যে সময় দোয়া পড়লে দ্রুত কবুল হয়

অনলাইন ডেস্ক

যে সময় দোয়া পড়লে দ্রুত কবুল হয়

মানুষ হিসেবে আমরা খুবই দুর্বল। প্রভুর (সৃষ্টিকর্তার) সাহায্য ছাড়া আমাদের কিছুই করার ক্ষমতা নেই। আমাদের সুখে-দুঃখে, বিপদ-আপদে সর্বাবস্থায় অমুখাপেক্ষী সেই মহান রবের দরবারে চাইতে হয়। এই চাওয়াটাকে আমরা দোয়া বলে জানি।

পবিত্র কোরআনের সূরা বাকারার ১৮৬ নং আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আর আমার বান্দা যখন আপনার কাছে আমার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করে; আমি তো কাছেই আছি। আমি দোয়া কবুল করি, যখন সে আমার কাছে দোয়া করে।’ আল্লাহপাক দোয়া কবুল করতে ভালোবাসেন। তার কাছে চাইলে তিনি খুশি হন। এ ব্যাপারে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তোমরা ভয় এবং আশা নিয়ে আল্লাহকে ডাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহর রহমত সৎকর্মশীলদের নিকটবর্তী।’ (সূরা আরাফ : ৫৬)। বান্দামাত্রই চায় আল্লাহ তার দোয়া কবুল করুক। তার ডাক শুনুক। হাদিস শরীফে দোয়া কবুলের সময়, কোন দোয়া আল্লাহ বেশি পছন্দ করেন, তার বিশদ বর্ণনা রয়েছে। তা থেকে আমরা কিছু আলোচনা করতে চেষ্টা করব।

যেই দোয়াগুলো আল্লাহ খুব দ্রুত কবুল করে থাকেন, বেশি কবুল হয় : বান্দা সিজদা অবস্থায় স্বীয় প্রভুর সর্বাধিক নিকটবর্তী হয়। অতএব, তোমরা অধিক মাত্রায় (ঐ অবস্থায়) দোয়া করো। (মুসলিম :৪৮২, নাসায়ী : ১১৩৭, আবু দাউদ : ৮৭৫, আহমাদ : ৯১৬৫)।

যে ব্যক্তি রাতে ঘুম থেকে জেগে উঠে বলে : লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়াহ্’দাহ লা-শারীকালাহু, লাহুল মুলকু, ওয়ালাহুল হামদু, ওয়াহুয়া আ’লা কুল্লি শায়ইন ক্বাদীর। সুবহা’-নাল্লাহি, ওয়ালহা’মদু লিল্লাহি, ওয়া লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু, ওয়াল্লা-হু আকবার। ওয়া লা- হা’ওলা ওয়ালা- ক্বুওয়াতা ইল্লা- বিল্লা-হিল আ’লিয়্যিল আ’যীম। রাব্বিগফির লী”তাকে ক্ষমা করে দেয়া হবে। যদি সে দোয়া করে, তবে তার দোয়া কবুল হবে। যদি সে উঠে অজু করে নামাজ পড়ে, তবে তার নামাজ কবুল করা হবে।

(বুখারী : ফাতহুল বারী : ১১৫৪। সহিহ ইবন মাজাহ্ : ২/৩৩৫)।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞাসা করা হলো, ‘কোন দোয়া সর্বাধিক শোনা (কবুল করা) হয়?’
তিনি বললেন : ‘রাত্রির শেষভাগে এবং ফরজ নামাজসমূহের শেষাংশে।’ (তিরমিযী ৩৪৯৯ : ইমাম তিরমিযী ও শায়খ আলবানীর মতে হাদিসটি হাসান সহীহ)। রাসূলুল্লাহ (সা:) আরো বলেন, ‘প্রতি রাতে যখন রাতের এক-তৃতীয়াংশ অবশিষ্ট থাকে তখন আমাদের প্রতিপালক পৃথিবীর নিকটবর্তী আকাশে অবতরণ করেন। তখন তিনি বলেন, কে আছে আমার কাছে দোয়া করবে আমি কবুল করব? কে আমার কাছে তার যা দরকার প্রার্থনা করবে আমি তাকে তা দিয়ে দেবো? কে আমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবে আমি ক্ষমা করে দেবো।’ (বুখারি : ১১৪৫, মুসলিম)।

রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘আজান ও ইকামতের মধ্যবর্তী সময়ে কৃত দোয়া কখনই ফিরিয়ে দেয়া হয় না।’ (তিরমিজি : ৩৫৯৪, আবু দাউদ : ৫২৫, শায়খ আলবানী ইরওয়াউল গালীল : ১/২৬২)। যেকোনো প্রয়োজনে কোনো মুসলিম যদি দোয়া ইউনুস পড়ে, আল্লাহ তার দোয়া কবুল করবেন।’ (তিরমিযী, সহিহুল জামি : ৩৩৮৩)। অন্য হাদিস অনুযায়ী, দোয়া ইউনুস পড়লে আল্লাহ তার দুশ্চিন্তা দূর করে দেবেন। উচ্চারণ : লা ইলা-হা ইল্লা-আনতা, সুবহা’-নাকা ইন্নি কুনতু-মিনায-যোয়ালিমিন। অর্থ : ‘(হে আল্লাহ) তুমি ছাড়া আর কোনো মা’বুদ নাই, তুমি পবিত্র ও মহান! নিশ্চয়ই আমি জালেমদের অন্তর্ভুক্ত।’ (সূরা আল-আম্বিয়া : ৮৭)। দুটো সময় এমন যাতে দোয়া ফেরত দেয়া হয় না অথবা খুব কম ফেরত দেয়া হয়। আজানের সময়ের দোয়া এবং যখন যুদ্ধের জন্য মুজাহিদগণ শত্রুর মুখোমুখি হয়।’ (আবু দাউদ, সহীহুল জামি : ৩০৭৯)।

বৃষ্টির সময়ে দোয়া : রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন : দু’টি বিষয় আছে এমন যেগুলো ফিরিয়ে দেয়া হয় না, আজানের সময় দোয়া ও বৃষ্টির সময়ে দোয়া। (আবু দাউদ, সহীহুল জামি : ৩০৭৮)। ‘যখন তোমরা মোরগের ডাক শুনবে, তখন তোমরা আল্লাহ্র অনুগ্রহ চাইবে, কেননা সে একটি ফেরেশতা দেখেছে। আর যখন তোমরা কোনো গাধার স্বর শুনবে, তখন শয়তান থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইবে, কেননা সে শয়তান দেখেছে। (বুখারি : ৩৩০৩, মুসলিম : ২৭২৯)।

এ ছাড়াও লাইলাতুল ক্বদরের সময় দোয়া, যমযম পানি পান করার আগে দোয়া, মজলুমের দোয়া, সন্তানের জন্য পিতার দোয়া, আরাফার দোয়া, অসহায় বিপদগ্রস্তের দোয়া, রোজাদারের দোয়া, ইফতারির আগের দোয়া, জুমার দিনে বিশেষ একটা সময়ের দোয়া, অনুপস্থিত মুসলিমের জন্য যে দোয়া করা হয়; সেটাও তার জন্য কবুল করা হয়।-মুফতি আবু আব্দুল্লাহ 


যে দোয়া পড়লে কখনো বিফলে যায় না!

কঠিন বিপদ থেকে রক্ষা পেতে যে দোয়া পড়বেন!


news24bd.tv কামরুল

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

দোজখের আগুন থেকে বাঁচতে ছোট্ট একটি আমল

অনলাইন ডেস্ক

দোজখের আগুন থেকে বাঁচতে ছোট্ট একটি আমল

আল্লাহ তাআলা মানুষকে তার ইবাদাতের জন্য সৃষ্টি করেছেন। যারা সঠিক উপায়ে তার হুকুম-আহকাম তথা ফরজগুলো পালন করবে তাদের সব নফল ইবাদতের মাধ্যমে তাঁদের মর্যাদা বেড়ে যাবে। আল্লাহ তাআলা মুমিন বান্দাকে জাহান্নামের আজাব থেকে মুক্তির জন্য রহমত বর্ষণ করবেন।

হাদিসে পাকে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এমনই একটি ছোট্ট আমল ও দোয়ার কথা বলেছেন। যে দোয়ার নিয়মিত আমলে জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি মিলবে। হাদিসে এসেছে-

