‘বিনা টিকিটের যাত্রী আমার আত্মীয় হলেও ছাড় নয়’
‘বিনা টিকিটের যাত্রী আমার আত্মীয় হলেও ছাড় নয়’

ফাইল ছবি

টিটিইকে ব্যাখ্যা জানাতে তলব

 

‘বিনা টিকিটের যাত্রী আমার আত্মীয় হলেও ছাড় নয়’

আতাউর রহমান কাবুল

'টিকিট ছাড়াই পাবনা থেকে ঢাকামুখী ট্রেনে উঠে এসি কামরায় বসেছিলেন তিন যাত্রী। ভ্রাম্যমাণ টিকিট পরিদর্শক (টিটিই) এলে রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজনের আত্মীয় পরিচয় দিয়েছিলেন তাঁরা। তখন টিটিই বিনা টিকিটে ভ্রমণের জন্য তাঁদের কাছ থেকে জরিমানাসহ ভাড়া আদায় করেন। পাশাপাশি এসি কামরাও ছাড়তে হয় তাঁদের।

গত বৃহস্পতিবার (৫ মে) রাতের এ ঘটনার পর ওই টিটিইকে মুঠোফোনে বরখাস্ত করার কথা জানিয়ে দেওয়া হয়। শুক্রবার তিনি আর কাজে যোগ দিতে পারেননি। ' 

বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশিত এমন একটি সংবাদ বিষয়ে জানতে চাইলে রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন শনিবার নিউজ টোয়েন্টিফোরকে টেলিফোনে বলেন, আমিতো এ ঘটনার কিছুই জানিনা। গতকাল রাত্রে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে থাকাকালীন এ সংক্রান্ত বিষয়ে প্রথম জানতে পারি একজন সাংবাদিকের ফোনে। কিন্তু বিষয়টিতো আমার নলেজেই নাই।

পরে আপনি বিষয়টির খোঁজ নিয়েছিলেন কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে রেলমন্ত্রী বলেন, রেলের অফিশিয়াল কার্যক্রমের সঙ্গে মন্ত্রীর আসলে কোনো সংযোগ থাকে না। ঘটনাটি মিডিয়ায় আসার পর রেলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছ থেকে পরে শুনেছি। তারা বলেছেন, ওই টিটিই নাকি বিনা টিকিটের যাত্রীদের সঙ্গে অত্যন্ত খারাপ আচরণ করেছেন। ফলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এখন অবশ্য বিষয়টির তদন্ত চলছে।

তিনি বলেন, বিনা টিকিটে ট্রেনে ভ্রমণ করা ওই যাত্রীরা আমার কোন আত্মীয় নয়, উনাদের সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। মন্ত্রীর নাম ভাঙিয়ে কেউ হয়তো সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করেছে। আমার ভাগিনা পরিচয় হোক, ভাই পরিচয় হোক, আর যাই হোক-কোন যাত্রী যদি অন্যায় করে থাকে আর সে কারণে রেলের লোকজন যদি আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়-এর কারণে উল্টো রেলের ওই লোকজনের চাকরি যাবে-এটা তো হতেই পারে না।  

রেলমন্ত্রী আরও বলেন, আমরা রেলসেবা বাড়াতে কাজ করছি। বিনা টিকিটের যাত্রী যদি মন্ত্রীর আত্মীয়ও হয় তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে; কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। একইভাবে কোনো রেল কর্মকর্তাও যদি যাত্রীদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন তাকেও শাস্তি পেতে হবে।  

যাত্রী লিখিত অভিযোগ করেছিলেন
পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা (ডিসিও) নাসির উদ্দিন বলেন, ৫ মে ঘটনার দিন ইমরুল কায়েস নামের এক যাত্রী লিখিত অভিযোগ করেছিলেন। অভিযোগপত্রে ওই যাত্রী দাবি করেন, তিনি ৫ মে দিবাগত রাত ২টা ১৫ মিনিটে কাউন্টারে টিকিট না পেয়ে ট্রেনে ওঠেন। এরপর টিটিই এসে তাঁদের কাছে টিকিট চান। তিনি টিকিট পাননি বলে জানান। পরে টিকিট দিতে বললে টিটিই তিনজনের ভাড়া বাবদ ১ হাজার ৫০০ টাকা দাবি করেন। ৩০০ টাকার টিকিট ৫০০ কেন জানতে চাইলে তিনি ৩ হাজার ৬০০ টাকা দিয়ে টিকিট নিতে হবে বলে জানান। এত টাকা দেওয়া সম্ভব না বলাতে টিটিই খেপে যান। এরপর তিনি বকাবকি করেন। ওই যাত্রীর দাবি, টিটিই মাদকাসক্ত ছিলেন। তিনি তাঁর কর্মের যথোপযুক্ত শাস্তি চান।

(‌ডি‌সিও) না‌সির উদ্দিন শনিবার এক লিখিত বক্তব্যে দাবি করেছেন, টিটিই শফিকুল ইসলাম ‘মান‌সিক বিকারগ্রস্ত’। তার বিরুদ্ধে এর আগেও যাত্রীদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করার অভিযোগ রয়েছে। টি‌টিই শফিকুল ইসলাম ‌বিনা টি‌কিটের যাত্রীদের লা‌থি দিয়ে ট্রেন থেকে ফেলে দেওয়ার হুম‌কি দিয়েছিলেন। তিনি তাদের নিকট থেকে জনপ্রতি ৫০০ টাকা করেও দা‌বি করেছিলেন। ফলে যাত্রীর লিখিত অভিযোগ পেয়ে ওই দিনই শফিকুল ইসলামকে বরখাস্ত করা হয়। তবে এখন পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

টিটিইকে ব্যাখ্যা জানাতে তলব
রেলমন্ত্রীর আত্মীয় পরিচয় দেওয়া তিন যাত্রীকে জরিমানা করায় সাময়িক বরখাস্ত হওয়া টিটিই শফিকুল ইসলামকে ব্যাখ্যা জানাতে তলব করা হয়েছে। আগামীকাল রোববার তাঁকে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের পাকশী বিভাগীয় কার্যালয়ে ঘটনার ব্যাখ্যা দিতে হবে বলে জানা গেছে।

টিটিই শফিকুল ইসলাম শনিবার দুপুরে বলেন, আমি কারও সঙ্গে অশোভন আচরণ করিনি। আমি আমার দায়িত্ব পালন করেছি শুধু। এখন আমাকে এ ঘটনার ব্যাখ্যা দিতে ডাকা হয়েছে; আমি সঠিক ব্যাখ্যা দেবার জন্য প্রস্তুত আছি। সেদিন যা যা ঘটেছে, আমি প্রকৃত ঘটনাই বলব। এরপর স্যারেরা যা ব্যবস্থা নেন, নেবেন। আমার আর কিছু বলার নেই।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশে রেলমন্ত্রীর আত্মীয় পরিচয় দিয়ে বিনা টিকেটে রেল ভ্রমণ করা এবং তাদেরকে জরিমানা করার কারণে রেলের একজন কর্মীকে শাস্তি দেয়ার একটি খবর বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ হওয়ার পর দেশজুড়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা।  

news24bd.tv/desk

;

পাঠকপ্রিয়