এখন পর্যন্ত করোনা সংক্রমণ রোধে সারা দেশের যেখানে যা বন্ধ
এখন পর্যন্ত করোনা সংক্রমণ রোধে সারা দেশের যেখানে যা বন্ধ

এখন পর্যন্ত করোনা সংক্রমণ রোধে সারা দেশের যেখানে যা বন্ধ

অনলাইন ডেস্ক

প্রতিদিনই দেশে করোনার সংক্রমণের নতুন নতুন রেকর্ড গড়ছে। হু হু করে বাড়ছে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা। করোনার প্রথম ঢেউয়ের তুলনায় দ্বিতীয় ঢেউ তুলনামূলক ভয়াবহরূপে আবির্ভূত হয়েছে বাংলাদেশেও। তাই করোনার সংক্রমণ রোধে সরকার একে এক বন্ধ করছে সব।

ইতোমধ্যে বন্ধ করা হয়েছে দেশের বিভিন্ন স্থানের পর্যটন কেন্দ্র। এছাড়া কোথাও সন্ধ্যার পর জনগণের চলাচল সীমিত করা হয়েছে। আবার কোথাও ওষুধ এবং কাঁচামালের দোকান ও বাজার বাদে অন্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলা রাখার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এসব নির্দেশনার প্রায় সবই স্থানীয় প্রশাসনের কাছ থেকে এসেছে। বৃহস্পতিবার থেকে এ নিষেধাজ্ঞা থাকবে মধ্য এপ্রিল পর্যন্ত।  

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে স্বাস্থ্য বিভাগের সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ১৮ দফা সংবলিত পরিপত্র জারি করে। মূলত এরপরই উল্লিখিত সব পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।  

পরিস্থিতির ভয়াবহতার কারণে যুক্তরাজ্যকে বাদ রেখে পুরো ইউরোপ ও বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের ১২টি দেশ থেকে বাংলাদেশে যাত্রী পরিবহন নিষিদ্ধ করেছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)।   বৃহস্পতিবার (১ এপ্রিল) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো এ আদেশ কার্যকর হয়েছে শুক্রবার (২ এপ্রিল) দিনগত রাত ১২টা এক মিনিটে। যা বহাল থাকবে আগামী ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত। অর্থাৎ আগামী ৩ এপ্রিল থেকে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

বন্ধ চট্টগ্রামের সব প্রতিষ্ঠান ৬ টার মধ্যে : সংক্রমণ আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যাওয়ায় সন্ধ্যা ৬টার পর থেকে ওষুধের দোকান ও কাঁচাবাজার ছাড়া সব শপিং মল, বিপণিবিতান এবং হোটেল-রেস্টুরেন্ট বন্ধ থাকবে। চট্টগ্রামে উদ্বেগজনক হারে করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে সব খাবার হোটেল, রেস্টুরেন্ট, শপিং সেন্টার, বিপণি কেন্দ্র বন্ধ রাখতে হবে। শুধু ওষুধের দোকান ও কাঁচাবাজার খোলা থাকবে। নির্দেশনা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আইনত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এতদিন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে স্বাস্থ্যবিধি মানতে জনসচেতনতা সৃষ্টি করা হয়েছিল। রোববার থেকে কঠোর ভূমিকা পালন করা হবে। মাঠে থাকবে ভ্রাম্যমাণ আদালতের ২০টি টিম।

কক্সবাজার : জেলার সব পর্যটন স্পট বন্ধ ঘোষণা করেছেন জেলা প্রশাসক। পাশাপাশি বন্ধ রয়েছে কক্সবাজার শহর ও টেকনাফ থেকে ছেড়ে যাওয়া সেন্টমার্টিনের উদ্দেশ্যে পর্যটকবাহী জাহাজগুলো। গুটিয়ে ফেলা হয়েছে সৈকতের বালিয়াড়িতে পর্যটকদের বসার জন্য সাজানো সারি সারি কিটকট চেয়ার। বন্ধ করে দেয়া হয়েছে সাগরতীরের সব দোকানপাট। এছাড়া করোনা সংক্রমণ রোধে সরকারের ১৮ দফা নির্দেশনা বাস্তবায়নে কক্সবাজার শহর, পর্যটন এলাকাসহ ব্যস্ততম এলাকায় মোবাইল কোর্ট এবং নানা কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা।

