করে আমি তাকে আমার অন্তরে স্মরণ করি। যদি সে আমাকে মজলিসে স্মরণ করে, আমি তাকে তাদের চেয়ে উত্তম মজলিসে স্মরণ করি। যদি সে আমার দিকে এক বিঘত অগ্রসর হয়, আমি তার দিকে এক হাত অগ্রসর হই, যদি সে আমার দিকে এক হাত অগ্রসর হয়, আমি তার দিকে এক বাহু অগ্রসর হই। যদি সে আমার দিকে আসে হেঁটে, আমি তার দিকে যাই দ্রুত। ’ (বুখারি, হাদিস : ৭৪০৫)

৫। পাপ থেকে বেঁচে থাকা : আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের অন্যতম একটি উপায় হলো, পাপ কাজ ছেড়ে দেওয়া। সুতরাং পাপ যতই ক্ষুদ্র হোক পরকালীন শাস্তির কথা ভেবে তা থেকে বিরত থাকা উচিত। রাসুল (সা.) আয়েশা (রা.)-কে বলেছেন, ‘হে আয়েশা, তুমি ছোট ছোট গুনাহ থেকেও নিজেকে রক্ষা কোরো। কেননা সেটা লেখার জন্যও আল্লাহর পক্ষ থেকে একজন ফেরেশতা নিযুক্ত আছেন। ’ (মিশকাত, হাদিস : ৫৩৫৬)

 

;