নামাজের সালাম ফেরানোর পর যেসব দোয়া-তাসবিহ পড়তেন নবীজি

অনলাইন ডেস্ক


নামাজের সালাম ফেরানোর পর যেসব দোয়া-তাসবিহ পড়তেন নবীজি

নামাজের সালাম ফেরানোর পর প্রিয়নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কিছু সময় দোয়া ও তাসবিহ পড়তেন। হাদিসে এসেছে-

হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন নামাজের সালাম ফেরাতেন, তখন এ দোয়া পাঠ করা পরিমাণ সময়ের বেশি বসে থাকতেন না। (আর তাহলো)-
اَللهُمَّ اَنْتَ السَّلَامُ وَ مِنْكَ السَّلَامُ تَبَرَكْتَ يَا ذَا الْجَلَالِ وَالْاِكْرَامِ
উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা আংতাস সালামু ওয়া মিনকাস সালামু তাবারাকতা ইয়া জাল ঝালালি ওয়াল ইকরাম।’

অর্থ : হে আল্লাহ! আপনি নিজেই শান্তিময়। আর আপনার কাছ থেকেই শান্তি আসে। হে প্রতাপশালী ও সম্মানের অধিকারী! তুমি বরকতময়।’ (মুসলিম)

অন্য হাদিসে এসেছে, নামাজ শেষে প্রিয়নবি বলতেন-

হজরত ছাওবান রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন নামাজ শেষ করতেন, তখন ৩বার ইসতেগফার করতেন-
اَسْتَغْفِرُ الله

উচ্চারণ : আসতাগফিরুল্লাহ

আরও পড়ুন:

 ক্ষমতা হারানোর পথে নেতানিয়াহু

অর্থ : হে আল্লাহ! ক্ষমা করুন। অতঃপর বলতেন-

اَللهُمَّ اَنْتَ السَّلَامُ وَ مِنْكَ السَّلَامُ تَبَرَكْتَ يَا ذَا الْجَلَالِ وَالْاِكْرَامِ

উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা আংতাস সালামু ওয়া মিনকাস সালামু তাবারাকতা ইয়া জাল ঝালালি ওয়াল ইকরাম।’

অর্থ: হে আল্লাহ! আপনি নিজেই শান্তিময়। আর আপনার কাছ থেকেই শান্তি আসে। হে প্রতাপশালী ও সম্মানের অধিকারী! তুমি বরকতময়।’ (মুসলিম)

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

সুরা নাসের বাংলা উচ্চারণ ও অর্থ

অনলাইন ডেস্ক

সুরা নাসের বাংলা উচ্চারণ ও অর্থ

সূরা আন-নাস (আরবি: سورة الناس‎‎; মানবজাতি)। আল-কুরআনের ১১৪ নম্বর এবং সর্বশেষ সূরা। এর আয়াত, অর্থাৎ বাক্য সংখ্যা ৬ এবং রূকু, তথা অনুচ্ছেদ সংখ্যা ১। সূরা আন-নাস মদীনায় অবতীর্ণ হয়েছে। যদিও কোন কোন বর্ণনায় একে মক্কায় অবতীর্ণ হিসাবে উল্লেখ করা হয়। এর প্রতিটি আয়াতের মাধ্যমে প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য সব ধরনের অনষ্টিতা থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়া হয়েছে।

অর্থসহ বাংলা উচ্চারণ:

بِسْمِ اللہِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِیْمِ

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্ল­াহর নামে (শুরু করছি)

قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ النَّاسِ

কুল আউযু বিরাব্বিন নাস

বলুন, আমি আশ্রয় গ্রহণ করিতেছি মানুষের পালনকর্তার,

مَلِكِ النَّاسِ

মালিকিন্ নাস

মানুষের অধিপতির।

إِلَهِ النَّاسِ

ইলাহিন্ নাস

মানুষের মা’বুদের।

مِن شَرِّ الْوَسْوَاسِ الْخَنَّاسِ

মিন্ শররিল ওয়াস্ ওয়াসিল খান্নাস

আরও পড়ুন:


