দেশে প্রথমবারের মতো থ্যালাসেমিয়া রোগীর ‘হ্যাপলো ট্রান্সপ্লান্ট’
দেশে প্রথমবারের মতো থ্যালাসেমিয়া রোগীর ‘হ্যাপলো ট্রান্সপ্লান্ট’

দেশে প্রথমবারের মতো থ্যালাসেমিয়া রোগীর ‘হ্যাপলো ট্রান্সপ্লান্ট’

অনলাইন ডেস্ক

২১ মাস বয়সী এক শিশুর থ্যালাসেমিয়ার চিকিৎসা করা হয়েছে হ্যাপলো ট্রান্সপ্লান্ট প্রক্রিয়ায়। দেশে প্রথমবারের মতো সাফল্যের সঙ্গে এই চিকিৎসা দিয়েছে জেসিআই স্বীকৃত্ব এভারকেয়ার হসপিটাল ঢাকা।

বুধবার এ উপলক্ষ্যে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এক সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করে। এতে হেমাটোলজি ও স্টেম সেল ট্রান্সপ্লান্ট বিভাগের কো-অর্ডিনেটর ও সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. আবু জাফর মোহাম্মদ সালেহ বলেন, থ্যালাসেমিয়া একটি বংশগত রোগ, যা হিমোগ্লোবিনের জন্মগত ত্রুটির ফলে হয়।

দেশে প্রায় ৮০ লাখ মানুষ থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত, যাদের অধিকাংশই এ সম্পর্কে অবগত নন। কারণ তাদের বেশিরভাগই বাহক বা ক্যারিয়ার যা সহজে ধরা পরে না, ফলে একে সাইলেন্ট কিলারও বলা হয়ে থাকে। এর মধ্যে ৫০ থেকে ৭০ হাজার থ্যালাসেমিয়া রোগী আছেন যাদের চিকিৎসা প্রয়োজন। বর্তমানে এই রোগের একমাত্র কিউরেটিভ ট্রিটমেন্ট বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট। এক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায় ডোনার পাওয়া। কারণ থ্যালাসেমিয়া রোগীর পরিবার ছোট আকারের হওয়ায় ডোনার পাওয়ার চান্স ১০ ভাগের নিচে। তাই এর বিকল্প পদ্ধতি হিসেবে হ্যাপলো ট্রান্সপ্লান্ট পদ্ধতি ব্যবহার করা হয় অর্থাৎ হাফ-ম্যাচ ডোনার দ্বারা ট্রান্সপ্লান্ট করা হয়।

তিনি বলেন, হ্যাপলো ট্রান্সপ্লান্ট বা হাফ ম্যাচ ট্রান্সপ্লান্ট এমন এক পদ্ধতি যেখানে পরিবারের যে কেউ (যেমন বাবা, মা, ভাই, বোন) ডোনার হতে পারে। এই প্রক্রিয়ায় থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত রোগীর ডোনার নিয়ে ভোগান্তি পোহাতে হয় না।

তিনি বলেন, আক্রান্ত শিশুর ২-৫ বছর বয়সের মধ্যেই সাধারণত এই ট্রান্সপ্লান্ট করতে হয়। তবে ২ বছরের আগেও করা যায়। প্রথমবারের মতো গত ৫ মে, ২১ মাস বয়সী শিশুর হ্যাপলো ট্রান্সপ্লান্ট সফলভাবে সম্পন্ন করি। বাংলাদেশে থ্যালাসেমিয়া আক্রান্তদের জন্য এটি একটি বিশাল সুখবর এবং এর মাধ্যমে এভারকেয়ার হসপিটাল ঢাকার হাত ধরে দেশে প্রথমবারের মতো এই চিকিৎসার যাত্রা শুরু হয়েছে বলে আমি মনে করি।

সাংবাদ সম্মেলনে মেডিকেল সার্ভিসেসের ডেপুটি ডিরেক্টর ডা. আরিফ মাহমুদ বলেন, এই হ্যাপলো ট্রান্সপ্লান্ট বাংলাদেশের স্বাস্থ্য সেবা খাতে একটি মাইলফলক। ব্লাড ক্যান্সার রোগীদের সব ধরনের চিকিৎসা সাশ্রয়ী মূল্যে দেওয়া হচ্ছে এভারকেয়ার হাসপিটাল ঢাকায়। এসব চিকিৎসার জন্য আর বিদেশ যেতে হবে না। এক ছাদের নিচে আমরা আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছি।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এভারকেয়ার হসপিটাল বাংলাদেশের এমডি ও সিইও ডা. রত্নদ্বিপ চাস্কার, মেডিকেল সার্ভিসেসের ডেপুটি ডিরেক্টর ডা. আরিফ মাহমুদ, চিফ মার্কেটিং অফিসার ভিনয় কাউল সহ রোগীর স্বজনরা।

news24bd.tv তৌহিদ

;