ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ শিরক

অনলাইন ডেস্ক

ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ শিরক

মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তায়ালার একটি  গুণবাচক নাম হলো গফুর বা ক্ষমাশীল। মহান আল্লাহ তায়ালা চাইলে তার বান্দার সকল গুনাহ মাফ করে দিতে পারেন। কিন্তু কিছু গুনাহ আছে যেগুলো মহান আল্লাহ তায়ালা কখনই মাফ করবেন না, এমন একটি গুনাহ হলো শিরক। 

শিরক কি?
শিরক হচ্ছে অংশীদার স্থাপন, একত্রিকরণ, দুই বা দুয়ের অধিক অংশীদারীর সংমিশ্রণ। অর্থাৎ কোনো জিনিসের অংশ বিশেষ যখন একজনের হয়, তখর এর অবশিষ্টাংশ হয় অপর এক বা একাধিক জনের। আল্লাহ বলেন, তবে কি আকাশমণ্ডলীতে তাদের অংশীদারিত্ব রয়েছে? (সূরা আহকাফ : আয়াত ৪)
পরিভাষায় কুরআন সুন্নাহতে আল্লাহর যে সমস্ত নাম ও গুনাবলী উল্লেখিত হয়েছে সেগুলোকে অবিশ্বাস করা;। যে সকল কাজের জন্য (ইবাদত ও আমলের) আল্লাহ বান্দাদেরকে সৃষ্টি করেছেন তাতে তাঁর একত্ববাদ প্রতিষ্ঠিত করা থেকে বিরত থাকা এবং বিরত রাখা সর্বোপরি আল্লাহর কৃতকর্মে অস্বীকার করা। পাশাপাশি গাইরুল্লাহকে মা’বুদ ও মান্যবর হিসেবে গ্রহণ করা।

শিরক সবচেয়ে বড় গুনাহ
মানবজীবনে মানুষ যত গুনাহ করে তন্মধ্যে সবচেয়ে বড় ও মারাত্মক হলো শিরক। শিরকের পাপের চেয়ে বড় কোনো পাপ নেই। এটা এতটাই জঘন্য যে, আল্লাহ তায়ালা শিরকের গুনাহ ক্ষমা করেন না। হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজি (সা.)-কে সবচেয়ে বড় গুনাহ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলো। তিনি বললেন, ‘আল্লাহর সঙ্গে শরিক করা, মা-বাবার অবাধ্য হওয়া, আত্মহত্যা করা এবং মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া।’ (বুখারি : ২৬৫৩)

শিরকের গুনাহ ক্ষমা হয় না
অন্য গুনাহ আল্লাহ ক্ষমা করলেও শিরকের গুনাহ ক্ষমা করেন না। একজন মানুষ যতই পাপিষ্ঠ হোক, যদি শুধু তাওহিদ তথা একত্ববাদের বিশ্বাস নিয়ে কবরে যায় তাহলে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দিতে পারেন। কিন্তু কেউ যদি শিরকের গুনাহ নিয়ে কবরে যায় তাহলে ক্ষমা করবেন না। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘নিঃসন্দেহে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করেন না যে লোক তার সঙ্গে শরিক করে। তিনি ক্ষমা করেন এর চেয়ে নিম্ন পর্যায়ের পাপ। যার জন্য তিনি ইচ্ছা করেন। আর যে লোক অংশীদার সাব্যস্ত করল সে যেন অপবাদ আরোপ করল।’ (সুরা নিসা : ৪৮)


পার্টি আয়োজনই মৃত ছাত্রী ও তার বন্ধুদের পেশা : পুলিশ

দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ ‌জুমার দিনে ‘সূরা কাহাফ’ তেলাওয়াতের ফজিলত

দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ ‌`জুমার’ দিনে যা করবেন

প্রতিদিন সকালে যে দোয়া পড়তেন বিশ্বনবি


শিরককারীর জন্য জান্নাত হারাম

যারা শিরক করে তাদের মুশরিক বলে। আল্লাহ তায়ালা মুশরিকদের জন্য জান্নাত হারাম করে দিয়েছেন। মুশরিকদের জন্য জাহান্নামই অবধারিত। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘যারা কাফের তারা বলে যে, মরিয়ম-তনয় মসিহ-ই আল্লাহ; অথচ মসিহ বলেন, হে বনী ইসরাইল! তোমরা আল্লাহর ইবাদত কর, যিনি আমার পালনকর্তা এবং তোমাদেরও পালনকর্তা।