বিএনপি-জামায়াত-হেফাজত করোনার মতো বারবার রূপ পরিবর্তন করছে: বাহাউদ্দিন নাছিম

টিকা নেয়ার পরেও করোনা পজিটিভ ফারুকী

স্বামীর পর্নকাণ্ড: মানহানির মামলা নিয়ে শিল্পাকে আদালতের ভর্ৎসনা


তার অনিষ্ট থেকে, যে কুমন্ত্রণা দেয় ও আত্নগোপন করে,

الَّذِي يُوَسْوِسُ فِي صُدُورِ النَّاسِ

আল্লাযী ইউওযাসবিসু ফী ছুদুরিন্নাস

যে কুমন্ত্রণা দেয় মানুষের অন্তরে।

مِنَ الْجِنَّةِ وَ النَّاسِ

মিনা জিন্নাতি ওয়ান্নাস

জ্বিনের মধ্য থেকে অথবা মানুষের মধ্য থেকে।

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

যে কারণে কোরআনে ৮২ বার নামাজের কথা বলা হয়েছে

অনলাইন ডেস্ক

যে কারণে কোরআনে ৮২ বার নামাজের কথা বলা হয়েছে

ইসলামের মূল ভিত্তি পাঁচটি। এর মধ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দ্বিতীয় ভিত্তি হলো নামাজ। নামাজ আল্লাহর পক্ষ থেকে মহান রব্বুল আলামিনের নৈকট্য অর্জন করার জন্য মুসলমানের প্রতি মিরাজের উপহার। একজন কাফির ও মোমিনের মধ্যে পার্থক্য হলো নামাজ।

নবীজি ইরশাদ করেন, ‘কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম বান্দার সালাত বা নামাজের হিসাব নেওয়া হবে। যদি সালাত ঠিক হয় তবে তার সব আমল সঠিকভাবে হয়েছে বলে বিবেচিত হবে। আর যদি সালাত বিনষ্ট হয় তবে তার সব আমলই বিনষ্ট বিবেচিত হবে।’ তিরমিজি।

আল্লাহ তাঁর প্রিয় বান্দাদের উদ্বুদ্ধ করার জন্য কোরআনে ৮২ বার নামাজের কথা বলেছেন। তিনি বলেন, ‘পাপীদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে তোমরা কেন জাহান্নামে যাচ্ছ? তারা বলবে আমরা নামাজি ছিলাম না, মিসকিনদের আহার করাতাম না, অন্যের দোষ তালাশকারীদের সঙ্গে বিতর্কে লিপ্ত ছিলাম, যার কারণে আজ আমরা জাহান্নামে যাচ্ছি।’ সুরা মুদ্দাসসির, আয়াত ৪০-৪৫।

অন্য আয়াতে আল্লাহ ইরশাদ করেন, ‘মোমিনরা সফলকাম, যারা তাদের সালাতে নম্রতা ও ভয়ভীতির সঙ্গে দন্ডায়মান হয়।’ সুরা মোমিনুন, আয়াত ১-২। আল্লাহ অন্যত্র ইরশাদ করেন, ‘আর যারা তাদের নামাজে যত্নবান তারাই জান্নাতের ওয়ারিশ, যারা ফিরদৌসের ওয়ারিশ হবে এবং তথায় তারা চিরকাল থাকবে।’ সুরা মোমিনুন, আয়াত ৯-১১। আল্লাহ বলেন, নিশ্চয়ই নামাজ অন্যায় ও অশ্লীল কাজ থেকে বিরত রাখে।’

আরও পড়ুন


লকডাউনে প্রাণবন্ত মিরপুর চিড়িয়াখানার প্রাণীরা

ফাইভ জি ইন্টারনেট চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ

শনিবার আসছে অক্সফোর্ডের আরও ৮ লাখ ডোজ টিকা

নামাজ মহান রব্বুল আলামিনের নৈকট্য লাভ করার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘তোমরা বেশি বেশি করে আল্লাহর জন্য সিজদা, সালাত আদায় করতে থাক, তোমার প্রতিটি সিজদার কারণে আল্লাহ তোমার মর্যাদা বৃদ্ধি করবেন এবং তোমার গুনাহ মাফ করবেন।’