হজরত আল-হারিস ইবনু মুসলিম আত্‌-তামীমী রাদিয়াল্লাহু আনহু তার পিতার সূত্র বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে চুপে চুপে বলেন, ‘যখন তুমি মাগরিবের নামাজ থেকে অবসর হয়ে সাতবার বলবে-

اللَّهُمَّ أَجِرْنِي مِنَ النَّارِ

উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা আঝিরনি মিনান নার।
অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আমাকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা কর।’


যে দোয়া পড়লে বিশ্ব নবীর সঙ্গে জান্নাতে যাওয়া যাবে!

খুলনায় সওজ কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচি, ক্ষোভ

৭ই মার্চের অনুষ্ঠান থেকে বেড়িয়ে গেলেন অথিতিরা

সালমান খানের তোয়ালে পরা ছবি ভাইরাল


তুমি তা বলার পর ওই রাতে মারা গেলে তোমার জন্য জাহান্নাম থেকে মুক্তি লেখা হবে। আর যখন তুমি ফাজরের নামাজ শেষ করবে তখনও অনুরূপ বলবে। অতঃপর তুমি যদি ওই দিন মারা যাও তাহলে তোমার জন্য জাহান্নাম থেকে মুক্তি লেখা হবে।’ (আবু দাউদ, মুসনাদে আহমাদ, ইবনে হিব্বান)

মুহাম্মাদ ইবনু শুআইব রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, আবূ সাঈদ রাহমাতুল্লাহি আলাইহি আমাকে আল-হারিস রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে জানিয়েছেন, তিনি বলেছেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে তা চুপে চুপে বলেছেন, যাতে আমি আমার ভাইদের কাছে তা বিশেষভাবে প্রচার করি।’

সুতরাং মুসলিম উম্মাহর উচিত, ফজর ও মাগরিবের নামাজের পর এ দোয়াটি ৭ বার পড়া। আল্লাহ তাআলা হাদিসের সহজ আমল ও ছোট্ট মাসনুন দোয়ার মাধ্যমে তাঁর হুকুম-আহকাম পালনের পাশাপাশি জাহান্নাম থেকে মুক্তি লাভের তাওফিক দান করুন। আমিন।

news24bd.tv / কামরুল 

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

যে দোয়া পড়লে বিশ্ব নবীর সঙ্গে জান্নাতে যাওয়া যাবে!

অনলাইন ডেস্ক

যে দোয়া পড়লে বিশ্ব নবীর সঙ্গে জান্নাতে যাওয়া যাবে!

যারা বিশ্ব নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের একান্ত আশেক, তারা বিশ্ব নবীর সঙ্গেই জান্নাতে যেতে চান। হাদিসে পাকে এমনই একটি দোয়ার আমলের কথা বর্ণনা করেছেন তিনি। যে দোয়ার আমলে মুমিন মুসলমান তাঁর সঙ্গে জান্নাতে যেতে পারবেন। 

তাহলো-

হজরত মুনজির রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি প্রতিদিন সকালে এ দোয়াটি পড়বে-

رَضِيتُ بِاللَّهِ رَبًّا وَبِالإِسْلاَمِ دِينًا وَبِمُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم نَبِيًّا

উচ্চারণ : রদিতু বিল্লাহি রাববাও ওয়া বিল-ইসলামি দিনাও ওয়া বি-মুহাম্মাদিন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা নাবিয়্যা।’

অর্থ : আমি আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট আমার প্রতিপালক হিসেবে এবং ইসলামের প্রতি সন্তুষ্ট আমার দ্বীন হিসেবে এবং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি সন্তুষ্ট আমার নবী হিসেবে।’

বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, আমি তার দায়িত্ব নিলাম। কেয়ামতের দিন আমি তাকে তার হাত ধরে জান্নাতে নিয়ে যাব।’ (মুজামে কাবির, মুজামুস সাহাবাহ)

সুতরাং মুমিন মুসলমানের উচিত, হাদিসের নির্দেশনা অনুযায়ী মুমিন বান্দার জন্য বিশ্বনবির সঙ্গে জান্নাতে যাওয়ার সৌভাগ্য লাভে সহজ এ আমলটি যথা সময়ে আদায় করা।

------------------------------------------------------------

সন্তান লাভের জন্য যে দোয়া পড়বেন!

