এই আন্দোলন থামানো যাবে না : জয়নাল আবেদীন
এই আন্দোলন থামানো যাবে না : জয়নাল আবেদীন

সংগৃহীত ছবি

জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ঢাকা জেলার সমাবেশ

এই আন্দোলন থামানো যাবে না : জয়নাল আবেদীন

অনলাইন ডেস্ক

আমার কানে একটা কথা এসেছে। আমাদের দলের মধ্যে একটা ভাঙন ধরানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। হালুয়ারুটি দেবে, এই লোভে কিছু লোক চলে যাবে। যদিও আমি এ ধরনের লক্ষণ দেখি না।

তারপরও যা কানে শুনি তাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, আপনারা যদি হালুয়ারুটির লোভের কারণে চলে যান, দলের সাথে বেইমানি করেন, এই বেইমানদের জায়গা বাংলাদেশের মাটিতে হবে না বলে জানিয়েছেন  বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি জয়নাল আবেদীন।

শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে দলের কেন্দ্রীয় কর্মসূচি অনুযায়ি ঢাকা জেলা বিএনপির উদ্যোগে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি এ কথা বলেন।  

নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, বিএনপির বিরুদ্ধে অনেক ষড়যন্ত্র হচ্ছে শুনেছেন। এই দল ভাঙার ষড়যন্ত্র করে ক্ষমতাসীনরা বক্তব্য দিচ্ছে সরকার পতনের জন্য ষড়যন্ত্র হচ্ছে। সরকারকে বলব, এটা সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র না, দেশের মানুষ জেগে উঠেছে। দেশের মানুষ যে আন্দোলন করছে, এটা আপনাদের পতনের আন্দোলন। এই ষড়যন্ত্রের কথা বলে আপনারা থামাতে পারবেন না।   

এই সময় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ও তথ্য মন্ত্রী হাছান মাহমুদের সমালোচনা করে বিএনপির এই নেতা বলেন, আন্দোলনের কী দেখেছেন? এরশাদ নয় বছর ক্ষমতায় ছিল, তখন আমাদের দেশনেত্রীর নেতৃত্বে আন্দোলন সফল হয়েছে। কোনো ষড়যন্ত্র কাজে আসে নাই। আপনারা হচ্ছে বড় স্বৈরাচার, ভাবছেন আপনাদের ক্ষমতা থেকে নামানো যাবে না। শ্রীলঙ্কার কথা স্মরণ করেন। কিভাবে জনগণের আন্দোলনের কাছে হার মেনেছে। আমাদের আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন দেশনায়ক তারেক রহমান, অতএব এই আন্দোলন থামানো যাবে না।  

সরকারের উদ্দেশ্যে জয়নুল আবেদীন বলেন, এই দল জিয়াউর রহমানের দল, খালেদা জিয়ার দল, তারেক রহমানের দল। যত চেষ্টাই করেন এই দলকে ভাঙা যাবে না। এই দল মচকাবে ভাঙবে না।   

সম্প্রতি দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে দল ও জোটের নেতাদের বাড়ি-গাড়িতে হামলার প্রতিবাদে দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শনিবার দেশের সকল জেলা ও মহানগরে সমাবেশ করছে বিএনপি। সমাবেশ সফল করতে স্থায়ী কমিটির সদস্য, ভাইস চেয়ারম্যান, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা, যুগ্ম মহাসচিব এবং সম্পাদক পর্যায়ের ৭৫ নেতাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা সংশ্লিষ্ট জেলা ও মহানগরে অবস্থান করছেন।

ঢাকা জেলা বিএনপির সমাবেশে জেলার সভাপতি ডা. দেওয়ার মো. সালাহউদ্দিনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আবু আশফাকের পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন, কেন্দ্রীয় নেতা তমিজ উদ্দিন, নিপুণ রায় চৌধুরীসহ জেলা ও থানার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।  

গুম খুনের চিত্র তুলে ধরে অ্যাডভোকেট নিপুণ রায় চৌধুরী উপস্থিত বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীর উদ্দেশ্যে বলেন, আপনাদের দিকে দেশের মানুষ তাকিয়ে আছেন। বোন তার ভাইকে হারিয়েছে, মা-বাবা তারা সন্তান হারিয়েছেন, স্ত্রী তার স্বামীকে হারিয়েছেন, সন্তান তার বাবাকে হারিয়েছেন। এসব পরিবার হারানো স্বজনদের অপেক্ষায় পথ চেয়ে আছেন। আশা করে আছেন, এই সরকারের পতনের মধ্যদিয়ে স্বজন হারা পরিবার তার প্রিয় স্বজনের সন্ধান পাবেন। আমরা আমাদের নেতা তারেক রহমানের নেতৃত্বে দুর্বার আন্দোলনের মধ্যদিয়ে সরকারের পতন ঘটিয়ে দেশে গণতন্ত্র, আইনের শাসন, ভোটাধিকার ও  জনগনের সরকার প্রতিষ্ঠা করব। এ জন্য আমাদের আরো প্রস্তুতি নিতে হবে।

news24bd.tv/আলী

;