নিশ্চয় যে ব্যক্তি আল্লাহর সঙ্গে অংশীদার স্থির করে আল্লাহ তার জন্য জান্নাত হারাম করে দেন। এবং তার বাসস্থান হয় জাহান্নাম। অত্যাচারীদের কোনো সাহায্যকারী নেই।’ (সুরা মায়েদা : ৭২)। এ আয়াতে আল্লাহ তায়ালা ত্রিত্ববাদে বিশ্বাসী খ্রিস্টানদের শিরকের কথা আলোচনা করে বলেছেন, ত্রিত্ববাদ ঈসা (আ.)-এর শিক্ষারও বিপরীত। ঈসা (আ.) নিজেই তাওহিদ ও একত্ববাদের প্রচার করেছেন। সঙ্গে সঙ্গে মুশরিকদের জন্য জান্নাত হারাম হওয়া ও জাহান্নাম অবধারিত হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

উল্লেখযোগ্য কিছু শিরক
ছোট বড় অনেক শিরক রয়েছে। সেসব শিরক থেকে বেঁচে  থাকা জরুরি। নিচে উল্লেখযোগ্য কিছু শিরকের কথা আলোচনা করা হলো

এক. আল্লাহ তায়ালার সত্তার সঙ্গে কাউকে শরিক করা। যেমন, কাউকে আল্লাহর পুত্র বা স্ত্রী বলা। এই প্রকারের শিরকের খন্ডন করে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং কেউ তাকে জন্ম দেয়নি।’ (সুরা ইখলাস : ৩)

দুই. ইবাদতের ক্ষেত্রে কাউকে শরিক করা। আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে ইবাদতের উপযুক্ত মনে করা। মূর্তিপূজা করা। সূর্য বা তারকা পূজা করা। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তোমরা ইবাদত কর আল্লাহর, শরিক কর না তাঁর সঙ্গে অপর কাউকে।’ (সুরা নিসা : ৩৬)।

অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘তাদের এ ছাড়া কোনো নির্দেশ দেওয়া হয়নি, তারা খাঁটি মনে একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর ইবাদত করবে, নামাজ কায়েম করবে এবং জাকাত দেবে। এটাই সঠিক ধর্ম।’ (সুরা বাইয়িনাহ : ৫)। মুফাসসিরগণ লিখেছেন, এ আয়াতে খাঁটি মনে ও একনিষ্ঠভাবে ইবাদত করার দ্বারা উদ্দেশ্য হলো শিরক ত্যাগ করে ঈমান গ্রহণ করা ও একত্ববাদের সঙ্গে আল্লাহর ইবাদত করা। এ আয়াতে শিরকমুক্ত তাওহিদ ও ঈমানকে সঠিক ধর্ম হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে। (তাফসিরুল মুয়াস্সার)

তিন. আল্লাহর গুণাবলি ও কাজকর্মে কাউকে শরিক করা। যেমন, কাউকে সন্তানদাতা মনে করা। আরোগ্য দানকারী মনে করা। হায়াত-মউতের মালিক মনে করা। সৃষ্টিকর্তা মনে করা। বৃষ্টি বর্ষণকারী মনে করা। রিজিকদাতা মনে করা। এসব কাজ একমাত্র আল্লাহ তায়ালাই করেন। অন্য কেউ করতে পারে না। কেউ যদি মনে করে আল্লাহ ছাড়া অন্যরাও এসব কাজ করতে পারে তাহলে সে প্রকাশ্য শিরক করল। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আল্লাহই তোমাদের সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর রিজিক দিয়েছেন, এরপর তোমাদের মৃত্যু দেবেন, এরপর তোমাদের জীবিত করবেন। তোমাদের শরিকদের মধ্যে এমন কেউ আছে কি, যে এসব কাজের মধ্যে কোনো একটিও করতে পারে? তারা যাকে শরিক করে আল্লাহ তা থেকে পবিত্র ও মহান।’ (সুরা রূম : ৪০)