চাকরির জন্য আল্লাহর কাছে যে দোয়া পড়বেন

যে দোয়া পড়লে মনের আসা কবুল হয়

যারা বিনা হিসাবে জান্নাতে যাবে

যে দোয়া পড়লে কখনো বিফলে যায় না!

যে সময় দোয়া পড়লে দ্রুত কবুল হয়

কঠিন বিপদ থেকে রক্ষা পেতে যে দোয়া পড়বেন!

যাদের দোয়া দ্রুত কবুল হয়

-----------------------------------------------------------------

news24bd.tv / কামরুল 

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

ঋণ মুক্তির দোয়া

অনলাইন ডেস্ক

ঋণ মুক্তির দোয়া

ঋণ মানুষের জন্য মারাত্মক বোঝা। এ ঋণগ্রস্ততা মানুষের দুশ্চিন্তা, অশান্তি ও অনৈতিকতার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এজন্য মুমিন মুসলমানের উচিত, আল্লাহ তাআলার কাছে ঋণ থেকে আশ্রয় চাওয়া। বেশি বেশি এ দোয়া করা যে, তিনি যেন ঋণ গ্রহণ ছাড়াই সব প্রয়োজন পূরণ করে দেন।

যেভাবে আশ্রয় চাইতেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।  হাদিসে এসেছে- একবার হযরত আলী রা. এর কাছে এক ব্যক্তি তার ঋণ পরিশোধের জন্য কিছু সাহায্য চায়। এ সময় আলী রা. তাকে বলেন, আমি কি তোমাকে কয়েকটি শব্দ শিক্ষা দেবো, যা আমাকে রাসূলুল্লাহ সা. শিক্ষা দিয়েছেন?


অনুমোদনের অপেক্ষায় সিএমপির ছয় থানা

৩৩৭ জনকে উপসচিব পদে পদোন্নতি

আটকে গেল ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার লড়াই

শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে জখম মাদ্রাসার শিক্ষক প্রেপ্তার


যদি তুমি এটা পাঠ করো, তাহলে আল্লাহই তোমার ঋণমুক্তির ব্যাপারে দায়িত্ব নেবেন, যদি তোমার ঋণ পর্বতসমানও হয়। এরপর আলি রা. ওই ব্যক্তিকে এই দোয়া পড়তে বলেছিলেন। (তিরমিজি, হাদিস: ৩৫৬৩, আহমদ, হাদিস: ১৩২১)।

দোয়া-

আরবি:
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْهَمِّ وَالْحَزَنِ، وَالْعَجْزِ وَالْكَسَلِ، وَالْبُخْلِ وَالْجُبْنِ، وَضَلَعِ الدَّيْنِ وَغَلَبَةِ الرِّجَالِ

বাংলা উচ্চারণ:

আল্লা-হুম্মা ইন্নী আ‘উযু বিকা মিনাল হাম্মি ওয়াল হাযানি, ওয়া আ‘ঊযু বিকা মিনাল-‘আজযি ওয়াল-কাসালি, ওয়া আ‘ঊযু বিকা মিনাল-বুখলি ওয়াল-জুবনি, ওয়া আ‘ঊযু বিকা মিন দ্বালা‘য়িদ্দাইনি ওয়া গালাবাতির রিজা-ল।

বাংলা অর্থ:
 ‘হে আল্লাহ! নিশ্চয় আমি আপনার আশ্রয় নিচ্ছি দুশ্চিন্তা ও দুঃখ থেকে, অপারগতা ও অলসতা থেকে, কৃপণতা ও ভীরুতা থেকে, ঋণের ভার ও মানুষদের দমন-পীড়ন থেকে। (বুখারি, ৭/১৫৮, ২৮৯৩)।

news24bd.tv নাজিম

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

নামাজের গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাত সমূহ

অনলাইন ডেস্ক

নামাজের গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাত সমূহ

নামাজকে দ্বীনের খুটি বলা হয়। খুঁটি ছাড়া যেমন ঘর হয় না, তদ্রুপ নামাজ ছাড়া দ্বীন পরিপূর্ণ হয় না। নামাজের ফরজ ও ওয়াজিবগুলো কি তা এরইমধ্যে আমাদের ‘ধর্ম ও জীবন’ অনুচ্ছেদে তুলে ধরা হয়েছে। নামাজের মধ্যে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ অনেক সুন্নাত কাজ। এখানে তা তুলে ধরা হলো-