মৃত্যুর আগ পর্যন্ত নামাজ প্রত্যেক মোমিনের ওপর ফরজ। একজন অসুস্থ, মুসাফির, এমনকি ভয়াবহ ইসলামী যুদ্ধে লিপ্ত মুজাহিদের জন্যও নামাজ ছেড়ে দেওয়ার কোনো অবকাশ নেই। মহান আল্লাহ সকলকে নামাজ পড়ার তাওফিক দান করুন। আমিন। 

news24bd.tv রিমু 

পরবর্তী খবর

সূরা বাকারা, আয়াত ৮-১০, প্রকৃত মুসলমানের পরিচিতি

অনলাইন ডেস্ক

সূরা বাকারা, আয়াত ৮-১০, প্রকৃত মুসলমানের পরিচিতি

সূরা বাকারা পবিত্র কুরআনের দ্বিতীয় সূরা। সবচেয়ে বড় ও গুরুত্বপূর্ণ একটি সূরা যা মদিনায় অবতীর্ণ। এতে মোট ২৮৬টি আয়াত আছে। আজকের পর্বে সূরা আল-বাকারা’র ৮ থেকে ১০ নম্বর আয়াতের ব্যাখ্যা তুলে ধরা হবে। এই সূরার অষ্টম আয়াতে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেছেন -

وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يَقُولُ آَمَنَّا بِاللَّهِ وَبِالْيَوْمِ الْآَخِرِ وَمَا هُمْ بِمُؤْمِنِينَ (8

‘‘আর মানুষের মধ্যে কিছু লোক এমন রয়েছে যারা বলে,আমরা আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ঈমান এনেছি অথচ আদৌ তারা ঈমানদার নয়।’’ (২:৮)

সূরা বাকারা’র প্রথম থেকে এ পর্যন্ত ৪টি আয়াতে মুমিনদের এবং দু’টি আয়াতে কাফেরদের পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে। এ আয়াত এবং পরবর্তী কয়েকটি আয়াতে তৃতীয় একটি দলের পরিচয় বর্ণনা করা হয়েছে। প্রথম দলের সদস্যদের মধ্যে যে ঈমানী নূর রয়েছে তা এ দলের সদস্যদের মধ্যে নেই। আবার দ্বিতীয় দলের সদস্যদের মতো ঔদ্ধত্য ও উগ্র মানসিকতা এদের মধ্যে নেই। তৃতীয় এ দলের সদস্যদের অন্তরে আসলে ঈমান নেই কিন্তু মুখে এরা ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে কিছু প্রকাশ করে না। এরা হচ্ছে ভীতু মুনাফিক যারা কিনা অন্তরের অবিশ্বাস ও কুফরী গোপন করে রাখে এবং বাহ্যিকভাবে নিজেদেরকে মুসলমান দাবি করে।

বিশ্ব নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) মক্কা থেকে মদীনায় হিজরতের পর বদরের যুদ্ধ সংঘটিত হয়। মুশরিকরা ওই যুদ্ধে মুসলমানদের হাতে পরাজয় বরণ করার পর, মক্কা ও মদীনার কিছু লোক মন থেকে ইসলামে বিশ্বাস না করলেও জান-মাল রক্ষা কিংবা মুসলমানদের মধ্যে কোন উঁচু পদে আসীন হওয়ার অভিপ্রায়ে বাহ্যিকভাবে নিজেদেরকে মুসলমান দাবী করে। তারা বাহ্যিকভাবে আচার-আচরণে নিজেদেরকে অন্যদের সাথে মিশিয়ে ফেলে। এটা স্পষ্ট যে, এ ধরনের লোকেরা ভীতু, কারণ কাফেরদের মত প্রকাশ্যে মুসলমানদের বিরুদ্ধাচরণ করার সাহস তাদের মধ্যে নেই। যেকোন সামাজিক পরিবর্তন ও বিপ্লবের মধ্যে বহুরূপী ও দ্বিমুখী চরিত্রের সন্ধান পাওয়া যায়। তাই যারা মুখে ঈমানের কথা বলে, তারা অন্তরেও যে একই ধরনের বিশ্বাস পোষণ করে সে কথা ভাবা ঠিক নয়। এমন বহু লোক আছে যারা বাহ্যিকভাবে ধর্ম পরায়ণ মুসলমান, অথচ সবার অলক্ষ্যে তারা ইসলামের ওপর আঘাত হানে।

সূরা বাকারা’র ৮ নম্বর আয়াতের প্রধান শিক্ষণীয় বিষয় হলো- ঈমান অন্তরের ব্যাপার, মৌখিক কিছু নয়। তাই কোন ব্যক্তিকে চেনার জন্য শুধু তার মৌখিক ব্যক্তব্যকে যথেষ্ঠ মনে করা উচিত নয়।