চার. আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও কাছে সাহায্য চাওয়া। সাহায্য চাওয়া হবে একমাত্র আল্লাহর কাছে। গাইরুল্লাহ বা অন্য কারও কাছে সাহায্য কামনা করে কখনও কিছু পাওয়া সম্ভব নয়। আল্লাহ বলেন, ‘তাঁকে ছাড়া তারা যাদের ডাকে, তারা তাদের কোনো কাজে আসবে না। ওদের দৃষ্টান্ত সেরূপ যেমন কেউ দুই হাত পানির দিকে প্রসারিত করে, যাতে পানি তার মুখে পৌঁছে যায়। অথচ পানি কোনো সময় পৌঁছবে না। কাফেরদের যত আহ্বান তার সবই ভ্রষ্টতা।’ (সুরা রাদ : ১৪)

উল্লিখিত এসব বড় বড় শিরক ছাড়াও ছোট ছোট অনেক শিরক রয়েছে, সেগুলো থেকেও বেঁচে থাকা আবশ্যক। হজরত মাহমুদ ইবনে লাবিদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের ওপর ছোট শিরক নিয়েই আমি বেশি ভীত। সাহাবায়ে কেরাম বললেন, হে আল্লাহর রাসুল! ছোট শিরক কী? নবীজি বললেন, লোক দেখানো ইবাদত। কেয়ামতের দিন যখন মানুষকে তার আমলের বিনিময় দেওয়া হবে তখন আল্লাহ তায়ালা তাদের বলবেন, দুনিয়ায় যাদের দেখিয়ে আমল করেছ তাদের কাছে যাও; দেখ, তাদের কাছে কোনো প্রতিদান ও বিনিময় পাও কি না?’ (মুসনাদে আহমাদ : ২৩৬৩০)

news24bd.tv/আলী

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

কেয়ামতের যত আলামত দৃশ্যমান

অনলাইন ডেস্ক

কেয়ামতের যত আলামত দৃশ্যমান

কোরআনের অসংখ্য আয়াতে ও হাদিসে কেয়ামত ও কেয়ামতের নিদর্শনবলী বর্ণিত হয়েছে। এই নিদর্শনাবলী পাঠে রয়েছে বহুবীধ কল্যান। প্রথমত, হাদিসে বর্ণিত ভবিষ্যৎবাণীগুলো সত্য হতে দেখলে ঈমান দৃঢ় হয়, এবং মন আমলের প্রতি উৎসাহী হয়। দ্বিতীয়ত, ফিতনাকে চেনা সহজ হয় এবং আগত নতুন ফিতনার জন্য মানসিক প্রস্তুতি নেওয়া যায়।

কেয়ামতের আলামতগুলো দু’প্রকার। ক্ষুদ্রতম আলামত ও বৃহত্তম আলামত। ক্ষুদ্রতম আলামতের সংখ্যা অসংখ্য। এর মধ্যে কিছু আলামত ইতোমধ্যে অতিবাহিত হয়েছে, যেমন- রাসূল (সাঃ)- এর আবির্ভাব, চন্দ্র বিদারণ, বিভিন্ন ভণ্ড নবী দাবীদারদের আগমন ইত্যাদি। আর বাকি আলামত প্রকাশ হচ্ছে এবং সময়ের সাথে সাথে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

আল্লাহ তাআলা বান্দার সতর্কতা জন্য দেড় হাজার বছর আছে কুরআনুল কারিমে সব বলে দিয়েছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন-

‘একমাত্র আপনার মহিমায় এবং মহানুভব পালনকর্তার সত্তা ছাড়া পৃথিবীর সবকিছুই ধ্বংসশীল।’ (সুরা আর-রাহমান : আয়াত ২৬-২৭)

তাছাড়া রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া হাদিসে পাকে কেয়ামতের আগে সংঘটিত অনেকগুলো ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন। যার অনেক কিছুই সমাজে দেখা যাচ্ছে। হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী বুঝা যাচ্ছে যে, কেয়ামত খুবই সন্নিকটে। মানুষ চরম বাড়াবাড়িতে লিপ্ত। তাই কেয়ামত সম্পর্কে সজাগ থাকতে বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘোষিত আলামতগুলো তুলে ধরা হলো।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন-

*মানুষ যখন অবৈধভাবে সম্পদ উপার্জনে প্রতিযোগিতা করবে;

*গচ্ছিত সম্পদের তথা আমানতে খেয়ানত করবে;

*জাকাত দেয়াকে জরিমানা মনে করবে;

