ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর এবার চীনে লকডাউন বিরোধী বিক্ষোভ
ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর এবার চীনে লকডাউন বিরোধী বিক্ষোভ

সংগৃহীত ছবি

ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর এবার চীনে লকডাউন বিরোধী বিক্ষোভ

অনলাইন ডেস্ক

মহামারি করোনাভাইরাসের নতুন ঢেউ দেখা দিয়েছে চীনে। জিরো কোভিড নীতি অনুসরণ করেও কোনো লাভ হচ্ছে না, বরং রেকর্ড আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হচ্ছে। এর জেরে বিভিন্ন শহরে লকডাউন দিচ্ছে কর্তৃপক্ষ। এরইমধ্যে দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় জিনজিয়াংয়ের উরুমকি শহরে একটি আবাসিক ভবনে অগ্নিকাণ্ডে ১০ জনের মৃত্যুর হয়েছে।

এরপরই সেখানকার বাসিন্দারা পথে নেমে লকডাউন বিরোধী বিক্ষোভ করেছেন। খবর বিবিসির।

প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানায়, উরুমকি শহরে একটি আবাসিক ভবনে প্রাণঘাতী আগুনে ১০ জনের মৃত্যু হয়। ওই আগুন ছড়িয়ে পড়ে আশেপাশের বিভিন্ন বাড়ির আঙিনায়।

এ অবস্থায় প্রাণ বাঁচাতে বাড়িগুলো থেকে বের হতে থাকে সেখানকার বাসিন্দারা। তবে তাদের বের হতে বাঁধা ও লকডাউনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করায় অনেককে আটক করে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। এরপরেই সেখানে লকডাউন বিরোধী বিক্ষোভ শুরু হয়।

বিক্ষোভের কিছু ভিডিও সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়েছে। ওই সব ভিডিওতে দেখা যায়, স্থানীয় কর্তৃপক্ষের মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে স্থানীয়রা। একটি ব্যারিয়ার ভেঙে তারা চিৎকার করে বলতে থাকেন, ‘কোভিড লকডাউন তুলে নাও। ’

জিরো কোভিড নীতি থাকা সত্ত্বেও চীনে সংক্রমণ নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। করোনার জন্য গত আগস্ট থেকে জিনজিয়াং অঞ্চলের রাজধানী উরুমকিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।

বিবিসি বলছে, লকডাউন বিরোধী বিক্ষোভ দমাতে বিধি নিষেধ প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে উরুমকি কর্তৃপক্ষ। তবে বৃহস্পতিবারের আগুন থেকে বাঁচতে বাড়ি থেকে বের হওয়াদের আটকের বিষয়টি অস্বীকার করেছে তারা।

বিষয়টি নিয়ে বিতর্কিত তথ্য দিয়েছে চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। তবে অগ্নিকাণ্ডের পর ঘটা বিষয়গুলো নিয়ে শুক্রবার ক্ষমা চেয়েছে উরকুমি কর্তৃপক্ষ, যা অস্বাভাবিক বলছে সাধারণ জনগণ।

শুক্রবার রাতে প্রকাশিত হওয়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা যায়, অন্ধকার হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মুখোশ পরে শহরের রাস্তায় জড়ো হচ্ছেন অনেকে। এসময় তাদের স্লোগানের পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে তর্কে জড়াতে দেখা গেছে। তবে ঘটনাটি কোথায় সে বিষয়ে স্পষ্ট হওয়া যায়নি।

এমন একটি ভিডিও দেখা যায়, একজন বিক্ষোভকারীকে হ্যান্ড মাইক নিয়ে স্লোগান দিচ্ছেন। আরেক ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশ ও স্থানীয় কর্মকর্তাদের সামনে একটি ব্যারিয়ার ভেঙে ফেলছে বিক্ষোভকারীরা। শুক্রবার রাতে বিবিসি দ্বারা পর্যবেক্ষিত একটি লাইভ স্ট্রিমেও দেখা গেছে, বিক্ষোভকারীরা একটি সরকারি ভবনের সামনে জড়ো হচ্ছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, চীনে ইন্টারনেট পরিষেবায় ব্যাপকভাবে সেন্সর করা হয়েছে এবং শনিবার সকালের মধ্যে উরুমকির বিক্ষোভের ভিডিওগুলো সোশ্যাল প্ল্যাটফর্ম থেকে সরিয়ে ফেলা হয়।

স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমগুলো বলছে, উরুমকির অগ্নিকাণ্ডে ওই আবাসিক ভবনে ১০ জন নিহত হওয়ার পাশাপাশি অন্তত নয়জন আহত হয়েছেন। বৈদ্যুতিক গোলযোগ থেকে আগুনের সূত্রপাত।

অগ্নিকাণ্ডের পরে সেখানকার বাসিন্দারা দাবি করেন, করোনার লকডাউনের কারণে অগ্নিনির্বাপণ কর্মীদের কাজ বাধাগ্রস্ত হয়েছিল। তা না হলে আরও দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা যেত। তবে বিষয়টি অস্বীকার করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। তারা বলছে, বিল্ডিংয়ের সামনে পার্কিং করা গাড়ির জন্যই অগ্নিনির্বাপণ কাজ বাধাগ্রস্ত হয়েছে।

news24bd.tv/মামুন