সূরা বাকারা’র ৯ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে-

يُخَادِعُونَ اللَّهَ وَالَّذِينَ آَمَنُوا وَمَا يَخْدَعُونَ إِلَّا أَنْفُسَهُمْ وَمَا يَشْعُرُونَ (9

‘‘তারা আল্লাহ ও বিশ্বাসীদেরকে প্রতারিত করতে চায়। অথচ তারা যে নিজেদেরকে ছাড়া অন্য কাউকে প্রতারিত করে না, তা তারা বুঝতে পারে না।’’ (২:৯)

মুনাফিকদের ধারণা তারা অত্যন্ত চালাক এবং তাদের চালাকি কেউ ধরতে পারে না। তারা নিজেদেরকে ঈমানদার হিসাবে প্রকাশ করে মনে করে মুসলমানদের মতো বিভিন্ন সুবিধা ভোগ করতে পারবে এবং আল্লাহকে ধোঁকা দিতে পারবে। তারা পয়গম্বর ও ঈমানদারদেরকে ধোঁকা দিয়ে মোক্ষম সময়ে ইসলামের ওপর আঘাত হানতে চায়। কিন্তু আল্লাহ তাদের অন্তরের বিশ্বাস অবিশ্বাস এবং দ্বিমুখী চরিত্র সম্পর্কে জানেন। উপযুক্ত সময়ে তিনি তাদের মুখোশ উন্মোচিত করেন এবং মুমিনদের কাছে এদের কদর্য চেহারা প্রকাশ করে দেন। কোন অসুস্থ লোক যদি চিকিৎসকের দেয়া ব্যবস্থাপত্র মেনে না চলে চিকিৎসককে মিথ্যা কথা বলে তাহলে সে নিজেকেই ধোঁকা দিল। সে মনে করতে পারে যে মিথ্যা বলে চিকিৎসককে ধোঁকা দিতে পেরেছে। কিন্তু কার্যত সে নিজেই ক্ষতিগ্রস্ত হলো। কোরআনে বর্ণিত মুনাফিকরাও এরকম। এই বহুরূপী লোকেরা মনে করে তারা আল্লাহকে ধোঁকা দিয়েছে। আসলে তারা নিজেরাই নিজেদেরকে প্রতারিত করে থাকে।

সূরা বাকারা’র ৯ নম্বর আয়াতের কয়েকটি শিক্ষণীয় বিষয় এবার তুলে ধরা যাক।

প্রথমত: মুনাফিকরা ধোঁকাবাজ। বাহ্যিক চেহারা ও আচরণ দেখে মানুষকে চেনা যায় না। তাই মুসলমানদেরকে সতর্ক থাকতে হবে।

দ্বিতীয়ত: অন্যদের সাথেও প্রতারণা করা থেকে আমাদের বিরত থাকতে হবে। কারণ প্রতারণার কুফলে খোদ প্রতারকই আক্রান্ত হয়।

তৃতীয়ত: মুনাফিক ব্যক্তি নিজেকে খুব চালাক বলে মনে করে, অথচ সে নির্বোধ। সে জানে না যে তার প্রতিপক্ষ আল্লাহ সবার মনের গোপন খবর রাখেন।

আরও পড়ুন


লকডাউনে প্রাণবন্ত মিরপুর চিড়িয়াখানার প্রাণীরা

ফাইভ জি ইন্টারনেট চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ

শনিবার আসছে অক্সফোর্ডের আরও ৮ লাখ ডোজ টিকা

শ্রমিকদের কর্মস্থলে ফেরানোর সিদ্ধান্ত সোমবারের মধ্যে


এর পরের আয়াতে বলা হয়েছে-

فِي قُلُوبِهِمْ مَرَضٌ فَزَادَهُمُ اللَّهُ مَرَضًا وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ بِمَا كَانُوا يَكْذِبُونَ (10

‘‘তাদের অন্তরে রোগ আছে। এরপর আল্লাহ তাদের রোগ বৃদ্ধি করেছেন ও তাদের জন্য রয়েছে কষ্টদায়ক শাস্তি, কারণ তারা মিথ্যাচারী।’’ (২:১০)

