ইমরান খানের পতনের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত ছিল : সিএম শফি সামি
ইমরান খানের পতনের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত ছিল : সিএম শফি সামি

সংগৃহীত ছবি

ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির ছায়া সংসদ

 

ইমরান খানের পতনের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত ছিল : সিএম শফি সামি

অনলাইন প্রতিবেদক

পাকিস্তানে ইমরান খান সরকারের পতনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত থাকলেও সেনাবাহিনীর সাথে ইমরান সরকারের বিরোধ, শাসন ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং নিজ জোটের অনৈক্যই অনেকাংশে দায়ী। তবে প্রথমবারের মতো সংসদে অনাস্থা প্রস্তাবের মাধ্যমে পাকিস্তানে সরকার পরিবর্তন হয়েছে। এক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্ট শক্ত সাংবিধানিক অবস্থান গ্রহণ করেছে। নবগঠিত শাহবাজ সরকারের অবস্থাও অত্যন্ত নাজুক।

পিএমএলএন ও পিপিপি এই দুটি প্রভাবশালী জোটের বর্তমান ঐক্য কতদিন থাকবে তা দেখার বিষয়। বর্তমান সরকারের দেশ পরিচালনার সক্ষমতা ও জোটবদ্ধতার স্থায়িত্বের ওপর নির্ভর করছে ইমরান খানের ভবিষ্যত রাজনীতির সাফল্য। তবে ইমরান খানের জনপ্রিয়তা রয়েছে এবং তিনি মানুষকে উদ্ভুদ্ধ করার ক্ষমতা রাখেন। অন্যদিকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিদেশি প্রভাব থাকলেও তা কাউকে ক্ষমতায় নিয়ে আসা বা ক্ষমতাচ্যুত করার মত নয়।  

শনিবার (১৪ মে ২০২২) এফডিসিতে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজিত পাকিস্তানের ইমরান খানের সরকার পতনের কারণ নিয়ে এক ছায়া সংসদে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাবেক তত্ববধায়ক সরকারের উপদেষ্টা সি এম শফি সামি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি’র চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ। ইউসিবি পাবলিক পাবলিক শিরোনামে এই প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটিকে পরাজিত করে গ্রীন ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ এর বিতার্কিকরা বিজয়ী হয়। প্রতিযোগিতায় বিচারক ছিলেন অধ্যাপক আবু মোহাম্মদ রইস, ড. এস এম মোর্শেদ, সাংবাদিক ড. শাকিলা জেসমিন ও সাংবাদিক আঙ্গুর নাহার মন্টি। প্রতিযোগিতা শেষে অংশগ্রহণকারী দলের মাঝে ট্রফি ও সনদপত্র বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে সফি সামি আরো বলেন, বাংলাদেশের অবস্থা এখনও শ্রীলঙ্কার মতো হয়নি। তবে পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার বর্তমান অবস্থা থেকে বাংলাদেশের অনেক শিক্ষনীয় রয়েছে। তাই বাংলাদেশে দ্ব›দ্ব-সংঘাতমূলক পরিস্থিতি পরিহার করে রাজনৈতিক সমঝোতায় আসা জরুরী।  

হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, পাকিস্তানের সরকারগুলোর গ্রহণযোগ্যতা জনগণের কাছে যত ভালোই হোক না কেন, সামরিক বাহিনীর প্রত্যক্ষ সমর্থন ছাড়া তারা ক্ষমতায় থাকতে পারে না। পাকিস্তানের ৭৫ বছরের ইতিহাসে ২৫ বছরই সামরিক বাহিনীর শাসন ছিল। বাকি ৫০ বছর বেসামারিক সরকারে নেপথ্যে কলকাঠি নেড়েছে সামরিক বাহিনী। আসলে পাকিস্তানের গণতন্ত্র কখনোই নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারেনি। অদৃশ্য ক্র্যাচের উপর নির্ভর করে পাকিস্তানের সরকার পরিচালিত হচ্ছে। যখনই এই ক্র্যাচটি সরিয়ে নেওয়া হয় তখনই পাকিস্তানের গণতন্ত্র চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে। বরাবরই পাকিস্তান দেশীয় অদৃশ্য শক্তি ও বিদেশি চক্রান্তের শিকার হওয়ায় দেশটি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে ঘুরে দাঁড়াতে পারছে না। তবে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট দেশের গণতন্ত্রকে সুরক্ষিত রাখতে সমালোচনার ঊর্ধ্বে থেকে কাজ করছে।  

news24bd.tv/desk