সড়কে চাঁদাবাজি, তিন ঘণ্টায় ৩২ জনকে ধরল র‌্যাব

সড়কে চাঁদাবাজি, তিন ঘণ্টায় ৩২ জনকে ধরল র‌্যাব

সড়কে চাঁদাবাজি, তিন ঘণ্টায় ৩২ জনকে ধরল র‌্যাব

অনলাইন ডেস্ক

সড়ক ও মহাসড়কে সবজিসহ অন্যান্য পণ্যবাহী গাড়িতে অবৈধভাবে চাঁদা তোলার সময় ৩২ চাঁদাবাজকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বুধবার রাত ১০টা থেকে রাত ১টা পর্যন্ত তিন ঘণ্টার অভিযানে তাদেরকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়। বৃহস্পতিবার র‌্যাব-১ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মুহাম্মদ মুসতাক আহমদ সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান।

র‌্যাব জানিয়েছে, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ এবং গাজীপুরের বিভিন্ন জায়গা থেকে তাদেরকে হাতেনাতে বিভিন্ন আলামতসহ গ্রেপ্তার করা হয়।

নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার অন্যতম কারণ সড়কে চাঁদাবাজি। বিশেষ করে পাইকারি বাজার এবং খুচরা বাজারে সবজির মূল্যে তারতম্য দেখা যায়।

চাঁদা দেওয়ার কারণে পাইকারি বাজারে এসে বেড়ে যাচ্ছে সবজির দাম। যার মাশুল গুনতে হয় সাধারণ ক্রেতাদের।

কিছু কিছু স্থানে র‌্যাব ও ভোক্তা অধিকারের সমন্বয়ে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে সাময়িক সময়ের জন্য নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার স্বাভাবিক থাকলেও পরবর্তীতে আগের মতো উচ্চমূল্যে বিক্রি হচ্ছে।

র‌্যাব-১ এর অধিনায়ক বলেন, র‌্যাবের বিভিন্ন ইউনিটের গোয়েন্দা দল তাদের নিজ নিজ দায়িত্বপ্রাপ্ত এলাকায় পাইকারি বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজির তথ্য উদ্ঘাটনের জন্য কাজ শুরু করে। এর প্রেক্ষিতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের উৎপাদনকারীদের কাছ থেকে পণ্য সংগ্রহ করে ট্রাক বা পণ্যবাহী যানবাহনে পাইকারি ও খুচরা বাজারে পৌঁছানোর সময় পথে নামে বেনামে ভুয়া রশিদ অথবা কখনো কৌশলে বিভিন্ন ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে বিপুল পরিমাণ অর্থ চাঁদাবাজির তথ্য আমরা পাচ্ছি। র‌্যাব-১ গত বুধবার রাত ১০টা থেকে ১টা পর্যন্ত ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ এবং গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে সংঘবদ্ধ পণ্যবাহী গাড়িতে চাঁদাবাজ চক্রের সক্রিয় সদস্যদের গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- রাকিব হাসান রাব্বি, টুটুল ইসলাম, ইমন, মো. ইফসুফ, মো. জোনায়েত, মো. সিয়াম, হাবিবুল্লাহ, জিহাদুর রহমান, জাহিদুল ইসলাম জাহিদ, আকাশ মিয়া, নান্নু হোসেন, মাসুদ, রাজীব সরকার, জাকির হোসেন, আমজাদ হোসেন, ইসমাইল সরকার, শাহেদ সরকার, মোস্তফা, আবুল কালাম, সোহাগ মিয়া, মাসুম, আনিছ মিয়া, রাব্বী, জয়দেব সূত্রধর, ফারুক আহম্মেদ, স্বপন, জুলহাস, মেহেদী হাসান হৃদয়, ইব্রাহীম, আনোয়ার হোসেন বাবু, সবুজ মিয়া, মনির হোসেন।

তাদের কাছ থেকে ১ লাখ ২ হাজার ৮৬৫ টাকা, ছয়টি টর্চলাইট, তিনটি টার্গেট লাইন, একটি চার্জার লাইট, ২৯টি চাঁদা আদায়ের রশিদ, চারটি রিফ্লেক্টিং ভেস্ট জ্যাকেট, দুটি লাঠি, ২৫টি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা চাঁদাবাজির সঙ্গে তাদের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে বলে র‌্যাব জানিয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে লে. কর্নেল মুহাম্মদ মুসতাক আহমদ জানান, তারা ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ এবং গাজীপুরের বিভিন্ন সড়ক ও মহাসড়কে পণ্যবাহী গাড়িতে চাঁদাবাজি করেন। তারা কয়েকটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে প্রতিরাতে বিভিন্ন সড়কে অবস্থান নিয়ে পণ্যবাহী যানবাহন রাজধানীতে প্রবেশের সময় রিফ্লেক্টিং ভেস্ট জ্যাকেট, লেজার লাইট, লাঠি ও বিভিন্ন সংকেতের মাধ্যমে গাড়ি থামিয়ে চালকদের কাছ থেকে অবৈধভাবে চাঁদা আদায় করতেন। কিছু কিছু ক্ষেত্রে তারা চাঁদা আদায়ের রশিদও দিয়ে থাকে। আর চালকরা চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে গাড়ি ভাঙচুর এবং চালক ও তার সহকারীকে মারধরসহ প্রাণনাশের হুমকি দিতেন। তারা প্রতিটি ট্রাক ও পণ্যবাহী যানবাহন থেকে ২০০-৩০০ টাকা চাঁদা আদায় করতেন। পণ্যবাহী কোনো গাড়ি দেখলেই তারা লেজার লাইটের আলো দিয়ে থামিয়ে কৌশলে বিভিন্ন অজুহাতে চাঁদা নিতেন। বিশেষ করে মধ্য রাতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় যখন পণ্যবাহী ট্রাক প্রবেশ করে তখন সড়কে এমন চিত্র শুরু হয়। এভাবে লক্ষাধিক টাকা চাঁদা আদায় করে।

র‌্যাবের এব কর্মকর্তা বলেন, আসন্ন রমজানকে কেন্দ্র করে অবৈধভাবে পণ্য মজুদ করে কারসাজির মাধ্যমে নিত্যপণ্যের বাজার অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করলে র‌্যাব ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাসহ তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। আর যারা কারসাজির মাধ্যমে নিত্যপণ্যের অবৈধ মজুদ করবে তাদের সম্পর্কে তথ্য দিয়ে র‌্যাবকে সহায়তা করতে বলেন তিনি।

news24bd.tv/aa