জাতীয় ও রংপুর চিড়িয়াখানা : এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে ২ এপ্রিল থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ঢাকার মিরপুরে অবস্থিত জাতীয় চিড়িয়াখানা ও রংপুর চিড়িয়াখানা দর্শনার্থীদের জন্য বন্ধ থাকবে।


হেফাজতের বিক্ষোভ, পুলিশের রাবার বুলেট-লাঠিচার্জ, আহত ১৫

নৌ পথে আগের মতোই গাদাগাদি করে যাত্রী পরিবহন, অথচ ভাড়া বৃদ্ধি

ভ্যানে চাকায় ওড়না পেচিয়ে স্কুলছাত্রীর করুণ মৃত্যু

দেশে করোনা শনাক্তে ফের রেকর্ড


সিলেটে বাইরের পর্যটক নিষিদ্ধ : জেলার সব পর্যটন কেন্দ্রে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে স্থানীয় প্রশাসন। আগামী দুই সপ্তাহের জন্য সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক পর্যটক কেন্দ্র, হোটেল-মোটেল বন্ধ থাকবে। সিলেটের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এম কাজী এমদাদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এমন সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, সিলেটের পর্যটন-বিনোদন কেন্দ্র, সিনেমা হল, থিয়েটার হলে অন্য জেলার পর্যটক/দর্শনার্থীদের আগমন নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

 খাগড়াছড়ি : বৃহস্পতিবার নিষেধাজ্ঞা জারির পর খাগড়াছড়ি পর্যটক শূন্য হয়ে পড়েছে। এর আগে খাগড়াছড়িতে রাত ১০টার পর জরুরি সেবার কাজে নিয়োজিত ব্যক্তি ও পরিবহণ ছাড়া সাধারণের চলাচলও নিষিদ্ধ করা হয়। অপর দুই পার্বত্য জেলা রাঙামাটি ও বান্দরবানেও একই পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

মনপুরার দখিনা হাওয়া বিচেও উপজেলা প্রশাসন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।   মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের পর্যটন কেন্দ্রে সন্ধ্যা ৭টার পর অবস্থান নিষিদ্ধ।

কুয়াকাটা বন্ধ :  কুয়াকাটা পৌর শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে স্থানীয় প্রশাসন ও ট্যুরিস্ট পুলিশ মাইকিং করে সব হোটেল-মোটেল বন্ধসহ পর্যটক আগমনে নিষেধাজ্ঞার কথা জানায়।

বাতিল বর্ষবরণ : এর আগে বুধবার বান্দরবান জেলা প্রশাসন এক গণবিজ্ঞপ্তিতে পাহাড়িদের বর্ষবরণ উৎসবের সব আয়োজনও বাতিল করে।

সুন্দরবনে যাতায়াত নিষিদ্ধ : ম্যানগ্রোভ সুন্দরবনের দর্শনীয় স্পটগুলোয় দেশি-বিদেশি পর্যটকদের যাতায়াত নিষিদ্ধ করা হয়েছে। করোনার সংক্রমণ রোধে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বনবিভাগ। শুক্রবার সন্ধ্যায় বন বিভাগ থেকে পর্যটক পরিবহণ না করার জন্য লঞ্চ-জালিবোটসহ ট্যুর সংশ্লিষ্টদের এ সংক্রান্ত নির্দেশনার কথা জানানো হয়েছে। আজ সকাল থেকে বনবিভাগের জারি করা এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। তবে পর্যটকদের যাতায়াত বন্ধ থাকলেও সুন্দরবনের অভ্যন্তরে জেলে-মৌয়ালসহ পেশাজীবীদের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।

news24bd.tv/আলী

;