সুন্দরবনের দুবলায় সোমবার রাস পূণ্যস্নান

শেখ আহসানুল করিম, বাগেরহাট

প্রিন্ট করুন printer
সুন্দরবনের দুবলায় সোমবার রাস পূণ্যস্নান

বঙ্গোপসাগর পাড়ে সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের দুবলার চরে রোববার রাতে রাস পূর্ণিমার পূজা ও সোমবার ভোরে জেয়ারে পূণ্যস্নান অনুষ্ঠিত হবে। এবারের রাস পূর্ণিমার পূজা ও পূণ্যস্নানে অংশ নিতে সুন্দরবন বিভাগ থেকে পাস-পারমিট নিয়ে শনিবার দুবলার চরের আলোরকোলে রওনা করেছেন হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা।

এর আগে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে শুক্রবার বিকেল বাগেরহাটের মোংলা ও শরণখোলা উপজেলায় সুন্দরবন উপকূলে নৌযান নিয়ে জড়ো হন হিন্দু ধর্মাবলম্বী পূণার্থীরা।

এসব হিন্দু পূণ্যার্থীরা শনিবার সকাল থেকে নিদৃষ্ট ৫টি রুট দিয়ে সুন্দরবনের দুবলার চরে যাওয়া শুরু করেছে।

এই ৫টি রুটের মধ্যে রয়েছে বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের শরণখোলার বগি-বলেশ্বর হয়ে দুবলা ও মোংলার পশুর নদী হয়ে সরাসরি দুবলা, এই দুই পথ দিয়ে বন বিভাগের বেঁধে দেয়া করোনা বিধি-নিষেধ মেনে দুবলার চরে যেতে হবে পূর্ণ্যার্থীদের। 

এছাড়া পশ্চিম সুন্দরবন দিয়েও যাওয়ার জন্য রয়েছে আরো তিনটি পথ। এই পাঁচটি পথের বাঁকে বাঁকে থাকবে বন বিভাগের তল্লাশী ও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এই পথ ব্যতিরেকে অন্যপথে চোরাই ভাবে কেউ যাওয়ার চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে বন বিভাগ।

তবে, এবার করোনা পরিস্থিতির কারণে রাস উৎসব উপলক্ষে হচ্ছে না কোনো মেলা।

শুধু হিন্দু পূণ্যার্থীদের অংশ গ্রহণ করতে পারবেন রাস পূর্ণিমার পূজা ও পূণ্যস্নানে। রাসপূজা ও পূণ্যস্নান উপলক্ষে এবার সুন্দরবনের বনজ সম্পদ ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণসহ পূণ্যস্নানে আগত পূণ্যার্থীদের জানমালের নিরাপত্তা ও আইনশৃৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে টহল শুরু করেছে কোস্টগার্ডসহ আইনশৃংখলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যরা।

বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেন জানান, প্রতি বছর বাংলা কার্তিক মাসের শেষে বা অগ্রহায়ণের প্রথম দিকের ভরা পূর্ণিমার তিথিতে এ রাস পূজা ও স্নান উদযাপিত হয়ে আসছে। হিন্দু ধর্মালম্বীরা এ সময় পূর্ণিমার জোয়ারের লোনা পানিতে স্নান করে তাদের পাপ মোচন হবে এমন বিশ্বাস নিয়ে রাস পূজায় যোগ দিয়ে থাকেন।

তবে, করোনা পরিস্থিতির কারণে এবার শর্তে সাপেক্ষে স্বাস্থ্য বিধি মেনে শুধু হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের পূজা ও পুণ্যস্নানে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

এই সময়ে দুবলার চরে যেতে পারবে না কোনো পর্যটক ও সনাতন ধর্মের লোকজনও ছাড়া অন্য কোনো ধর্মের মানুষ। আগামী ২৯ নভেম্বর সন্ধ্যায় সুন্দরবনের দুবলার চরে রাস পূজা ও ৩০ নভেম্বর সকালে বঙ্গোপসাগরে প্রথম জোয়ারে পুণ্যস্নানের মধ্যদিয়ে রাস পূজা শেষ হবে।

শনিবার সকাল থেকে পূজারীরা সুন্দরবনের দুবলার চরের উদ্দেশ্যে ট্রলার ও নৌকা নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে।

তিনি আরো বলেন, এর আগে ২০১৯ সালে ঘূর্ণিঝড় বুলবুলে কারণে এবারের মতো শুধুমাত্র রাস পূজা ও পুণ্যস্নান হয়েছে। গত বারের মতো এবারও হচ্ছে না কোন মেলা।

আরও পড়ুন: ‘ধর্ষকের’ হুমকি, ‘পুলিশের কাছে গেলে মাথা আর দেহ দুভাগ করে দেব’

মোংলা কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের জোনাল কমান্ডার ক্যাপ্টেন এম হাবিব উল আলম জানান, রাস পূর্ণিমা উৎসব উদযাপনে কোস্টগার্ডের নিজস্ব প্রস্তুতির পাশাপাশি র‌্যাব, বনবিভাগ, নৌ পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে ।

news24bd.tv তৌহিদ

মন্তব্য