দেশে ৯৯ ভাগ সুরক্ষা দিচ্ছে অক্সফোর্ডের ২ ডোজের টিকা : গবেষণা
দেশে ৯৯ ভাগ সুরক্ষা দিচ্ছে অক্সফোর্ডের ২ ডোজের টিকা : গবেষণা

দেশে ৯৯ ভাগ সুরক্ষা দিচ্ছে অক্সফোর্ডের ২ ডোজের টিকা : গবেষণা

অনলাইন ডেস্ক

করোনা ভাইরাস থেকে সুরক্ষায় অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার দুই ডোজ টিকা নিলে কোভিডে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেক কমে যায়। টিকা গ্রহণকারীদের করোনা আক্রান্তের হার এক শতাংশের কম। এমনকি টিকা নেওয়ার পর করোনায় আক্রান্ত হলেও টিকা গ্রহণকারীদের অবস্থা সাধারণত গুরুতর হয় না। অক্সিজেন স্যাচুরেশন স্বাভাবিক থাকে।

এ টিকা বিশেষ করে বয়স্ক মানুষের মৃত্যু ঝুঁকি অনেকখানি কমাতে পারে।  

চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিভাসু) শিক্ষকদের গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে। সিভাসু’র একদল গবেষক অক্সফোর্ড-এস্ট্রাজেনেকার টিকা গ্রহণকারী ও টিকা গ্রহণ না করা কভিড-১৯ আক্রান্তদের তুলনামূলক স্বাস্থ্যঝুঁকির মূল্যায়নে গবেষণাটি করেন।

আজ বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিমেল সায়েন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গৌতম বুদ্ধ দাশের নেতৃত্বে নয়জন শিক্ষক এ গবেষণা করেন। অন্যরা হলেন–অধ্যাপক ড. শারমিন চৌধুরী, ডা. মোহাম্মদ খালেদ মোশাররফ হোসেন, ডা. ইফতখোর আহমদে রানা, ডা. ত্রিদীপ দাশ, ডা. প্রনেশ দত্ত, ডা. মো. সিরাজুল ইসলাম ও ডা. তানভীর আহমদ নিজামী।  

এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. গৌতম বুদ্ধ দাশ বলেন, চট্টগ্রামের সিভাসু ও চাঁদপুর কভিড শনাক্তকরণ ল্যাবে গত ২২ এপ্রিল থেকে ২২ জুন পর্যন্ত মোট ১২ হাজার ৯৩৬ ব্যক্তির নমুনা পরীক্ষা করে ২ হাজার ১৩৭ জনের কভিড শনাক্ত হয়। যা শতকরা হার ১৬.৫২। তাদের মধ্যে কাভিড পজিটিভ ব্যক্তিদের মধ্যে কন্টাক্ট ট্রেসিংয়ের মাধ্যমে মোট ১০৯৫ জনের স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট সব তথ্য পর্যবেক্ষণ করে গবেষণায় অর্ন্তভুক্ত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ২ হাজার ১৩৭ পজিটিভ রোগীর মধ্যে ৯৬৮ জন টিকা নেননি। অন্যদিকে, প্রথম ডোজ নিয়েছেন ৬৩ জন এবং ৬৪ জন ১ম ও ২য় ডোজ নিয়েছেন। সেই হিসেবে ১ম ও ২য় ডোজ টিকা গ্রহণকারীদের করোনা আক্রান্তের হার যথাক্রমে ০.৪৮ এবং ০.৪৯ শতাংশ ছিল।

সিভাসু’র উপাচার্য ড. গৌতম বুদ্ধ দাশ জানান, টিকা না নেয়া রোগীদের হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে, এমনকি আইসিইউরও প্রয়োজন হয়েছে। বিপরীতে টিকা গ্রহণকারীরা ছিল ঝুঁকিমুক্ত।

গবেষণার ফলাফলে উল্লেখ করা হয়, আক্রান্ত ২ হাজার ১৩৭ জনের মধ্যে টিকা না নেওয়া ৯৬৮ রোগীর ১৩৭ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করাতে হয়েছে। অথচ ১ম ও ২য় ডোজ টিকা গ্রহণকারীদের মধ্যে যথাক্রমে ৭ ও ৩ জন রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে। অপরদিকে, টিকা গ্রহণ করেননি তাদের মধ্যে অসুস্থ ৮৩ জনের শ্বাসকষ্ট ছিল, এদের মধ্যে ৭৯ জনের অতিরিক্ত অক্সিজেন সার্পোটের প্রয়োজন হয়। তাদের অক্সিজেন স্যাচুরেশনের মাত্রা সর্বনিম্ন ৭০% পরীলক্ষিত হয় গবেষণায়।

অপরদিকে, টিকা নিয়েছে এমন রোগীদের অক্সিজেন স্যাচুরেশন স্বাভাবিক ছিল বলে গবেষণার ফলাফলে উল্লেখ করা হয়। টিকা নিয়েছে এমন পজেটিভ রোগীদের অক্সিজেন স্যাচুরেশন (৯৬.৭%) পাওয়া যায়। এমনকি টিকা নেননি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীর মধ্যে ৭ জনের আইসিইউ সেবার প্রয়োজন হয়। টিকা গ্রহণকারী রোগীদের কোনো ধরনের আইসিইউ সেবার প্রয়োজন হয়নি।

গবেষণায় আরো দেখা যায়, টিকা নেয়নি এমন অনেক রোগী আগে থেকে বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় (কো-মরবিডিটি) ভুগছিলেন, তাদের মধ্যে করোনার সংক্রমণের হার ছিল ৭৬.৭ শতাংশ, যা টিকা গ্রহণকারীদের মধ্যে ১২ শতাংশ দেখা যায়।

সার্বিক বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. গৌতম বুদ্ধ দাশ বলেন, গবেষণার ফলাফল থেকে জনসাধারণের কাছে এ ইতিবাচক বার্তা উপস্থাপন করা যায় যে, সরকার কর্তৃক যে টিকা বিনামূল্যে দেওয়া হচ্ছে, এটি টিকা গ্রহণকারীদের ক্ষেত্রে পুনরায় করোনা আক্রান্তের হার নিন্মমুখী করার পাশাপাশি কেউ যদি কভিডে আক্রান্ত হয় তবে নিঃসন্দেহে তার মৃত্যুঝুঁকি কমাবে বলে আশাবাদী।

তিনি আরো বলেন, এ ছাড়া টিকা যারা নেননি তাদের মধ্যে যারা হাসপাতালে ভর্তি হয়ে মারা গেছেন, তাদের অধিকাংশেরই বয়স পঞ্চাশ বছরের বেশি ছিল। অতএব, জ্যেষ্ঠ নাগরিকদের প্রাথমিকভাবে টিকার আওতায় আনা গেলে করোনার স্বাস্থ্য এবং মৃত্যুঝুঁকি অনেকাংশে কমে আসবে।

news24bd.tv/আলী