রেলপথ লোহার, কিন্তু রেল মন্ত্রণালয়ের পথ অনেক পিচ্ছিল! 
রেলপথ লোহার, কিন্তু রেল মন্ত্রণালয়ের পথ অনেক পিচ্ছিল! 

রেলপথ লোহার, কিন্তু রেল মন্ত্রণালয়ের পথ অনেক পিচ্ছিল! 

আতাউর রহমান কাবুল

আমাদের এলাকা পঞ্চগড়ের রেলমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট ঘটনা ভাইরাল। ভাবলাম, যেহেতু মিডিয়ায় কাজ করি সেহেতু আসল জিনিসটা জাতিকে জানানো দরকার। গতকাল শনিবার সকালেই আমি রেলমন্ত্রী সুজন ভাইকে ফোন দিলাম। ফোন ধরে বললেন, ‘আমিতো ঘটনার কিছু জানি না।

গতকাল রাত্রে এক বিয়ের অনুষ্ঠানে ছিলাম তখন চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের এক সাংবাদিকের কাছে প্রথম শুনেছি। ’

আমি তাঁকে প্রশ্ন করলাম, এরপর কি বিষয়টার খোঁজ নিয়েছেন? তিনি বললেন, এখন খোঁজ নিচ্ছি। এরপর রেলমন্ত্রীর এপিএস রাশেদকে ফোন দিলাম। তাকে রিকুয়েস্ট করলাম, খোঁজ নিয়ে তথ্যটা আমাকে দ্রুত জানাতে। এপিএস রাশেদ জানাল, তিনি গ্রামের বাড়িতে, মন্ত্রীর পাশে নেই..। তবে ঘটনাটি যে ব্যাপক ট্রল হচ্ছে এটা তিনিও স্বীকার করলেন হাসতে হাসতেই।

আমি ততটুকুই নিউজ রেডি করে রাখলাম যে, ‘রেলমন্ত্রী জানেনই না আসলে ঘটনা কী। ’ কিন্তু পরবর্তীতে কোনো তথ্য না পাওয়ায় আপডেট দিতে পারিনি। রাশেদ সাহেবরা যেহেতু ব্যস্ত, আমার এতো কী ঠ্যাকা পরেছে!

এরপর দেখলাম, দুপুরের দিকে নিউজ হলো বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে। রেলমন্ত্রী সংবাদমাধ্যমে বলেছেন, তিনি নাকি ঘটনাটি শনিবার সকালে শুনেছেন। অথচ আমাকে বললেন আগের রাতের কথা! তিনি এও বলেছেন, ‘বিনা টিকিটের যাত্রীরা আমার কোনো আত্মীয় নন। আত্মীয় হলেও কাউকে ছাড় নয়। ’ আমরা সবাই এই সংবাদটি হাইলাইট করলাম।

সন্ধ্যার দিকে থলের বিড়াল বের হতে লাগলো। রেলমন্ত্রীর স্ত্রী শাম্মীর মামাতো বোন নিপা সব ফাঁস করে দিয়ে বললেন, তিনিই রেলমন্ত্রীর স্ত্রীকে দিয়ে ফোন করিয়েছেন ওই টিটিইর ব্যাপারে অভিযোগ জানিয়ে। ওই সময় তারা দুজনে একসঙ্গে, একই বাসায় ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে রেলমন্ত্রী যে বলেছেন তারা আত্মীয় নয়, এতেও নাকি তিনি দুঃখ পেয়েছেন! পরে রেলমন্ত্রী নাকি ফোন করে তাকে সান্ত্বনা দিয়েছেন!!

শুধু তাই নয়, বিনা টিকেটের সেই যাত্রী রেলমন্ত্রীর স্ত্রীর মামাতো বোন নিপার ছেলে শান্ত নিজেও মিডিয়াকে বলেছেন, তিনিই রেলমন্ত্রীর স্ত্রী তার শাম্মী আপুকে ফোন করেছেন। অপর দুই যাত্রীর একজনও সব ঘটনা ভ্যাগ ভ্যাগ করে বলে দিয়েছেন!

মাননীয় রেলমন্ত্রী সুজন ভাই,
আমরা আপনাকে অনেক পছন্দ করি। প্রধানমন্ত্রীও আপনাকে পছন্দ করেন বলে জানি। ছাত্রজীবন থেকেই আপনার গ্রিন রোডের বাসায় আমার যাতায়াত। অথচ কোনদিন এক টাকার সুবিধাও নেইনি আপনার কাছ থেকে। কোন দিন কোন কাজের জন্য রিকুয়েস্টও করিনি। দুর্নীতিতে আপনার জড়িত হওয়ার কোনো তথ্য আমাদের কাছে নাই। এ ঘটনায় হয়তো আপনার মন্ত্রিত্ব যাবে না। কিন্তু আপনার ওই অর্বাচীন আত্মীয়-স্বজন যেভাবে আপনাকে ডোবালেন, এর দায়ভার কে নেবে? ভবিষ্যতে আপনার নতুন সহধর্মিনীকেও আরো সচেতন হয়ে চলতে হবে কিন্তু। কেননা, রেলপথ লোহার, কিন্তু রেল মন্ত্রণালয়ের পথ অনেক পিচ্ছিল! এর আগে অনেকেই পিছলে পরেছেন...

শুভকামনা আপনার জন্য বরাবরের মতোই।  

লেখক : ডেপুটি ইনচার্জ, নিউজ টোয়েন্টি ফোর অনলাইন

(লেখাটি লেখকের ফেসবুক স্টাটাস থেকে নেয়া। এই বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখা সম্পাদকীয় নীতির প্রতিফলন নয়। )

;