বাবুর্চিকে মদ খাইয়ে হত্যা, অতঃপর...

সংগৃহীত ছবি

বাবুর্চিকে মদ খাইয়ে হত্যা, অতঃপর...

কেটারিং ব্যবসায় যুক্ত বেঙ্গালুরুর এক বাবুর্চিকে নির্মমভাবে হত্যা করে দেহ পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠল তার সাবেক অংশীদারসহ তিন জনের বিরুদ্ধে। গত সপ্তাহে তিন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে রোববার জানিয়েছে বেঙ্গালুরু পুলিশ।  

পুলিশ সূত্রে খবর, বেঙ্গালুরুর বাসিন্দা আনন্দ কুমারকে (৩৮) খুনের অভিযোগে সতীশ কুমার, শিবকুমার ওরফে পাট্টা এবং দেবরাজকে ৩ জুলাই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিরিশের কোঠায় থাকা এই অভিযুক্তেরা শহরের চিক্কাবিদারকুল্লু এলাকার বাসিন্দা।

তাদের বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডের প্রমাণ মুছে ফেলার অভিযোগও আনা হয়েছে। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়া ও আনন্দবাজার।  

বেঙ্গলুরু পুলিশের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আট বছর আগে সতীশের সঙ্গে মিলে কেটারিং ব্যবসা খুলেছিলেন আনন্দ। প্রধান শেফ হিসেবে ব্যবসায় যুক্ত ছিলেন তিনি।

মূলত তার রান্নার গুণেই ব্যবসায় মুনাফা হচ্ছিল। ব্যবসা সামলাতে নিজের শ্যালক দেবরাজকে কাজে নিয়োগ দেয় সতীশ। বিভিন্ন কারণে তাদের মধ্যে মনোমালিন্য দেখা দেওয়ায় গত বছর সতীশের থেকে আলাদা হয়ে নিজের কেটারিং ব্যবসা শুরু করেন আনন্দ। এর পরই সতীশের ব্যবসায় ধস নামতে  শুরু করে।

পুলিশের অভিযোগ, আনন্দের তৈরি রান্নার গুণেই পুরোনো গ্রাহকেরা নতুন ক্যাটারিং থেকে খাবারের অর্ডার দিতে শুরু করেছিলেন বলে মনে করতেন সতীশ। লোকসানের আশঙ্কায় আনন্দকে নিজের ব্যবসায় টেনে আনতে চান তিনি। তবে সতীশের প্রস্তাবে রাজি হননি আনন্দ। এর পরেই তাকে হত্যার ছক কষেন সতীশ। এই ষড়যন্ত্রে দেবরাজ ছাড়াও শিবকুমারকে যুক্ত করেন সতীশ। ২ জুলাই আনন্দকে একটি নির্জন জায়গায় নিয়ে যান সতীশরা। সেখানে বসে চার জনে মিলে মদ্যপান করেন। এর পর সেখানেই নেশাগ্রস্ত আনন্দকে খুন করেন তারা। আনন্দের মাথায় বার বার আঘাত করে থেঁতলে দেন সতীশরা। এর পর প্রমাণ নষ্ট করার জন্য তার দেহ পুড়িয়ে দেন।

পুলিশ সূত্রে খবর, স্বামী বাড়ি না ফেরায় পরের দিন নিখোঁজ ডায়েরি করেন আনন্দের স্ত্রী। তদন্তে নেমে একটি দগ্ধ দেহ উদ্ধার করেন পুলিশ কর্মকর্তারা। তবে দেহটি শণাক্ত করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। যে এলাকায় দেহটি উদ্ধার করা হয়েছিল, সেখানকার আশপাশের বিল্ডিংয়ের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে তদন্তকারীরা দেখেন, সতীশদের সঙ্গে ওই এলাকায় যাচ্ছেন আনন্দ। এর পর তাকে খুনের অভিযোগে সতীশদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
News24bd.tv/aa