০১. তাকবিরে তাহরিমার সময় উভয় হাত কানের লতি পর্যন্ত ওঠানো এবং উভয় হাতের আঙ্গুলগুলো স্বাভাবিকভাবে কিবলামুখী ও খুলে (খাড়া) রাখা।
০২. পুরুষের নাভী ও মহিলাদের বুকের উপর হাত বাধা। ডান হাতের তালু বাম হাতের পিঠের ওপর রাখা। ডান হাতের বৃদ্ধাঙ্গুল ও কনিষ্ঠাঙ্গুল দিয়ে বাম হাতের কব্জি ধরা। বাকি আঙ্গুলগুলো বাম হাতের ওপর বিছিয়ে রাখা। মহিলারা ডান হাতকে বাম হাতের উপর রাখবে। কব্জি ধরতে হবে না।
০৩. তাকবিরে তাহরিমার সময় মস্তক অবনত না করা।
০৪. তাকবিরে তাহরিমাসহ এক রুকন হতে অন্য রুকনে যাওয়ার সময় ইমামের উচ্চ স্বরে আল্লাহু আকবার বলা।
০৫. তাকবিরে তাহরিমার পর ছানা পড়া।
০৬. প্রথম রাকাআতে ছানার পর আউজুবিল্লাহু পড়া।
০৭. প্রত্যেক রাকাআতে সুরা ফাতিহার পর বিসমিল্লাহ পড়া।
০৮. সুরা ফাতিহা শেষ হওয়ার পর আমিন বলা।
০৯. ফরজ নামাজের তৃতীয় ও চতুর্থ রাকাআতে শুধুমাত্র সুরা ফাতিহা পড়া।
১০. কিরাআত তথা সুরা মিলানোয় মাসনুন তরিকা অবলম্বন করা।
১১. রুকু ও সিজদায় কমপক্ষে তিনবার করে তাসবিহ পড়া।
১২. রুকুতে মাথা, পিঠ এবং কোমর সোজা রেখে দু`হাতের আঙ্গুল দিয়ে হাঁটু ধরা।
১৩. কাওমা অর্থাৎ রুকু থেকে দাঁড়ানোর  সময় ইমাম সামিআল্লাহু লিমান হামিদা এবং মুক্তাদির রাব্বানা লাকাল হামদ বলা।
১৪. সিজদায় যেতে প্রথমে হাঁটু, তারপর হাত, তারপর নাম এবং কপাল রাখা।
১৫. জালসা তথা বসা অবস্থায় দু`হাত হাটুর উপর রাখা। বাম পা বিছিয়ে পায়ের উপর বসা আর ডান পা এমনভাবে খাড়া রাখা যেন আঙ্গুলগুলোর মাথা কিবলামুখী থাকে।
১৬. আত্তাহিয়াতু পড়ার সময় লাইলাহা বলতে হাতের শাহাদাত আঙ্গুল দ্বারা ইশারা করা।
১৭. আত্তাহিয়াতুর পর দরূদ পড়া।
১৮. দরূদের পর দোয়া মাসুরা পড়া।
১৯. প্রথমে ডানে এবং পরে বামে সালাম ফিরানো।

news24bd.tv আহমেদ

আরও পড়ুন:


সূরা মুহাম্মদের বিষয়বস্তু ও মূল বক্তব্য

আজ ঐতিহাসিক ৭ মার্চ

একদিন পরই সুর পাল্টালেন এমপি একরাম

প্রথমবারের মতো ৭ ই মার্চ উদযাপিত হবে জাতীয় দিবস হিসাবে


 