*ধর্মীয় শিক্ষা বাদ দিয়ে (জাগতিক) বিদ্যা অর্জন করবে;

*পুরুষ তার স্ত্রীর আনুগত্য করবে;

*মায়ের সঙ্গে (সন্তান) খারাপ আচরণ করবে;

*বাবাকে বাদ দিয়ে (সন্তান তার) বন্ধুকে আপন করে নেবে;

*মসজিদে শোরগোল (বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি) করবে;

*জাতির দূর্বল ব্যক্তি সমাজের নেতৃত্ব দেবে;

*নিকৃষ্ট ব্যক্তিরা জনপ্রতিনিধি হবে;

*খারাপ কাজে সুনাম-সুখ্যাতি অর্জন করবে এবং এ খারাপ কাজের ভয়ে ঐ ব্যক্তিকে সম্মান করা হবে;


অভাব দুর হবে, বাড়বে ধন-সম্পদ যে আমলে

সূরা কাহাফ তিলাওয়াতে রয়েছে বিশেষ ফজিলত

করোনার ভ্যাকসিন গ্রহণে বাধা নেই ইসলামে

নামাজে মনোযোগী হওয়ার কৌশল


*বাদ্যযন্ত্র ও নারী শিল্পীর অবাধ বিচরণ বেড়ে যাবে;

 মদ পান করা হবে 
রাসূল (সাঃ) বলেছেন, অবশ্যই আমার উম্মতের একদল মদ্যপানে লিপ্ত হবে। (ব্যবসার সুবিধার্থে) মদের নামকে তারা পরিবর্তন করে দেবে। তাদের মাথার উপর গান-বাজনা এবং নর্তকীদের নৃত্যানুষ্ঠান শোভা পাবে। আল্লাহ তায়ালা তাদেরকে মাটির নিচে ধ্বসিয়ে দেবেন। কতিপয়কে বানর-শুকরে পরিবর্তন করে দেবেন।
আরেক হাদিসে রয়েছে, অবশ্যই আমার উম্মতের মধ্যে একদল লোকের আবির্ভাব হবে, যারা মেয়েদের সাথে অবাধ মেলামেশা, রেশমী কাপড় পরিধান, মদ্য পান এবং গান-বাজনাকে হালাল মনে করবে। (বুখারি-৫২৬৮, ইবনে মাজা-৪০২০)

*বংশের শেষ প্রজন্মের লোকজন আগের প্রজন্মকে অভিশাপ দেবে।

সে সময়ে তীব্র বাতাস প্রবাহিত হবে, যার ফলশ্রুতিতে একটি ভূমিকম্প ভূমিকে তলিয়ে দেবে। (তিরমিজি)

যখনই কেয়ামত সংঘটিত হবে। সে সময় কী ঘটবে? কুরআনের কারিমে তাও বর্ণনা করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা কেয়ামতের আগে ভূমিকে এমনভাবে প্রকম্পিত করবেন যে, জমিন তার গর্ভে ধারণ করা সব বস্তুকে বের করে দেবেন। কুরআনুল কারিমে এ কথা এভাবে আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন-

‌‘যখন পৃথিবী তার কম্পনে প্রকম্পিত হবে। যখন সে তার বোঝা বের করে দেবে।' (সুরা যিলযাল : আয়াত ১-২)

সুতরাং মুমিন মুসলমানের উচিত, কেয়ামত সংঘটিত হওয়ার আগে নিজের জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে জীবনের শেষ মুহূর্তভেবে উল্লেখিত কাজগুলো থেকে বিরত থাকা জরুরি।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে কেয়ামতের সব আলামত ও তার ভয়াবহতা থেকে হেফাজত করুন। ঈমান ও নেক আমলের ওপর জীবন যাপন করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

news24bd.tv/আলী

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ ‌‌‌'জুমার’ দিনের গুরুত্বপূর্ণ আমল

অনলাইন ডেস্ক

দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ ‌‌‌'জুমার’ দিনের গুরুত্বপূর্ণ আমল

