ছোট ভাইয়ের মৃত্যুর পর তার স্ত্রীকে অন্তঃসত্ত্বা করলো ভাসুর!
ছোট ভাইয়ের মৃত্যুর পর তার স্ত্রীকে অন্তঃসত্ত্বা করলো ভাসুর!

নিহত ইকবাল মোল্লার বড়ভাই মঞ্জুর মোল্লা। ছবি: সংগৃহীত

ছোট ভাই হত্যার ৮ মাস

ছোট ভাইয়ের মৃত্যুর পর তার স্ত্রীকে অন্তঃসত্ত্বা করলো ভাসুর!

অনলাইন ডেস্ক

স্বামী ইকবাল মোল্লা মারা যাওয়ার ৮ মাস পর স্ত্রী লাকি বেগম ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা হন। স্বামী মারা যাওয়ার পর অন্তঃসত্ত্বা হওয়াতে লাকি বেগমের সাথে ভাসুর মঞ্জুরের অবৈধ সম্পর্কের কথা এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে এলাকাবাসীর চাপের মুখে লাকী বেগম স্বীকার করতে বাধ্য হয়, তার স্বামী ইকবালের বড়ভাই মঞ্জুর মোল্লার সঙ্গেই শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হওয়ায় তিনি গর্ভবতী হয়েছেন।

ঘটনাটি ঘটেছে মাদারীপুরের রাজৈরে।

লাকি বেগমের সাথে অবৈধ সম্পর্কের বিষয়টি ধামাচাপা দিতে বিভিন্নভাবে চেষ্টা চালায় মঞ্জুর। একপর্যায়ে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে লাকীকে থামানোর চেষ্টা করে মঞ্জুর। তবে শেষপর্যন্ত বিয়ে না করায় মাদারীপুর সদর থানায় একটি ধর্ষণ মামলা করেন ৩ সন্তানের জননী লাকী বেগম। এদিকে এলাকাবাসীর দাবি- হয়তো মঞ্জুর ও লাকীর পরকীয়ার কারণেই লাকি বেগমের স্বামী ইকবাল খুন হয়েছেন।  

বুধবার (১৭ মার্চ) গভীর রাতে সদর উপজেলার শ্রীনদী থেকে মঞ্জুরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

গ্রেপ্তার আগে আসামি মঞ্জুর মোল্লা বলেন, আমাদের এই সম্পর্ক ভাইয়ের মৃত্যুর ৩ মাস পর থেকে আমাদের মধ্যে গড়ে ওঠে। তবে গর্ভের বাচ্চার ব্যাপারে আমি কিছু জানি না।

পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার উমারখালী গ্রামের সুন্দর আলী মোল্লার ২ ছেলে মঞ্জুর মোল্লা (৪৫) ও ইকবাল মোল্লা (৪০)। বড় ছেলে মঞ্জুর তার স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ঢাকায় বসবাস করেন এবং মাঝে মধ্যে বাড়িতে আসা-যাওয়া করেন। ছোট ছেলে ইকবাল তার দ্বিতীয় স্ত্রী লাকী ও ৩ সন্তান নিয়ে নিজ বাড়িতে থেকে সুদের টাকা আদান-প্রদান করতো। কিন্তু ইকবাল খুন হওয়ার পর থেকে স্ত্রী-সন্তান ঢাকায় রেখে গ্রামের বাড়িতে এসে পিতাসহ ছোট ভাইয়ের পরিবারের সঙ্গে থাকা শুরু করে মঞ্জুর।


অনলাইনে পণ্য ডেলিভারি বিলম্বে করা যাবে মামলা

স্বামীর দাবীতে প্রথম বউয়ের বাড়িতে দ্বিতীয় বউ

সামাজিক মাধ্যম ছাড়ার ঘোষণা আমিরের

সাধ্যের মধ্যে ৮ জিবি র‍্যামের রেডমি ফোন


এদিকে লাকী অন্তঃসত্ত্বা হওয়াতে জনসম্মুখে প্রকাশ পায় তাদের অবৈধ সম্পর্কের সম্পর্কের ঘটনা। পরে ভাসুর মঞ্জুরের কাছে সন্তানদের পিতৃপরিচয় দাবি করেন নিহত ইকবালের দ্বিতীয় স্ত্রী লাকী। এতেই বাধে বিপত্তি। সেই প্রস্তাবে ভাসুর রাজি না হওয়াতে  ধর্ষণের মামলা করেন লাকি আক্তার।

এ বিষয়ে নিহত ইকবালের প্রথম স্ত্রী মুর্শিদা বেগম অভিযোগ করে বলেন, আমার স্বামী জীবিত থাকতেই তাদের মধ্যে অবৈধ সম্পর্ক ছিল। তারাও আমার স্বামী হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। এ বিষয়ে আমি মামলা করব।

উল্লেখ্য, গত বছরের ২২ জুন সন্ধ্যায় ইকবাল বাড়ি থেকে নিজের মোটরসাইকেল নিয়ে বের হয়ে রাতে আর বাড়ি ফেরেননি। পরদিন সকালে  একটি ফসলি জমি থেকে ইকবালের ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটিও উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় নিহত ইকবালের বড়ভাই (বর্তমানে ছোট ভাইয়ের স্ত্রীর দেয়া ধর্ষণ মামলায় আটককৃত আসামি) মঞ্জুর বাদী হয়ে রাজৈর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় উপজেলার ইশিবপুর ইউনিয়নের শাখারপাড়ের ২ জনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে প্রেরণ করে পুলিশ।

news24bd.tv/আলী

;