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

সূরা মুহাম্মদের বিষয়বস্তু ও মূল বক্তব্য

অনলাইন ডেস্ক

সূরা মুহাম্মদের বিষয়বস্তু ও মূল বক্তব্য

সূরা মুহাম্মদ পবিত্র কুরআনের ৪৭তম সূরা। এর আয়াত সংখ্যা ৩৮। সূরাটি হিজরতের পরে মদীনায় নাযিল হয়েছিল। সূরা মুহাম্মদের ২ নম্বর আয়াতের অংশ থেকে এই সূরার নামকরণ করা হয়েছে। অর্থাৎ এটি সেই সূরা যার মধ্যে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মহান নামটি উল্লেখিত হয়েছে। এ ছাড়া এ সূরার আরো একটি বিখ্যাত নাম “কিতাল”। এ নামটি ২০নং আয়াত থেকে গৃহীত হয়েছে।

বিষয়বস্তু ও মূল বক্তব্য

সূরাটি নাযিল করা হয়েছিল ঈমানদারদেরকে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত করার জন্য। এ বিষয়ে প্রাথমিক পথনির্দেশনা দেয়াই এর আলোচ্য ও বক্তব্য। এ দিকটি বিচার করে এর নাম “সূরা কিতাল”ও রাখা হয়েছে।

সূরার প্রথমেই বলা হয়েছে যে, এখন দুটি দলের মধ্যে মোকাবিলা হচ্ছে। এ দুটি দলের মধ্যে একটি দলের অবস্থান এই যে, তারা সত্যকে মেনে নিতে অস্বীকার করেছে এবং আল্লাহর পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু অপর দলটির অবস্থান হলো, আল্লাহ তা’আলার পক্ষ থকে তাঁর বান্দা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর যে সত্য নাযিল হয়েছিল তা তারা মেনে নিয়েছে। এখন আল্লাহ তা’আলার সুস্পষ্ট সিদ্ধান্ত হলো, প্রথমোক্ত দলটির সমস্ত চেষ্টা-সাধনা ও কাজ-কর্ম তিনি নিষ্ফল করে দিয়েছেন এবং শেষোক্ত দলটির অবস্থা সংশোধন করে দিয়েছেন।

এরপর মুসলমানদের সামরিক বিষয়ে প্রাথমিক নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তাদেরকে আল্লাহর সাহায্য ও দিকনির্দেশনার নিশ্চয়তা দেয়া হয়েছে। আল্লাহর পথে কুরবানী পেশ করার জন্য তাদেরকে সর্বোত্তম প্রতিদানের আশ্বাস দেয়া হয়েছে। তাদের এ বলে সান্ত্বনা দেয়া হয়েছে যে, ন্যায় ও সত্যের পথে তাদের প্রচেষ্টা বৃথা যাবে না। বরং দুনিয়া ও আখেরাত উভয় জায়গাতেই তারা ক্রমান্বয়ে এর অধিক ভাল ফল লাভ করবে।

তারপর কাফেরদের সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, তারা আল্লাহর সাহায্য ও দিকনির্দেশনা থেকে বঞ্চিত। ঈমানদারদের বিরুদ্ধে তাদের কোন প্রচেষ্টাই কার্যকর হবে না। তারা দুনিয়া ও আখেরাত উভয় ক্ষেত্রেই অত্যন্ত খারাপ পরিণামের সুম্মুখীন হবে। তারা আল্লাহর নবীকে মক্কা থেকে বের করে দিয়ে মনে করেছিলো, যে, তারা বড় রকমের সফলতা লাভ করেছে। অথচ এ কাজ করে তারা প্রকৃতপক্ষে নিজেরা নিজেদের জন্য বড় রকমের ধ্বংস ডেকে এনেছে।