অন্তরের অসুস্থতার যদি চিকিৎসা করা না হয় তাহলে ক্রমেই তা বৃদ্ধি পায় এবং এক সময় তার মনুষ্যত্ব ধ্বংস করে দেয়। 'নিফাক' বা কপটতা আত্মার অন্যতম বিপজ্জনক ব্যাধি যা আমাদের সবার মন ও আত্মার জন্য হুমকির সৃষ্টি করে। সুস্থ ব্যক্তি বহুরূপী নয়। তার দেহ ও আত্মার মধ্যে রয়েছে পূর্ণ সমন্বয়। মনে যা আছে তাই সে বলে এবং তার চিন্তার সাথে আচরণের মিল থাকে। কপটতার রোগ অন্তরে অন্যান্য রোগ ছড়িয়ে দেয়। ব্যক্তির মধ্যে হিংসা, লোভ, কৃপণতা এসব কিছু সহজেই দেখা যায় কপটতা থেকে। এই কপটতা ক্যান্সারের মত দিন দিন মুনাফিক ব্যক্তির মনে-প্রাণে ছড়িয়ে পড়ে। পবিত্র কোরআন মিথ্যাচারকে 'কপটতা' রোগের মূল উৎস বলে অভিহিত করে। মিথ্যা থেকেই এ কপটতা শুরু হয় এবং মিথ্যার মাধ্যমেই তা অব্যাহত থাকে। আর মিথ্যা বলা থেকে তারা নিজেরাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কোন মৃত দেহ যখন পানিতে পড়ে থাকে তখন সেটা থেকে ভীষণ দুর্গন্ধ বের হতে থাকে। বৃষ্টির পানিতে ওই লাশের দুর্গন্ধ মোটেও কমে না বরং পঁচে গলে ওই লাশ থেকে আরো বিকট গন্ধ বের হতে থাকে। নিফাককে ঠিক লাশের সাথে তুলনা করা যায়। এই নিফাক বা কপটতা যদি কোন ব্যক্তির মনে শিকড় গেড়ে বসে তাহলে আল্লাহর পক্ষ থেকে যত হুকুম নাযিল হোক না কেন কোন লাভ হবে না। বরং মুনাফিক ব্যক্তি নিজেকে পরিশুদ্ধ করার পরিবর্তে বাহ্যিকভাবে ভালো ও সৎ ব্যক্তির মত আচরণ করে। ফলে তার কপটতা বাড়তে থাকে এবং এটি তার মনের মধ্যে স্থায়ী আসন গেড়ে নেয়।

নিফাক শব্দটির অর্থ বেশ ব্যাপক, মানুষের কথা ও কাজের মধ্যে যে কোন ধরনের অসংগতিও এই শব্দের আওতায় পড়ে। একজন মুমিন ব্যক্তির মধ্যেও এ ধরনের অসামঞ্জস্য থাকতে পারে। ইবাদতের মধ্যেও নিফাক কপটতা থাকতে পারে। যদি কোন লোক আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন উদ্দেশ্যে ইবাদত করে সেটাও এক ধরনের নিফাক। রাসূলে খোদা (সা.) বলেছেন, কোন ব্যক্তি যত নামাজ রোজাই করুক না কেন তিনটি বৈশিষ্ট্যের অধিকারী হলে সেই হবে মুনাফিক। আমানতের খিয়ানত করা, মিথ্যা কথা বলা এবং প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করা।

এ আয়াতের কয়েকটি শিক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে-

প্রথমত: নিফাক হচ্ছে এক ধরনের মানসিক রোগ। সে পুরোপুরি সুস্থও নয় আবার মৃতও নয়। মুমিনও নয় আবার কাফেরও নয়।

দ্বিতীয়ত: নিফাক ক্যান্সারের মতো সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়তে পারে। যদি এর চিকিৎসা না হয় তাহলে মানুষের পুরো অস্তিত্ব হুমকিগ্রস্ত হয়ে পড়ে।

তৃতীয়ত: মিথ্যাই হচ্ছে নিফাকের উৎস। মুনাফিকদের সাধারণ বৈশিষ্ট্যই হচ্ছে মিথ্যা বলা।

news24bd.tv এসএম

পরবর্তী খবর

জমির ওপর যাকাত হয় কি?

অনলাইন ডেস্ক

জমির ওপর যাকাত হয় কি?

