দ্রুত ড্যাপ বাস্তবায়নের আশ্বাস স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর

দ্রুত ড্যাপ বাস্তবায়নের আশ্বাস স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর

Other

রাজধানী ঢাকার পরিবেশ ঠিক রেখেই উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে হবে। এক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে রাজউককে ডিজিটাল ও আধুনিক করার তাগিদ দিয়েছেন নগরবিদ ও আবাসন খাত সংশ্লিষ্টরা। শনিবার ঢাকা মহানগরের বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা-ড্যাপ বাস্তবায়ন নিয়ে আয়োজিত জাতীয় সেমিনারে এসব কথা বলেন বক্তারা। তারা বলেন, ড্যাপ বাস্তবায়ন না হওয়ায় অনেক প্রকল্প আটকে আছে, বাঁধাগ্রস্ত হচ্ছে বিনিয়োগ।

তবে সব পক্ষের মতামত যাচাই ও বিশ্লেষণ করে যত দ্রুত সম্ভব ড্যাপ বাস্তবায়ন হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী তাজুল ইসলাম।  

শনিবার, ঢাকা মহানগরের বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা-২০১৬ থেকে ৩৫ বাস্তবায়ন নিয়ে আয়োজিত সেমিনারে অংশ নেন আবাসন ব্যবসায়ী, প্রকৌশলী, রাজউক, সচিব, মন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সব স্টেকহোল্ডার।  সেমিনারে বক্তারা বলেন, আগের ড্যাপ প্রণয়ণে ভুল থাকায় তা আলোর মুখ দেখেনি, যা কাটিয়ে এখনই সময় ড্যাপ বাস্তবায়নের।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ল্যান্ড ডেভেলপার্স অ্যাসোসিয়েশন -বিএলডিএ এর সভাপতি ও দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান বলেন, ’অন্তত পক্ষে ঢাকা শহরে ৫০ হাজার মানুষের প্ল্যান পাশ হচ্ছে না এই ড্যাপের কারণে। এটা এমন কোন জিনিস না যে এটা পরিবর্তন হবে না। এই ড্যাপের রিভিউ কমিটি নিশ্চয় থাকবে। সেই কমিটি যাদের যেখানে অসুবিধা আছে সেটা সমন্বয় করবেন। ’ 

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ(রাজউক) প্রসঙ্গে আহমেদ আকবর সোবহান বলেন, ’রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই আধুনিক করতে হবে। প্ল্যানের বিষয়ে সময় নির্ধারণ করতে হবে। একই সাথে রাজউকে মানুষের ভোগান্তিও কমাতে হবে’।   

 

প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান বলেন, ’ড্যাপটা চুড়ান্ত না হওয়ার কারণে অনেক ধরণের বাধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। সেজন্য আমি মনে করি ড্যাপটা যত দ্রুত সম্ভব বাস্তবায়ন করতে হবে। ’

দৃষ্টিনন্দন, আধুনিক ও বাসযোগ্য নগরীর স্বপ্নপূরণে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর জেলার প্রায় ১৫২৮ বর্গকিলোমিটার এলাকা নিয়ে তৈরি করা হয়েছে বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা-ড্যাপ ২০১৬-২০৩৫। গেল ৫ বছর ধরে চলা পরিকল্পনা ও যাচাই বাছাইয়ের পর অবশেষে ড্যাপ বাস্তবায়ন আলোর মুখ দেখতে পারে এমন আশ্বাস মিলেছে রাজউক আয়োজিত জাতীয় সেমিনারে।

অনুষ্ঠানে, রাজনীতিবিদ, প্রকৌশলী ও নগর পরিকল্পনাবিদদের কণ্ঠেও ছিল অনেকটা একই সুর। ড্যাপ বাস্তবায়ন করতে হবে তবে আর বেশি সময় যেন না নেয়া হয়।

তবে আবাসন মালিকদের সংগঠন রিহ্যাব জানায়, এর আগে ২০১০ সালে ড্যাপ বাস্তবায়নের নামে আবাসন খাত ধ্বংস করার পরিকল্পনা করা হয়। তাই এমন কোন সিদ্ধান্ত যেনো বাস্তবায়ন করা না হয় যাতে সরকারের জনপ্রিয়তা কমে।

আবাসন মালিকদের সংগঠন রিহ্যাব সভাপতি আলমগীর শামসুল আলামিন বলেন, ’যেখানে ৫৩ টি অনন্য সংস্থা জড়িত। সেসকল সংস্থার এক যোগে কাজ করা ছাড়া এই ড্যাপ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না। যদি সেটা না হয়, সে ক্ষেত্রে আমরা যারা এই ব্যবসার সাথে জড়িত তারা কিন্তু ধ্বংস হয়ে যাবো। ’

তবে সব পক্ষের মতামত যাচাই ও বিশ্লেষণ করে যত দ্রুত সম্ভব খসড়া ড্যাপ বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী তাজুল ইসলাম ইসলাম।

পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী তাজুল ইসলাম ইসলাম বলেন, দয়া করে আপনারা সুন্দরভাবে আপনাদের সমস্যা সমুহ উপস্থাপন করুন। আমরা সকলের মতামতকে গুরুত্ব দিয়েই এই ড্যাপ বাস্তবায়নের পথে এগোবো।

news24bd.tv/আলী