উম্মতে মুহাম্মদির কিছু বিশেষ প্রাপ্তি রয়েছে, যা অন্যান্য নবীর উম্মতেরা পাননি। তন্মধ্যে একটি হলো জুমার দিন।  জুমা এটি আরবি শব্দ। বাংলায় এর আভিধানিক অর্থ একত্রিত হওয়া, সম্মিলিত হওয়া, কাতারবদ্ধ হওয়া ইত্যাদি। পরিভাষায় জুমা বলে, প্রতি সপ্তাহের শুক্রবার দিনে প্রাপ্তবয়স্ক মুসলমানরা একটি নির্দিষ্ট সময়ে মসজিদে একত্র হয়ে জামাতের সঙ্গে সেদিনের জোহর নামাজের পরিবর্তে যে নামাজ ফরজরূপে আদায় করে, সেই নামাজকে ‘জুমার নামাজ’ বলা হয়।

হাদিস শরিফে এই দিনের অনেক ফজিলত বর্ণিত হয়েছে।  হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত নবীজি (সা.) বলেন, আমাদের পূর্ববর্তী উম্মতকে জুমার দিন সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা অজ্ঞ রেখেছেন। ইহুদিদের ফজিলতপূর্ণ দিবস ছিল শনিবার। খ্রিস্টানদের ছিল রোববার। অতঃপর আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে দুনিয়ায় পাঠালেন এবং জুমার দিনের ফজিলত দান করলেন। সিরিয়ালে শনি ও রোববারকে শুক্রবারের পরে রাখলেন। দুনিয়ার এই সিরিয়ালের মতো কেয়ামতের দিনও ইহুদি-খ্রিস্টানরা উম্মতে মুহাম্মদির পড়ে থাকবে। আমরা উম্মত হিসেবে সবার শেষে এলেও কেয়ামতের দিন সকল সৃষ্টির আগে থাকব। (মুসলিম : ১৪৭৩)

জুমার দিন দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ দিন হিসেবে গণ্য করা হয়। হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত নবীজি (সা.) বলেছেন, পৃথিবীর যতদিন সূর্য উদিত হবে তার মধ্যে শ্রেষ্ঠ দিন হলো শুক্রবার। এ দিনে আদমকে (আ.) সৃষ্টি করা হয়েছে এবং জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়েছে। এ দিনেই তাঁকে জান্নাত থেকে বের করা হয়েছিল। সর্বশেষ কেয়ামত সংঘটিত হবে শুক্রবার দিনে। (মুসলিম : ৮৫৪)। জুমার দিনকে সপ্তাহের সেরা দিন হিসেবেও ঘোষণা করা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, জুমার দিন দিবসসমূহের মধ্যে শ্রেষ্ঠ এবং তা আল্লাহর নিকট অধিক সম্মানিত। (ইবনে মাজা : ১০৮৪)

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, জুমার দিন এবং রমজানের মধ্যবর্তী সময়ে যে গোনাহ হয়ে থাকে তা পরবর্তী নামাজ, জুমার এবং রমজান (পালনে) সে সব মধ্যবর্তী গোনাহসমূহের কাফফারা হয়ে থাকে। যদি কবিরা গোনাহ থেকে বেঁচে থাকে।’ (মুসলিম, তিরিমজি)

উল্লেখিত হাদিসেরর আলোকে বুঝা যায় যে, কোনো ব্যক্তি যদি ফজরের নামাজ পড়ার পর পরদিন ফজরের নামাজ আদায় করে তবে এ সময়ে মধ্যে করা সব  গোনাহ আল্লাহ তায়ালা ক্ষমা করে দিবেন। অনুরূপভাবে এক জুমার থেকে অপর জুমা এবং এক রমজানের রোজা আদায়ের পর থেকে পরবর্তী রমজানের রোজা আদায় করে তবে ওই ব্যক্তির দ্বারা সংঘটিত পূর্ণ এক বছরের সব গোনাহ মাফ করে দেয়া হবে।


দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ ‌জুমার দিনে ‘সূরা কাহাফ’ তেলাওয়াতের ফজিলত

দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ ‌`জুমার’ দিনে যা করবেন

প্রতিদিন সকালে যে দোয়া পড়তেন বিশ্বনবি


জুমার দিন মুসলিম উম্মাহর জন্য রয়েছে ফজিলতপূর্ণ অনেক আমল। এগুলো মধ্যে তিনটি আমল অনেক গুরুত্বপূর্ণ। আর তাহলো-