ধন-সম্পদের সঙ্গে আল্লাহপাক যেসব বিধি-বিধান রেখেছেন তার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল যাকাত। দেহের সঙ্গে সম্পর্কিত ইবাদতের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল নামাজ, আর সম্পদের সঙ্গে সম্পর্কিত ইবাদতের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল যাকাত। এই নামাজ আর যাকাত এতই গুরুত্বপূর্ণ যে, এ দুটোকে মুসলমান হওয়ার আলামত হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।

রাসূল (সা.) এর যুগে সাহাবায়ে কেরামকে জেহাদের জন্য বিভিন্ন জায়গায় পাঠানো হত। তাদেরকে বলে দেয়া হত যে, তোমরা যুদ্ধ করতে থাকবে, যতক্ষণ পর্যন্ত তারা ঈমান না আনে এবং নামাজ না পড়ে আর যাকাত না দেয়। 

এতে বোঝা যায় যে, কাফেরদের বিরুদ্ধে জেহাদ চলতে থাকবে, যতক্ষণ পর্যন্ত তারা ঈমান না আনবে, নামাজ না পড়বে এবং যাকাত না দিবে। অর্থাৎ এই তিনটা কাজ যতক্ষণ না করবে, ততক্ষণ তাদেরকে মুসলমান বলে গণ্য করা হবে না। 

আরও পড়ুন:


লকডাউন আরও যে কয়দিন বাড়াতে চায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

হেলেনা জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হচ্ছে

মেঘনায় ট্রলার ডুবে জেলের মৃত্যু, জীবিত উদ্ধার ১১

পর্যটকদের জন্য খুলছে সৌদির দরজা


উপরের আলোচনায় এটাই স্পষ্ট বুঝা গেল যে যাকাত অবশ্যই দিতে হবে। অন্যথায় সে গুনাহার হবে। এখন প্রশ্ন হলো জমির উপর যাকাত হয় কিনা?

উত্তরটি জানতে এখানে ক্লিক করুন:

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর

জুম্মার দিনে যে সময়টাতে দোয়া কবুল হয়

অনলাইন ডেস্ক

জুম্মার দিনে যে সময়টাতে দোয়া কবুল হয়

সাপ্তাহিক দিনগুলোর মধ্যে শ্রেষ্ঠ দিন জুমা। এই দিন মুসলমানদের জন্য অধিক গুরুত্বপূর্ণ। রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘সূর্য উদিত হওয়ার দিনগুলোর মধ্যে জুমার দিন সর্বোত্তম। এই দিন আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়েছে, এই দিন তাঁকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়েছে এবং এই দিন তাঁকে জান্নাত থেকে বের করে দেয়া হয়েছে। (মুসলিম, হাদিস : ১৮৬১)

আব্দুল্লাহ ইবনে সালাম (রা.) বর্ণনা করেন, শুক্রবারে আসরের পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত দোয়া কবুল হয়। বিখ্যাত সিরাতগ্রন্থ যাদুল মাআ’দ-এ বর্ণিত আছে, জুমার দিন আসরের নামাজ আদায়ের পর দোয়া কবুল হয়। (২/৩৯৪)। ইমাম আহমদ (রহ.) ও একই কথা বলেছেন। (তিরমিজির ২য় খণ্ডের ৩৬০ নং পৃষ্ঠায় কথাটি উল্লেখ আছে)।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘নিশ্চয়ই জুমার দিন এমন একটি মুহূর্ত রয়েছে, সে সময়টিতে একজন মুসলমান যে কল্যাণের দোয়া করবে, অবশ্যই আল্লাহ তাকে তা দান করবেন।’ (মুসলিম)

আর এটি আসরের একেবারে শেষ সময়। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘তোমরা আসরের পরে একবারে শেষ সময়ে দোয়া করো।’ (আবু দাউদ)


মেঘনায় ট্রলার ডুবে জেলের মৃত্যু, জীবিত উদ্ধার ১১

পর্যটকদের জন্য খুলছে সৌদির দরজা

বগুড়ার গাবতলীতে ৩০০ পরিবারের মাঝে বসুন্ধরা গ্রুপের ত্রাণ বিতরণ

এবারের ঈদযাত্রায় সড়ক-রেল-নৌপথে ২৯৫ জন নিহত


যেহেতু এই সময়টাতে দোয়া কবুল হয়। অতএব এই সময়টাতে আমাদের বেশি বেশি প্রার্থনা করা উচিৎ। মহান আল্লাহপাক আমাদেরকে দোয়া করার তওফিক দান করুন।

news24bd.tv নাজিম

পরবর্তী খবর