বিশ্বকাপে প্রথমবার খেলতে নেমেই হারল কাতার
বিশ্বকাপে প্রথমবার খেলতে নেমেই হারল কাতার

গোল উৎসবে ভ্যালেন্সিয়া যখন মাতোয়ারা, তখন আফসোসে পুড়ছে কাতারের ফুটবলাররা -টুইটার

বিশ্বকাপে প্রথমবার খেলতে নেমেই হারল কাতার

অনলাইন ডেস্ক

শক্তিতে প্রায় সমানে-সমান। আগের তিন দেখায়ও কেউ নেই কারও চেয়ে এগিয়ে। কাতার বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে তাই কাতার-ইকুয়েডরের জমপেশ এক লড়াই দেখার অপেক্ষায় ছিল বিশ্ব। তবে ইকুয়েডর তা হতে দিলো না।

গতিময় ফুটবলে প্রথমার্ধেই কাতারকে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেয় দলটি। দ্বিতীয়ার্ধে কোনো গোল না হলেও প্রথমার্ধে খেলা দুর্দান্ত ফুটবল জয় এনে দিলো দলটিকে।

আজ রোববার কাতারের আল বাইত স্টেডিয়ামে স্বাগতিকদের ২-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেছে ইকুয়েডর। দলের জয়ে দুটি গোলই করেছেন ইকুয়েডর অধিনায়ক এনার ভ্যালেন্সিয়া।

জোড়া গোল করলেও নিজের কপালকে দোষ দিতেই পারেন ভ্যালেন্সিয়া। কেননা অফসাইডের কারণে একটি গোল বাতিল না হলে যে প্রথমার্ধেই হ্যাটট্রিকের বিরল কীর্তি গড়ে ফেলতেন তিনি।

জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ খেলতে মাঠে নামে স্বাগতিক কাতার ও ইকুয়েডর। ম্যাচ শুরুর পর দর্শকরা ঠিকঠাক চেয়ারে বসার আগেই গোল করে বসেন ভ্যালেন্সিয়া। ফ্রি-কিক থেকে আসা বল পাঞ্চে ক্লিয়ার করতে গিয়ে ভুল করে বসেন কাতার গোলরক্ষক সাদ আল-শিব। ফলে বল পেয়ে যান ইকুয়েডর ডিফেন্ডার ফেলিক্স তোরেস। তার ওভারহেড কিক থেকে হেডে বল জালে জড়ান ভ্যালেন্সিয়া।

বিশ্বকাপের প্রথম গোল করার আনন্দে সতীর্থদের নিয়ে উদযাপনে মাতেন ইকুয়েডর অধিনায়ক ভ্যালেন্সিয়া। তবে কিছুক্ষণ পর ভিডিও অ্যাসিস্টেন্ট রেফারি (ভিএআর) জানায়, বল ডি বক্সে আসার আগে অফসাইডে ছিলেন এক ইকুয়েডরিয়ান ফুটবলার। ফলে গোলটি বাতিল করে দেন রেফারি। সেই গোল বাতিল হলেও, ভ্যালেন্সিয়ার পা থেকেই আসে কাতার বিশ্বকাপের প্রথম গোল। ১৬ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে ইতিহাসের পাতায় নাম লেখান তিনি।

ম্যাচের ১৫ মিনিটে সেবাস মেন্ডেজের থ্রু বল ধরে ডি বক্সে ঢুকে পড়া ভ্যালেন্সিয়াকে অবৈধভাবে ফেলে দেন আল-শিব। বেশ কাছেই থাকা রেফারি বাজান পেনাল্টির বাঁশি। উপহার পাওয়া পেনাল্টি থেকে ঠাণ্ডা মাথায় আল-শিবকে বোকা বানান এই ফরোয়ার্ড। ম্যাচের দ্বিতীয় গোলটিও করেন ভ্যালেন্সিয়া। এবার হেডে জাল খুঁজে নেন তিনি। ৩১ মিনিটে রাইটব্যাক আনহেলো প্রেসিয়াডোর ক্রস থেকে দারুণ এক হেডে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন তিনি।

ভ্যালেন্সিয়া এ ম্যাচে রীতিমতো যেন উড়ছিলেন। তাকে কিছুতেই থামাতে পারছিলেন না স্বাগতিক ফুটবলাররা। দুই গোল হজমের পর ভ্যালেন্সিয়াকে তাই কড়া ট্যাকল করা শুরু করেন করিম বুদায়িফ, আব্দেল করিম হাসানরা। তাদের আগ্রাসী ফুটবলে প্রথমার্ধে দুইবার গুরুতর ব্যথা পান ভ্যালেন্সিয়া। তবে প্রথমার্ধের পুরোটা খেলেই মাঠ ছাড়েন তিনি।

রেফারির বিরতির বাঁশিতে মাঠ ছাড়ার আগে কাতারের সামনে এসেছিল গোল করার দারুণ এক সুযোগ। যোগ করা সময়ের শেষ মুহূর্তে ডানপ্রান্ত থেকে হাসান আল-হায়দোসের দারুণ ক্রসে খুঁজে নেন ডি বক্সে দাঁড়িয়ে থাকা আলমোয়েজ আলীকে। তবে মাত্র গোললাইনের মাত্র ৬ গজ দূরে দাঁড়িয়ে থেকেও বলে ঠিকঠাক মাথা ছোঁয়াতে পারেননি তিনি। ফলে স্বাগতিকরা পোড়ে আফসোসে। হারায় বিশ্বকাপে প্রথম গোল করার সুযোগ।

২-০ গোলে পিছিয়ে থাকা কাতার দ্বিতীয়ার্ধে তুলনামূলক ভালো ফুটবল খেলেছে। বল নিয়ন্ত্রণে রেখে বেশ কয়েকবার ইকুয়েডর রক্ষণভাগে হানাও দেয়। কিন্তু দুই গোলে এগিয়ে থাকা ইকুয়েডর এই অর্ধে রক্ষণে মন লাগিয়ে খেলে। ফলে সব চেষ্টা বিফলে যায় স্বাগতিকদের। সুযোগ নষ্ট করেছেন কাতারের ফুটবলাররাও। ৮৬ মিনিটে গোল শোধের আরেকটি দারুণ সুযোগ পায় স্বাগতিকরা। তবে ডিফেন্ডার বাসাম আল-রায়ির বাড়ানো লম্বা বল বারের ওপর দিয়ে মারেন বদলি নামা স্ট্রাইকার মোহাম্মেদ মুনতারি। ফলে আরও একবার আক্ষেপে পুড়তে হয় কাতারকে। হারতে হয় ম্যাচও।

news24bd.tv/সাব্বির