জুমার দিনে ‘সূরা কাহফ’ তেলাওয়াত করা। পবিত্র কোরআনুল কারিমের ১৫তম পারার ১৮নং সূরা এটি। যদি কেউ সম্পূর্ণ সূরাটি তেলাওয়াত করতে না পারে, তবে সে যেন এ সূরার প্রথম এবং শেষ ১০ আয়াত তেলাওয়াত করে।

ফজিলত
*যে ব্যক্তি জুমার দিন সূরা কাহফ পাঠ করবে তার জন্য এক জুমা থেকে অপর  জুমা পর্যন্ত নূর হবে।

*যে ব্যক্তি জুমার দিন সূরা কাহাফ তেলাওয়াত করবে, সে আটদিন পর্যন্ত সর্বপ্রকার ফেতনা থেকে মুক্ত থাকবে। যদি দাজ্জাল বের হয় তবে সে দাজ্জালের ফেতনা থেকেও মুক্ত থাকবে।

*এক জুমা থেকে অপর জুমা পর্যন্ত তার সব কবিরা গোনাহ মাফ হয়ে যাবে।

 *জুমার দিনে বেশি বেশি দরূদ পাঠ করা উত্তম ও ফজিলতপূর্ণ। যদি কোনো ব্যক্তি একবার দরূদ পড়ে তবে তার জন্য ১০টি রহমত নাজিল হয়।

* আর যে ব্যক্তি জুমার দিন আসরের নামাজের পর ৮০ বার এ দরূদ পড়বে, তার ৮০ বছরের গোনাহ্ মাফ হবে এবং ৮০ বছর ইবাদতের সওয়াব তার আমলনামায় লেখা হবে। আর এই দরূদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ দরূদ হচ্ছে ‘দরূদে ইবরাহিম’, যা নামাজে পড়া হয়।

* জুমার দিন দোয়া কবুলের কিছু সময় বা মুহূর্ত রয়েছে, সে সময়গুলোতে বেশি বেশি দোয়া ও ইসতেগফার করা।

বিশেষ করে
জুমার দিন ও জুমার নামাজ আদায় মুসলিম উম্মাহর জন্য অনেক গুরুত্ব ও ফজিলতপূর্ণ দিন। এ দিনের প্রতিটি আমলই গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণেই প্রিয় নবী (সা.) জুমার নামাজ পরিত্যাগ করার ব্যাপারে সতর্কতা জারি করেছেন।

রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি অলসতাবশত তিনটি জুমা ছেড়ে দেবে, আল্লাহ তায়ালা তার হৃদয়ে মোহর মেরে দেন।’ (মুসলিম, তিরমিজি, নাসাঈ, আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ, মুয়াত্তা মালেক)

অতএব অল্পে তুষ্টিতে সফল হতে হলে প্রয়োজন আল্লাহ তায়ালার প্রতি দৃঢ় আস্থা ও বিশ্বাস, পরকালীন জীবনকে প্রাধান্য দেওয়া। আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে অল্পে তুষ্টির গুণ ও পরকালের পাথেয় অর্জন করার তওফিক দান করুন। আমিন।

news24bd.tv/আলী

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

আল্লাহর কাছে প্রার্থনায় যা চাইবেন

অনলাইন ডেস্ক

আল্লাহর কাছে প্রার্থনায় যা চাইবেন

দোয়া হলো ইবাদতের মগজ। আল্লাহর দরবারে হাজিরা দিয়ে নানা কিছু প্রার্থনা করাই দোয়া। অনুনয়-বিনয়ের সঙ্গে আল্লাহর কাছে প্রার্থনার কথা শিখিয়েছেন নবীজি (সা.)। প্রভুর দরবারে বান্দা হিসেবে আমাদের কী প্রার্থনা করা প্রয়োজন তা শিখিয়েছেন তিনি। 

হজরত জায়েদ ইবনে আরকাম (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি কি তোমাদের বলব, রাসুলুল্লাহ (সা.) দোয়ার সময় কী বলতেন? 

