রেলমন্ত্রীর শ্যালক-ভাগ্নেই বিনা টিকিটের যাত্রী ছিলেন
রেলমন্ত্রীর শ্যালক-ভাগ্নেই বিনা টিকিটের যাত্রী ছিলেন

সংগৃহীত ছবি

রেলমন্ত্রীর শ্যালক-ভাগ্নেই বিনা টিকিটের যাত্রী ছিলেন

অনলাইন ডেস্ক

গত বৃহস্পতিবার (৫ মে) দিবাগত রাতে ঈশ্বরদী রেল জংশন থেকে তিন যাত্রী বিনা টিকিটে ঢাকাগামী আন্ত নগর সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেনে উঠলে ভ্রাম্যমাণ টিকিট পরীক্ষক (টিটিই) শফিকুল ইসলাম তাদেরকে জরিমানা করেন। এ ঘটনায় গতকাল শুক্রবার শফিকুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ সময় বিনা টিকিটে ভ্রমণকারী তিনজন রেলমন্ত্রীর আত্মীয় পরিচয় দিয়ে জরিমানা দিতে অস্বীকৃতি জানান বলে অভিযোগ করেন ওই টিটিই। তবে টিটিইর বিরুদ্ধে তাদের সঙ্গে খারাপ আচরণের অভিযোগ করেছেন ভ্রমণকারী ওই তিন ব্যক্তি।

 

এই ঘটনার পর রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন শনিবার গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, বিনা টিকিটে ভ্রমণকারীরা মন্ত্রীর আত্মীয় নয়। মন্ত্রীর নাম ভাঙিয়ে কেউ হয়তো সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করেছে।  ঘটনার সঙ্গে আমার কোনো আত্মীয় জড়িত নয়। রেল কর্মকর্তারা ওই টিটিইর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে আমি কিছুই জানতাম না। ’

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ওই ট্রেনে বিনা টিকেটে ভ্রমণকারী তিন ব্যক্তি হলেন―ইমরুল কায়েস প্রান্ত, হোসেন ও ওমর। হোসেন এবং ওমর সম্পর্কে ইমরুলের মামা। তাদের মধ্যে টিটিইর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন ইমরুল। তিনি রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজনের বর্তমান স্ত্রী শাম্মী আক্তারের বোন নিপার ছেলে। আর হোসেন ও ওমর রেলমন্ত্রীর স্ত্রী শাম্মী আক্তারের আপন মামাতো ভাই। ঈশ্বরদী শহরের নূর মহল্লায় ইমরুলের বাড়িতে তারা ঈদ করতে এসেছিলেন। রেলমন্ত্রীর স্ত্রী শাম্মী আকতার সন্তানের মতোই দেখেন ইমরুলকে। ওই ট্রেনে থাকা বিনা টিকিটের যাত্রীদের একজন হোসেন কালের কণ্ঠকে তাদের আত্মীয়তার সম্পর্কের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

হোসেন বলেন, ‘আমরা ঢাকায় যাওয়ার জন্য ট্রেনের টিকিট নিতে কাউন্টারে যাই। সেখানে টিকিট না পেয়ে বিষয়টি শাম্মী আপুকে জানাই। আমাদের জন্য সুন্দরবন এক্সপ্রেসের তিনটি টিকিট দিতে আপু দায়িত্বরত গার্ড শরিফুল ইসলামকে সেলফোনে বলেন। এরপর আমরা ট্রেনের একটি বগিতে উঠি। অথচ শফিকুল ইসলাম আমাদের সঙ্গে অশালীন আচরণ শুরু করেন। ট্রেন থেকে লাথি দিয়ে ফেলে দিতে চান তিনি। ’

অভিযোগকারী যাত্রী ইমরুল কায়েস প্রান্ত কালের কণ্ঠকে আরো বলেন, ‘আমি ঢাকায় একটি টেক্সটাইল মিলে চাকরি করি। ছুটি শেষ হওয়ায় ঢাকায় আসতেই হবে আমাকে। টিকিট না পেয়ে ট্রেনে উঠেছিলাম। টিটিইকে দেখেই আমি টিকিট চেয়েছি। আমাদের কাছে টাকা নিয়ে টিটিই বলেন, টিকেট লাগবে না। কিন্তু আমি টিকিট চাওয়ায় তিনি অশালীন আচরণ করেন। তার ব্যবহারে অসন্তুষ্ট হয়ে বিষয়টি রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের লিখিতভাবে জানিয়েছি। ’

স্টেশনের সহকারী বাণিজ্যিক কর্মকর্তা নূর ই আলম কালের কণ্ঠকে ফোনে বলেন, টিটিই শফিকুল ইসলাম তাদের ফোনে জানান, তিনজন যাত্রী বিনা টিকিটে 'ক' বগির এসি কোচের ১৫-১৭ সিটে বসে আছেন। তারা রেলমন্ত্রীর আত্মীয় পরিচয় দিচ্ছেন। তখন টিটিইকে তাদের তিনজনকে শোভন চেয়ারে স্বল্প মূল্যে টিকিট দিতে বলা হয়।

টিটিই শফিকুল ইসলামের বক্তব্য জানতে শনিবার দুপুর থেকে তার সেলফোনে কয়েকবার কল দেওয়ার পর একজন নারী রিসিভ করে বলেন, 'এটা টিটিই শফিকুলের নম্বর নয়’। এরপর তিনি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরে শফিকুলের বাসা টিটিই হাউজে (রানিং স্টাফ রুম) গিয়েও তাকে সেখানে পাওয়া যায়নি।

বিনা টিকিটের যাত্রীদের কাছ থেকে ভাড়াসহ জরিমানা আদায় ও টিটিইকে সাময়িক বরখাস্তের ঘটনায় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন হয়েছে। কমিটিতে পাকশী বিভাগীয় সহকারী পরিবহন কর্মকর্তা সাজেদুল ইসলামকে প্রধান করা হয়েছে। গঠিত তদন্ত কমিটিকে দুই কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সূত্র : কালের কণ্ঠ

news24bd.tv/desk

 

 

;