এরপর মুনাফিকদের উদ্দেশ্য করে কথা বলা হয়েছে। যুদ্ধের নির্দেশ আসার পূর্বে এসব মুনাফিক নিজেদেরকে বড় মুসলমান বলে জাহির করতো। কিন্তু এ নির্দেশ আসার পরে তারা ঘাবড়ে গিয়ে নিজেদের নিরাপত্তা ও কল্যাণ চিন্তায় কাফেরদের সাথে ষড়যন্ত্র করতে শুরু করেছিল যাতে তারা নিজেদেরকে যুদ্ধের বিপদ থেকে রক্ষা করতে পারে। তাদেরকে স্পষ্টভাবে সাবধান করে দেয়া হয়েছে যে, যারা আল্লাহ এবং তাঁর দীনের সাথে মুনাফিকীর আচরণ করে তাদেরকে কোন আমলই আল্লাহর কাছে গৃহীত হয় না। এখানে যে মৌলিক প্রশ্নে ঈমানের দাবীদার প্রতিটি ব্যক্তির পরীক্ষা হচ্ছে তা হলো, সে ন্যায় ও সত্যের সাথে আছে না বাতিলের সাথে আছে? তার সমবেদনা ও সহানুভূতি মুসলমান ও ইসলামের প্রতি না কাফের ও কুফরীর প্রতি। সে নিজের ব্যক্তি সত্তা ও স্বার্থকেই বেশী ভালবাসে না কি যে ন্যায় ও সত্যের প্রতি ঈমান আনার দাবী সে করে তাকেই বেশী ভালবাসে? এ পরীক্ষায় যে ব্যক্তি মেকী প্রমাণিত হবে আল্লাহর কাছে তার নামায, রোযা এবং যাকাত কোন প্রতিদান লাভের উপযুক্ত বিবেচিত হওয়া তো দূরের কথা সে আদৌ ঈমানদারই নয়।

আরও পড়ুন:


আজ ঐতিহাসিক ৭ মার্চ

একদিন পরই সুর পাল্টালেন এমপি একরাম

প্রথমবারের মতো ৭ ই মার্চ উদযাপিত হবে জাতীয় দিবস হিসাবে

ভাসানচর পুরোপুরি নিরাপদ ও বাসযোগ্য এক দ্বীপ


অতপর মুসলমানদের উপদেশ দেয়া হয়েছে যে, তারা যেন নিজেদের সংখ্যাল্পতা ও সহায় সম্বলহীনতা এবং কাফেরদের সংখ্যাধিক্য ও সহায় সম্বলের প্রাচুর্য দেখে সাহস না হারায় এবং তাদের সাছে সন্ধির প্রস্তাব দিয়ে নিজেদের দুর্বলতা প্রকাশ না করে। এতে ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে তাদের দুঃসাহস আরো বেড়ে যাবে। বরং তারা যেন আল্লাহর ওপর নির্ভর করে বাতিলকে রুখে দাঁড়ায় এবং কুফরের এ অগ্রাসী শক্তির সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। আল্লাহ মুসলমানদের সাথে আছেন। তারাই বিজয়ী হবে এবং তাদের সাথে সংঘাতে কুফরী শক্তি চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যাবে।

সর্বশেষে মুসলমানদেরকে আল্লাহর পথে অর্থ ব্যয় করার আহবান জানানো হয়েছে। যদিও সে সময় মুসলমানদের আর্থিক অবস্থা অত্যন্ত নাজুক ছিল। কিন্তু সামনে প্রশ্ন ছিল এই যে, আরবে ইসলাম এবং মুসলমানরা টিকে থাকবে কি থাকবে না। এ প্রশ্নের গুরুত্ব ও নাজুকতার দাবী ছিল এই যে, মুসলমানরা নিজেদেরকে এবং নিজেদের দীনকে কুফরের আধিপত্যের হাত থেকে রক্ষা করার এবং আল্লাহর দীনের বিজয়ী করার জন্য তাদের জীবন কুরবানী করবে এবং যুদ্ধ প্রস্তুতিতে নিজেদের সমস্ত সহায় সম্পদ যথা সম্ভব অকৃপণভাবে কাজে লাগাবে। সুতরাং মুসলমানদের উদ্দেশ্য করে বলা হয়েছে যে, এ মুহুর্তে যে ব্যক্তি কৃপণতা দেখাবে সে প্রকৃতপক্ষে আল্লাহর কোন ক্ষতিই করতে পারবে না , বরং নিজেদের ধ্বংসের মধ্যে নিক্ষেপ করবে। আল্লাহ মানুষের মুখাপেক্ষী নন। কোন একটি দল বা গোষ্ঠী যদি তার দীনের জন্য কুরবানী পেশ করতে টালবাহানা করে তাহলে আল্লাহ তাদের অপসারণ করে অপর কোন দল বা গোষ্ঠীকে তাদের স্থলাভিষিক্ত করবেন।

news24bd.tv আহমেদ

মন্তব্য

পরবর্তী খবর