তিনি বলতেন, ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজু বিকা মিনাল আজাযি ওয়াল কাসালি ওয়াল জুবনি ওয়াল বুখলি ওয়ার হারামি ওয়া অজাবিল কাবরি। আল্লাহুম্মা আতি নাফসি তাকওয়াহা, ওয়া জাক্কিহা আনতা খাইরু মান জাক্কাহা। আনতা ওয়ালিউহা ওয়া মাউলাহা। আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিন ইলমিন লা ইয়ানফা, ওয়া মিন কালবিন লা ইয়াখশা, ওয়া মিন নাফসিন লা তাশবা, ওয়া মিন দাওয়াতিন লা ইউসতাজাবু লাহা।’


ঋণ থেকে মুক্তির দু’টি দোয়া

মেসি ম্যাজিকে সহজেই জিতল বার্সা

দোয়া কবুলের উত্তম সময়

রোনালদোর গোলেও হোঁচট খেল জুভেন্টাস


অর্থাৎ, ‘হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই অক্ষমতা থেকে, অলসতা থেকে, ভীরুতা থেকে, কৃপণতা থেকে, বার্ধক্য থেকে ও কবরের আজাব থেকে। হে আল্লাহ! আমার মনে তাকওয়া দান করুন, আমার মনকে পবিত্র করুন, আপনিই তো অন্তরের পবিত্রতা দানকারী। আপনিই তো হৃদয়ের মালিক, অভিভাবক। হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট আশ্রয় চাই এমন ‘ইলম’ (জ্ঞান) থেকে, যা কোনো উপকার দেয় না; এমন হৃদয় থেকে যা (আপনার ভয়ে) ভীত হয় না; এমন আত্মা থেকে যা পরিতৃপ্ত হয় না এবং এমন দোয়া থেকে যা কবুল করা হয় না।’ (মুসলিম : ২৭২২)

news24bd.tv/আলী

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

বিতর নামাজে দোয়া কুনুতের গুরুত্ব, উচ্চারণ ও অনুবাদ

অনলাইন ডেস্ক

বিতর নামাজে দোয়া কুনুতের গুরুত্ব, উচ্চারণ ও অনুবাদ

বিতর নামাজের তৃতীয় রাকাআতে সূরা ফাতিহার সঙ্গে সূরা মিলানোর পর তাকবির দিয়ে যে দোয়া পড়তে হয়, তা হলো দোয়া কুনুত। এ দোয়ার মধ্যে রয়েছে আল্লাহ কাছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ আবেদন। অথচ এ দোয়াটি অনেক মানুষেই জানে না। যা অনেক ফজিলতপূর্ণ দোয়া। পাঠকদের উদ্দেশে দোয়া কুনুতের বাংলা উচ্চারণ ও অর্থ তুলে ধরা হলো...

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্না নাসতাই’নুকা ওয়া নাসতাগফিরুকা ওয়া নু`মিনুবিকা ওয়া নাতাওয়াক্কালু আ’লাইকা ওয়া নুছনি আ’লাইকাল খাইর; ওয়া নাশকুরুকা ওয়া লা নাকফুরুকা ওয়া নাখলাঊ’ ওয়া নাতরুকু মাইঁইয়াফঝুরুকা।

আল্লাহুম্মা ইয়্যাকা না`বুদু ওয়া লাকা নুসাল্লি ওয়া নাসঝুদু ওয়া ইলাইকা নাসআ’ ওয়া নাহফিদু ওয়া নারঝু রাহমাতাকা ওয়া নাখশা আ’জাবাকা ইন্না আজাবাকা বিলকুফফারি মুলহিক্ব।

আরও পড়ুন:


নামাজের মধ্যে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ওয়াজিব ১৪টি কাজ

এইচ টি ইমামের মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর শোক

এইচ টি ইমাম আর নেই

এশিয়ায় বিস্ময়কর ‘ডিজিটাল লিডার’ বাংলাদেশ


অর্থ: হে আল্লাহ! আমরা আপনারই সাহায্যপ্রার্থী এবং একমাত্র আপনার কাছেই ক্ষমাপ্রার্থী। আপনার উপর আমরা ঈমান এনেছি এবং আপনার উপরই ভরসা করি, আপনার উত্তম প্রশংসা করি, আপনার শোকর আদায় করি, আপনার প্রতি অকৃতজ্ঞ হই না, যারা আপনার নাফরমানী করে, তাদেরকে পরিত্যাগ করি এবং তাদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করি।

