সূরা আল কাফিরুন পাঠের ফজিলত

সূরা আল-কাফিরুন পবিত্র কোরআন শরীফের ১০৯ তম সূরা। এই সূরার আয়াত সংখ্যা ৬টি, রুকু আছে ১টি। সূরা আল-কাফিরুন পবিত্র মক্কায় অবতীর্ণ হয়। এই সূরা পবিত্র কোরআন শরীফের ৩০ নম্বর পারায় আছে।  

সূরা আল কাফিরুন পাঠে বিশেষ ফজিলত রয়েছে। কাবা ঘর তাওয়াফের সময় এই সূরা পাঠে ফজিলত রয়েছে। জাবের (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ সূরা কাফিরুন এবং সূরা ইখলাছ কাবা ঘরের তওয়াফ শেষের দু’রাকাআতে পাঠ করতেন। (মুসলিম)

ঘুমানোর পূর্বে সূরা কাফিরুন পাঠে রাসূল সালাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যখন শয্যা গ্রহণ করবে তখন পাঠ করবে ‘কুল ইয়া আইয়্যূহাল কাফেরূন’- শেষ পর্যন্ত তা পাঠ করবে। কেননা উহার মধ্যে শিরক থেকে মুক্ত হওয়ার ঘোষণা রয়েছে। ’ (তবরাণী শরীফ)

ফজর এবং মাগরিবের সালাতের সঙ্গে এই সূরা আদায় করাতে সাওয়াব রয়েছে। ফজরের দুই রাকায়াত সুন্নাতের প্রথম রাকায়াতে সূরা কাফিরুন এবং দ্বিতীয় রাকাআতে সূরা ইখলাছ পড়াতে ফজিলত রয়েছে। একইভাবে মাগরিবের দুই রাকাত সুন্নাত নামাজেও এই সূরা পড়ার ফজিলত রয়েছে।  

হাদিস শরীফে এসেছে হজরত ইবনু ওমর (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের পূর্বের দু’রাকাআতে এবং মাগরিবের পরের দু’রাকাআতে বিশের অধিকবার বা দশের অধিকবার পাঠ করেছেন- ‘কুল ইয়া আইয়্যূহাল কাফেরূন’ এবং ‘কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ। ’ (আহমাদ) 

সূরা কাফিরুনের আরবি উচ্চারণ ও বাংলা অনুবাদ: 

بِسْمِ اللّهِ الرَّحْمـَنِ الرَّحِيمِ   বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু।    قُلْ يَا أَيُّهَا الْكَافِرُونَ   কুল ইয়া আইউহাল কাফিরূন বলুন, হে কাফেরকূল,   لَا أَعْبُدُ مَا تَعْبُدُونَ  লা আ’বুদু মাতাবুদুন আমি এবাদত করিনা, তোমরা যার এবাদত কর।    وَلَا أَنتُمْ عَابِدُونَ مَا أَعْبُدُ ওয়ালা আনতুম আবিদুনা মা আবুদ এবং তোমরাও এবাদতকারী নও, যার এবাদত আমি করি   وَلَا أَنَا عَابِدٌ مَّا عَبَدتُّمْ ওয়া লা আনা আবিদুনা মা আবাদতুম এবং আমি এবাদতকারী নই, যার এবাদত তোমরা কর।    وَلَا أَنتُمْ عَابِدُونَ مَا أَعْبُدُ ওয়ালা আনতুম আবিদুনা মাআবুদ তোমরা এবাদতকারী নও, যার এবাদত আমি করি।    لَكُمْ دِينُكُمْ وَلِيَ دِينِ লাকুম দীনুকুম ওয়ালীয়া দ্বীন তোমাদের কর্ম ও কর্মফল তোমাদের জন্যে এবং আমার কর্ম ও কর্মফল আমার জন্যে।

আরও পড়ুন: সূরা আল আলার ফজিলত

মহান আল্লাহ তায়ালা তাঁর সকল নবী রাসূল এবং আমাদের প্রিয় নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লামের মাধ্যমে একত্ববাদের বাণী প্রচার করিয়েছেন। মহান রাব্বুল আলামীন আল্লাহ ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই; সেই তাওহীদের বাণী আমাদের অন্তরে লালন করতে হবে।  

মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের পবিত্র কোরআন ও হাদিস বুঝে আমল করার তাওফিক দিন। আল্লাহুম্মা আমিন।

news24bd.tv সুরুজ আহমেদ