হে আল্লাহ! আমরা আপনারই ইবাদাত করি, আপনার জন্যই নামাজ পড়ি এবং আপনার জন্যই সিজদা করি, আপনার দিকেই ধাবিত হই, আপনার হুকুম পালনের জন্যই প্রস্তুত থাকি, আপনার দয়ার আশা করি, আপনার শাস্তিকে ভয় পাই। নিঃসন্দেহে আপনার শাস্তি ভোগ করবে কাফির সম্প্রদায়।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে দোয়া কুনুত শিখে নেয়ার পাশাপাশি নামাজে দোয়া কুনুতের মাধ্যমে আল্লাহ তাআলার নিকট দোয়া করার এবং ফজিলত লাভ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

news24bd.tv আহমেদ

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

নামাজের মধ্যে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ওয়াজিব ১৪টি কাজ

অনলাইন ডেস্ক

নামাজের মধ্যে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ওয়াজিব ১৪টি কাজ

নামাজের মধ্যে ৭টি ফরজ এর আগে তুলে ধরা হয়েছে। ফরজ ছাড়াও নামাজের মধ্যে রয়েছে ১৪টি ওয়াজিব কাজ। ওয়াজিব কাজ বলতে ঐ সব কাজকে বুঝায়, যার কোনো একটিও ছুটে গেলে সিজদায়ে সাহু আদায় করতে হয়। সিজদায়ে সাহু আদায় করতে ভুলে গেলে নামাজ পুনরায় পড়তে হয়। তাই নামাজের ওয়াজিবগুলো যথাযথ আদায় না করলে নামাজ হবে না। নামাজের ওয়াজিবগুলো তুলে ধরা হলো-

০১. প্রত্যেক নামাজে সূরা ফাতিহা (আলহামদুলিল্লাহ) পড়া।

০২. প্রত্যেক নামাজে সূরা ফাতিহার পর সূরা মিলনো (কমপক্ষে তিন আয়াত অথবা তিন আয়াতের সমকক্ষ এক আয়াত পরিমাণ তিলাওয়াত করা)।

০৩. ফরজ নামাজের প্রথম দুই রাকাআতকে কিরাতের জন্য নির্ধারিত করা।

০৪. কিরাআত, রুকু, সিজদার মধ্যে ক্রমধারা বা তারতিব ঠিক রাখা।

০৫. কাওমা করা অর্থাৎ রুকু থেকে সোজা হয়ে দাঁড়ানো।

০৬. জলসা করা অর্থাৎ দুই সিজদার মাঝখানে সোজা হয়ে বসা।

০৭. তাদিলে আরকান করা অর্থাৎ রুকু, সিজদা, কাওমা, জলসায় কমপক্ষে এক তাসবিহ পরিমাণ স্থির থাকা। যাতে শরীরের প্রতিটি অঙ্গ যথাস্থানে পৌঁছে যায়।

০৮. কাদায়ে ওলা অর্থাৎ তিন বা চার রাকাআত বিশিষ্ট নামাজে দুই রাকাআত পর আত্তাহিয়াতু পড়া।

০৯. প্রথম ও শেষ বৈঠকে আত্তাহিয়াতু পড়া।

১০. জাহেরি নামাজে প্রথম দুই রাকাআত ইমামের জন্য উচ্চস্বরে কিরাআত পড়া এবং সিররি নামাজের মধ্যে ইমাম ও একাকি নামাজির অনুচ্চ শব্দে কিরাআত পড়া।

১১. সালাম ফিরানো। অর্থাৎ ‘আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ’ বলে নামাজ শেষ করা।

১২. বিতরের নামাজের দোয়ায়ে কুনুত পড়ার জন্য অতিরিক্ত তাকবির বলা এবং দোয়ায়ে কুনুত পড়া।

১৩. দুই ঈদের নামাজে ছয় ছয় তাকবির বলা।

১৪. প্রত্যেক রাকাআতের ফরজ এবং ওয়াজিবগুলোর তারতিব (ধারাবাহিকতা) ঠিক রাখা।

আল্লাহ তাআলা উপরোক্ত বিষয়গুলো যথাযথ আদায় করার তাওফিক দান করুন। সমগ্র মুসলিম উম্মাহকে নামাজি হিসেবে কবুল করুন। আমিন।

news24bd.tv আহমেদ

আরও পড়ুন:


এইচ টি ইমামের মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর শোক

এইচ টি ইমাম আর নেই

এশিয়ায় বিস্ময়কর ‘ডিজিটাল লিডার’ বাংলাদেশ

১২ তলা থেকে পড়েও বেঁচে আছেন তিন বছরের শিশু (ভিডিও)


 

মন্তব্য

পরবর্তী খবর